প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত রাষ্ট্রপতির বিষয় : অ্যাটর্নি

নিজস্ব প্রতিবেদক : অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, পদত্যাগের পর বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করা রাষ্ট্রপতির বিষয়।

রোববার নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। এসকে সিনহার পদত্যাগে বিচার বিভাগ ভারমুক্ত হলো বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রের প্রধান এ আইন কর্মকর্তা।

‘তার পক্ষে, পদত্যাগ করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। কারণ, অন্য বিচারপতিরা যদি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে না বসতে চান, তাহলে তার অন্য কোনো পথ থাকে না’।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রথমেই বলেছি বিচার বিভাগের কোনো ব্যক্তি যদি দুর্নীতি বা চরিত্র স্থলনে জড়িত থাকেন, কোনোমতে তার বিচার বিভাগে থাকা উচিত নয়।

প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে যায় এবং গেজেট প্রকাশিত হতে হয়। সংবিধানে আছে, স্বহস্তে দরখাস্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে দিলে এটি (পদত্যাগপত্র) কার্যকর হবে’।

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে সাংবিধানিক কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আইনমন্ত্রী সুরাহা করেছেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলতে শুধু প্রধান বিচারপতিকেই বোঝায় না, সব বিচারপতি ও প্রধান বিচারপতিকে বোঝায়। আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা যেদিন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা প্রকাশ করলেন, বেঞ্চে বসতে রাজি হলেন না, সেদিনই বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে। যার প্রেক্ষিতে বলেছিলাম, ফিরে এসে প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ করা সুদূরপরাহত’।

দুর্নীতিসহ ১১টি অভিযোগের মুখে থাকা একজন (প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে) ব্যক্তিকে দেশের বাইরে থেকে পদত্যাগের সুযোগ দেয়ার মধ্যে কোনো গাফিলতি আছে কিনা- জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, ‘সরকারের কোনো গাফিলতি নেই। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে এবং সবচেয়ে বড় কথা তিনি প্রধান বিচারপতি। তার বিরুদ্ধে তো সাধারণ আদালতে মামলা করা যায় না। এগুলো রাষ্ট্রপতি অবগত, রাষ্ট্রপতি তার অন্য বিচারপতিদের জানিয়েছেন। অন্য বিচারপতিরা তার সঙ্গে বসতে রাজি হননি। এটিই হলো বাস্তব’। রাষ্ট্রপতিই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

‘সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে কোনোদিন এ ঘটনা ঘটেনি যে, সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অথচ, তার সঙ্গে না বসার কারণ দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে এখন যারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন এবং নানা বক্তব্য দিচ্ছেন, সেগুলো অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয় এবং শুধুমাত্র রাজনীতির খাতিরে তারা এগুলো করছেন’।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ