প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি

মামুন খান : যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিল হয়নি।

রোববার মামলাটি খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন গুলশান থানা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম মো: নূর নবী প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ১২ ডিসেম্বর ধার্য করেন।

এরআগে গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করতে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তারও আগে খালেদা জিয়াকে কয়েকদফায় স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এপরোয়ানা জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। ওইদিন আদালত তেজগাঁও থানার ওসিকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলায় খালেদা জিয়া ও তার প্রয়াত স্বামী জিয়াউর রহমানকে আসামি করা হয়।

এরপর চলতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর তা আমলে নিয়ে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত।

এদিকে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রী পরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতিরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, আলবদর, আলসামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান।

পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদন্ডসহ বিভিন্ন দন্ডে দন্ডিত হয়েছেন। তার মধ্যে তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যু কার্যকর হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রীত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রী সভায় মন্ত্রীত্ব প্রদান করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভুলন্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৫০০ ধারার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে প্রচলিত আইনে মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হলো।

 

সর্বাধিক পঠিত