প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশ কর্মকর্তার দক্ষতায় বেরিয়ে এলো ‘ভয়ংকর দেবর’

বাঁধন : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের পাইকরহাটি গ্রামে গৃহবধূ আলেয়া খাতুনকে (৪০) ধর্ষণ চেষ্টার পর হত্যা মামলার আসামি টুটুল মল্লিককে (৩০) গত ৭ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে টুটুল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন।

এসব পুরোনো খবর। এ নিয়ে ৭ নভেম্বর এনটিভি অনলাইনেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

কিন্তু যে ঘটনায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না, ছয়দিন ধরে আলেয়ার কোনো খবর ছিল না, শুধু একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে কীভাবে ধরা পড়ল খুনি? কীভাবে বিলের মধ্যে মিলল আলেয়ার লাশ? এই রকম অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া জানিয়েছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেড়া-সাঁথিয়া সার্কেল) আশিস বিন হাসান। এ নিয়ে গত ৯ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেড়া সার্কেল বেড়া আইডি থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিস বিন হাসানসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ট্যাগ করা হয়। এরপর গতকাল শুক্রবার ১০ নভেম্বর একই ঘটনা শেয়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দেন জিহাদুল কবির। আজ শনিবার সেটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।

সময় নিয়ে পড়তে হবে পুরো লেখা। মনে হবে দক্ষ কোনো পুলিশ কর্মকর্তার থ্রিলার পড়ছেন। বানান ঠিক করে পুরো পোস্টটি নিচে দেওয়া হলো :

‘উরু পর্যন্ত শাড়ি-পেটিকোট উঁচু করে ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে মাঝবয়সী এক নারী। তাঁর নাম আলেয়া। বয়স চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। বয়স বাড়লেও দুই সন্তানের জননী আলেয়ার শরীর ভেঙে পড়েনি। এখনো যৌবনের পূর্ণ রেশ শরীরে রয়েই গেছে। কে জানত তার সুগঠিত অবয়বই কোনো নরপশুর লোলুপ দৃষ্টি কাড়বে; অতঃপর নির্জন বিলে ধর্ষণের শিকার হয়ে লাশকাটা ঘরে পড়ে থাকবে তার পচা গলা নিথর দেহটি।

 

গত ৩-১১-২০১৭ তারিখে সাঁথিয়া থানায় একটি নিখোঁজ জিডি এন্ট্রি করা হয়। যার নম্বর ১০২। জিডিতে মো. আরদোশ মল্লিক (৫০), গ্রাম-চর পাইকরহাটি, সাঁথিয়া জানান, গত ১-১১-১৭ইং তারিখে তাঁর স্ত্রী (আলেয়া খাতুন) চরপাইকরহাটি, কুমির বিলের পাশের ঈদগাহে লাকড়ি কুড়াতে যান। এরপর তিনি আর ফেরত আসেননি। জিডি এন্ট্রির পর এসআই রাশেদ, সাঁথিয়া থানা ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে জানতে পারেন পার্শ্ববর্তী ডোবার মধ্যে নিখোঁজ মহিলার পরনের শাড়ি পাওয়া গেছে।

বিষয়টি আমার মনে দাগ কাটে। ৪-১১-১৭ তারিখ আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে শাড়িটি দেখি। আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলি। জায়গাটি একদম নির্জন, নিঝুম। মূল গ্রাম থেকে সামান্য বাইরে। যেখানে ঈদগাহ তার ঠিক সামনেই পূর্বদিকে ১০ বিঘার একটি বিশাল পুকুর। পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশজুড়ে বিশাল বিল। উত্তর দিকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে মূল গ্রাম। ওই জায়গায় দিনের বেলা গেলেও গা ছম ছম করে। থাক সে কথা, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রচুর উৎসুক জনতা পাই। মহিলার (আলেয়া) ঝাড়ু দেওয়ার ঝাটা ঈদগাহের দেয়ালের পাশে পড়ে থাকতে দেখি। শাড়ি যে ডোবায় ছিল, সেই স্থান পরিদর্শন করি। কিন্তু মহিলার সন্ধান কেউ দিতে পারে না। হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে থেকে শোনা যায়, খালের ওপারে কাউকে টেনে বিলের ভেতরে নেওয়ার মতো দাগ আছে। কিন্তু ওখানে যেতে হলে বুকসমান পানি পার হয়ে যেতে হবে। গ্রামবাসী একজনের কাছে লুঙ্গি চেয়ে নিয়ে আমি নিখোঁজ মহিলার (আলেয়া) দেবর রেজাউলকে সাথে নিয়ে খাল পাড়ি দিয়ে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে গেলে অজস্র পায়ের ছাপ দেখি।

রেজাউল জানান, গ্রামের শত শত লোক গত দুদিন ধরে বিলের ভেতর নেমে কোনো কিছু পাওয়া যায় কি না তার সন্ধান করেছে। এগুলো তাদের পায়ের ছাপ। তারপরও ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখা যাচ্ছে, কাউকে টেনে নেওয়ার দাগ। এরপর সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। কিন্তু কোনো কূল কিনারা পাওয়া যাচ্ছিল না। পুনরায় ডাঙায় ফিরে আসি। মহিলা (আলেয়া) সম্পর্কে খোঁজ নিতে শুরু করি। সূত্র : এনটিভি

 

 

সর্বাধিক পঠিত