প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রিটেনের বর্ণবাদই আমাকে জঙ্গিবাদে প্ররোচিত করেছে: আইএস ফেরত ব্রিটিশ বাংলাদেশি জয়া

ডেস্ক রিপোর্ট : ধর্মের নামে আইএসের কথিত জিহাদে যোগ দেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক জয়া চৌধুরীর বক্তব্যে ব্রিটেনে জঙ্গিবাদ বিতর্কে নতুন মাত্রা দিয়েছে। জয়ার পৈত্রিক বাড়ি বৃহত্তর সিলেটে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে দ্য আটলান্টিক’কে খোলামেলা সাক্ষাৎকার দেন। জয়া বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন আর নিজের নাম বদলে রেখেছেন জর্জলেস তানিয়া।

দ্য আটলান্টিক’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়া বলেন, ‘লন্ডনে বেড়ে ওঠার সময়ে সেখানকার বর্ণবাদই আমার মধ্যে মৌলবাদের বীজ বুনে দিয়েছে। জঙ্গিবাদে প্ররোচিত করেছে।’

জানা যায়, কিশোরী অবস্থায় জয়া চৌধুরী এক উগ্রপন্থীকে বিয়ে করেছিলেন, যিনি ছিলেন একজন পশ্চিমা জিহাদি। তবে আইএসে যোগ দিয়ে সিরিয়া যাওয়ার পর তিন সন্তানসহ অসুস্থ হয়ে গেলে এক মাসের মাথায় সন্তানসম্ভবা জয়া তুর্কিতে ফিরে যান এবং উগ্রবাদী আইসিস জীবন থেকে সরে যান। বর্তমানে তিনি পুরোদস্তুর সংসারী জীবন কাটাচ্ছেন, সন্তানদের দেখভাল করছেন।

সাক্ষাৎকারে জয়া অকপটে করেছেন নানা কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পরিবারকে বর্ণবাদীদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হতে দেখেই আমি ধীরে ধীরে মৌলবাদের পথে ঝুঁকে পড়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘লন্ডনে বেড়ে ওঠার সময়টা কঠিন ছিল। আমার পরিবার ছিল হতদরিদ্র, আমরা ছিলাম অভিবাসী দ্বিতীয় প্রজন্ম এবং চূড়ান্ত বর্ণবাদের শিকার। যখন প্রতিবেশীদের আমাদের বাড়ির জানালা ভেঙে দিতে দেখেছি, তখন থেকে আমার নিজেকে বহিরাগত মনে হতে শুরু করে। আমি হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার একটা রাস্তা খুঁজছিলাম। আল কায়েদার ৯/১১ আক্রমণের সময় আমার বয়স ছিল ১৪ বছর, তার কিছুদিনের মাথায় একটি মৌলবাদী আলজেরীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমার জিহাদি জীবন শুরু হয়।’

পরে অনলাইনে ধর্মান্তরিত আমেরিকান মুসলিম জন জর্জলেসের সঙ্গে পরিচয় এবং এর কিছুদিন পর তাকেই বিয়ে করেন জয়া। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রী দু’জনে নিজেদের জিহাদি ভাবনা বিনিময়ের পাশাপাশি সন্তানদের জিহাদি যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। তাদের জিহাদি সম্পৃক্ততার কথা জানাজানি হতে শুরু করে একসময়।

এরপর ২০০৬ সালে স্বামী জনকে জিহাদি ওয়েবসাইট পরিচালনায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া এবং আল কায়েদাকে অনলাইন সহায়তা দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ―এই দুই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হন জয়া। পরবর্তীতে মুক্তি পেলে ইংল্যান্ড এবং আমেরিকায় অস্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। আর তার পরিবারের নতুন ঠিকানা হয় মিশর। পরে জন ইয়াহিয়া আবু হাসান নাম ব্যবহার করে একজন সুপরিচিত জিহাদি স্কলার হয়ে ওঠেন এবং ইসলামি খিলাফত গড়ার ডাক দেন।

জয়ার ভাষ্যমতে, ২০০৩ সালে তিনি তার পরিবারকে আযায নামের শহরে পাঠিয়ে দেন, যদিও জয়ার দাবি সন্তানসহ অসুস্থ হওয়ার পরেই তিনি পালিয়ে যান এবং তারপর থেকে টেক্সাসেই অবস্থান করছেন। এখন এই বাঙালি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নারীর সঙ্গেও বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে।

আইএস থেকে পালিয়ে ফেরার পর তিনি ইসলামের পথ থেকে সরে দাঁড়িয়ে চার্চমুখী হয়েছেন বলে দাবি করেন জয়া। ওই সাক্ষাৎকারে মৌলবাদবিমুখ আইসিস ফেরতদের সহায়তার ইচ্ছাও পোষণ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৩৩ বছর বয়সী জয়ার বাবা আশির দশকের শুরুতে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। সূত্র : বাংলাট্রিবিউন