প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফার্মাসিস্টদের সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিএইচও) নিয়ম অনুযায়ী গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের বেশিরভাগেরই দায়িত্ব পালন করার কথা কমিউনিটি ওষুধের ফার্মেসীতে। পাশাপাশি হসপিটাল ফার্মেসী এবং স্বল্প সংখ্যক ওষুধ কোম্পানীতে। কিন্তু বাংলাদেশে এর ফলাফল পুরোপুরিই উল্টো। এখানে ওষুধ কোম্পানীগুলোতে অধিকাংশ ফার্মাসিস্ট কর্মরত। আর অন্যান্য সেক্টরে নেই বললেই চলে। এদিকে ফার্মেসীগুলোতে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট না থাকায় দিন দিন বাড়ছে ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুসারে, ফার্মাসিস্টদের শতকরা ৫৫ শতাংশ কমিউনিটি ফার্মেসী, ৩০ শতাংশ হসপিটাল ফার্মেসী, ৫ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিং, ৫ শতাংশ সরকারী সংস্থায় এবং ৫ শতাংশ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে কমিউনিটি কিংবা হসপিটাল ফার্মেসীতে কোনো গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নেই। তবে ম্যানুফ্যাকচারিং-এ ৮৫ শতাংশ ফার্মাসিস্ট কর্মরত রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ থেকে ফামের্সীতে গ্রাজুয়েশন করার পরও উপযুক্ত চাকরি না পেয়ে অনেকে ভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন। অনেকে আবার বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। দেশে ভালো মানের গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকায় ওষুধ শিল্প দ্রুত উন্নত হচ্ছে। তবে ওষুধ বিপণন ব্যবস্থা ও চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র সঠিক রয়েছে কি না? সেটি একমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট ছাড়া কেউ বলতে পারবেন না। আর তাই ফার্মাসিস্টদের সঠিক ব্যবহারের তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটা করতে না পারলে ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে না।

সূত্র মতে, দেশের ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগ রয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকা ও জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১২টি। পাশ করে অধিকাংশ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীতে ভালো সুযোগ-সুবিধায় রয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে দেশে ১০ থেকে ১২ হাজার গ্রাজুয়েট ফার্মাসিষ্ট বেকার রয়েছে। কমিউনিটি ও হসপিটাল ফার্মেসীগুলোতে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ থাকলে দেশের মানুষ উপকৃত হতো। একই সঙ্গে পাশ করেও তাদের বেকার থাকতে হতো না। বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় কমিউনিটি ও হসপিটাল ফার্মেসীতে কোনো গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট কর্মরত নেই। তবে ইদানিং বিশেষায়িত কিছু হাসপাতাল ও মডেল ফার্মেসীতে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ওষুধ বিপণন ব্যবস্থাকে (গুড মার্কেটিং প্রাকট্রিস) ঠিক রাখতে মডেল ফার্মেসী তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে ২২৫টি মডেল ফার্মেসী তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। আরো অনেক উদ্ধোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব ফার্মেসীতে একজন গ্রাজুয়েট, ডিপ্লোমা এবং সি ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট রয়েছে। যাদের ওষুধের সঠিক নিয়ম-কানুন ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের গতকাল রোববারের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ওষুধের খুচরা ও পাইকারী নিবন্ধিত দোকান রয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার। ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব মতে, সারা দেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ওষুধের দোকান রয়েছে সাড়ে তিন লাখের অধিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, দেশে বর্তমানে অসংখ্য গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট বেকার পড়ে রয়েছেন। এসব ফার্মাসিস্টদের কাজে লাগাতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে দেশের ওষুধ ফার্মেসী ও হসপিটাল ফার্মেসীতে তাদের শিক্ষার সঠিক ব্যবহারের এবং মূল্যায়নের সুযোগ দেয়া হলে দেশ ও জনগণ সবাই উপকৃত হবেন। গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টরা ওষুধের গুণাগুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ডোজেস সম্পর্কে অভিজ্ঞ। এদের জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে এবং তাদেরকে বেকার থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক ড. আবুল কালাম লুৎফুল কবির বলেন, একটি ফার্মেসীতে ওষুধ পরিবেশনের পাঁচটি উপায় রয়েছে। তা হচ্ছে সঠিক ওষুধ, ওষুধ খাওয়ার মাত্রা, গুণগত মানের সঠিকতা, সঠিক সংরক্ষণ ও সঠিক নির্দেশনা। এছাড়া একজন ওষুধ পরিবেশনকারীকে ওষুধ সম্পর্কে জ্ঞান ও প্রাথমিক রোগ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে, রোগী বা তাদের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষম, ভালো সংগঠক, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, পেশাদারিত্বের দিক থেকে উচ্চ ধারণা এবং বিক্রেতা হিসেবে ভালো আচরণ থাকতে হবে। ড. আবুল কালাম লুৎফুল কবির বলেন, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিতরণের আটটি উপায় মেনে চলতে হবে। তা হচ্ছে, প্রেসক্রিপশন পড়তে এবং ব্যাখ্যা জানতে হবে, ওষুধ তৈরির ব্যবস্থা, ওষুধের খামের লেভেল মেনে চলা, ওষুধের পরিমাণ, মূল্য এবং সঠিক মূল্যের ওষুধ সরবরাহ করা, প্যাকিং ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ও পুনঃপ্যাকেজিং-এ দক্ষ, সরবরাহের সময় সঠিক পরামর্শ দেয়া এবং যেসব ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে তার নথি সংরক্ষণ করা। ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ