প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভূয়া বিয়ে, অন্তসত্বা হওয়ার পর দলবদ্ধ ধর্ষণ

শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না ,সাতক্ষীরা : আসামিদের গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, স্বাক্ষীসহ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানান সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের এক অসহায় নারী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ওই নারী বলেন, বাবার সংসারে অভাবের কারণে তিনি ও তার কলেজ পড়–য়া ভাই বাড়িতে থেকে টিউশিনি করে সংসার চালান। পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ি গ্রামের শেখ আব্দুল মোমিনের ছেলে আবু বক্কর ছিদ্দিক রাস্তায় যাতায়াতের সময় আমাকে পথিমধ্যে উত্যক্ত করতো। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ছিদ্দিকের ব্যবসায়িক পার্টনার সুকুমার ম-ল ও গোলাম রসুল তাদের বাড়িতে এসে কথা আছে মর্মে তাকে ডাকিয়া আবু বক্কর ছিদ্দিকের বাসায় নিয়ে যায়। ছিদ্দিক তার উপর বিশ্বাস জন্মানোর জন্য কসম খাওয়াসহ তাকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক হুজুর ডেকে তাদের কাল্পনিক বিয়ে পড়ান। পরে ছিদ্দিক তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরবর্তীতে ছিদ্দিক তার বাপের বাড়িতে এসে জামাতা পরিচয়ে যাতায়াত ও তার সঙ্গে অবস্থান করতো। একপর্যায়ে তিনি দু’ মাসের অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি ছিদ্দিককে অবহিত করেন। গত ১১ জুন ছিদ্দিক বিয়ের এফিডেফিড করার কথা বলে ফকির গাজীর মোড় থেকে মোটর সাইকেলে কালিগঞ্জে নিয়ে যায়। সেখান থেকে একটি মাইক্রাবাসে করে খুলনায় নিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে আটক রাখে। সেখানে পাঁচদিন ধরে ছিদ্দিক, সুকুমার(৩৬) ও গোলাম রসুল(৩৬) তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। গত ১৬ জুন খুলনার রাইসা ক্লিনিকে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত ঘটিয়ে ছিদ্দিকের বোন রোজিনার মাধ্যমে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় ২৫ জুন রোজিনা তাকে বাবার বাড়ির কাছে রেখে পালিয়ে যায়। তাকে খুঁজে না পেয়ে ভাই সাব্বির হোসেন শ্যামনগর থানায় গত ১৫ জুন সাধারণ ডায়েরী করে। থানা মামলা না নেওয়ায় গত ২৬ জুলাই তিনি বাদি হয়ে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ছিদ্দিক, সুকুমার ও গোলাম রসুলের নামে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করে মামলার তদন্তভার শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক লিটন মিঞার উপর ন্যস্ত করা হয়।
নির্যাতিতা ওই নারী অভিযোগ করে বলেন,মামলার সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলে পুলিশ কোন আসামিকে ধরেনি। ডাক্তারি সনদে ধর্ষণের সত্যতা থাকলেও পুলিশ আসামিদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ফলে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে নিজেরা ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাকে ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়া জন্য হুমকি দিচ্ছে। সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত