প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিয়তে অশুদ্ধতায় জাহান্নামে যাবে দানশীল, শহীদও

জাকারিয়া হারুন : প্রত্যেক আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। যদি নিয়তে গড়বড় হয় তাহলে তার স্থান ভয়ঙ্কর জাহান্নাম। যতো বড় আমলই করা হোক যদি একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে তা করা হয় তাহলে এর বিনিময়ে কোন পূণ্য লেখা হবে না; বরং তার জন্য জাহান্নাম।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয় সর্বপ্রথম ব্যক্তি কিয়ামতের দিন যার ওপর ফয়সালা করা হবে, সে ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছিলো। তাকে আনা হবে, অতঃপর তাকে তার (আল্লাহর) নিয়ামতরাজি জানানো হবে, সে তা স্বীকার করবে। তিনি বলবেন, তুমি এতে কি আমল করেছ? সে বলবে, আপনার জন্য জিহাদ করে, এমনকি শহীদ হয়েছি। তিনি বলবেন, মিথ্যা বলেছ, তবে তুমি এ জন্য জিহাদ করেছ যেন বলা হয়- বীর, অতএব বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে, তাকে তার চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

আরও এক ব্যক্তি যে ইলম শিখেছে, শিক্ষা দিয়েছে ও কুরআন তিলাওয়াত করেছে, তাকে আনা হবে। অতঃপর তাকে তার নিয়ামতরাজি জানানো হবে। সে তা স্বীকার করবে। তিনি বলবেন, তুমি এতে কি আমল করেছ? সে বলবে, আমি ইলম শিখেছি, শিক্ষা দিয়েছি ও আপনার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করেছি। তিনি বলবেন, মিথ্যা বলেছ, তবে তুমি ইলম শিক্ষা করেছ যেন বলা হয়, আলেম, কুরআন তিলাওয়াত করেছ যেন বলা হয়, সে কারী, অতএব বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে, তাকে চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

আরও এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা দিয়েছেন ও সকল প্রকার সম্পদ দান করেছেন, তাকে আনা হবে। তাকে তার নিয়ামতরাজি জানানো হবে, সে তা স্বীকার করবে। তিনি বলবেন, তুমি এতে কি আমল করেছ? সে বলবে, এমন খাত নেই যেখানে খরচ করা আপনি পছন্দ করেন আমি তাতে আপনার জন্য খরচ করি নাই। তিনি বলবেন, মিথ্যা বলেছ, তবে তুমি করেছ যেন বলা হয়, সে দানশীল, অতএব বলা হয়েছে, অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে, তাকে তার চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে অতঃপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে”। (সহিহ মুসলিম, সুনানে নাসায়ি)

সর্বাধিক পঠিত