প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে দেশ অর্থনৈতিক চাপে পড়বে

প্রথম আলোর প্রতিবেদন: রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের এক গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে। এ নিয়ে এক সংলাপে আলোচকেরা বলেন, মাত্র দুই মাসের মধ্যে মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশ এ দেশের জন্য বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে । এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে স্বল্প,মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীতে রোহিঙ্গা সংকট শীর্ষক এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপের সভাপতি ও সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছে না বাংলাদেশ। কারণ জাতিসংঘের বিভিন্ন উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে ভেটো দেওয়ার সামর্থ্য আছে এমন দেশের সমর্থন ছাড়া কিছু হবে না।

অবশ্য প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্রসচিব মো.শহীদুল হক বলেন, এ মাসের শেষে দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানম্রা সফরে যাবেন্। এরপর দুই দেশের মধ্যে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হবে।
এরপর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে।

গতকাল সংলাপের শুরুতে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন,আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পেছনে প্রতিদিন জনপ্রতি ২.৪৫ ডলার বা ১৯৮ টাকা করে খরচ হচ্ছে। সে হিসেবে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ১০মাসে রোহিঙ্গাদের জন্য ৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকার প্রয়োজন। এটা বাংলাদেশের চলতি বাজেট প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ । দেশের মোট রাজস্ব আয়ের ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ১৩ শতাংশের বেশি।
সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্রাচার্য বলেন,বিপুুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক বিপুল চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাটি রাজনৈতিক বলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন চেয়েছে । রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ বা সহযোগিতা করলে ও এখন পর্যন্ত কোনো দেশ এক রোহিঙ্গাকে ও তাদের দেশে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেননি।
নির্ধারিত আলোচক মিয়নমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব) অনুপ কুমার চাকমা বলেন,মিয়নমারের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা হিতে বিপরীত হবে। অতীতে মার্কিন নিষেধজ্ঞার কারণে চীনকে মিয়নমারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার অবারিত সুযোগ করে দিয়েছে ।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মূসা বলেন,বাংলাদেশ মিয়নমার সীমান্তের দুপাশে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিকে বিবেচনায় নিয়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন ডাকার পক্ষে মত দেন।

মুক্ত আলোচনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম শুধু রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকটটিই তুলে ধরছে। এ সমস্যা যে বাংলাদেশের জন্য বিপুল বোঝা তৈরি করেছে ,সেটি এখনো আসেনি।
সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক সোবহান বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে সংযুক্তিতে চীনের বৃহদায়তন উদ্যোগ এক অঞ্চল ,এক পথ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিপি) মেজর জেনারেল মো.আবুল হোসেন বলেন,রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে .এ জন্য মিয়নমারের সেনাসদস্যসহ অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়া উচিত।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব্ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ষ্ট্র্যাটেজিক ষ্টাডিজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মুন্সি ফয়েজ আহমেদ ,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।

সূত্র: প্রথম আলো

আনিস/

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ