প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘পাচারের অজুহাতে জ্বালানী তেলের দাম কমাচ্ছে না সরকার’ (ভিডিও)

উমর ফারুক : জ্বালানী তেল বিক্রিকরে অন্তত ৬ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করছে সরকার।তারপর ও জ্বালানী তেলের দাম কমছে না।যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে যে কোন সময় বাড়তে পারে তেলের দাম।অজুহাত দাম কমালে নাকি ভারতে পাচার হয়ে যেতে পারে জ্বালানী তেল।যদিও দাম কমালেও জনজীবনে তেমন সুফল আসবে না বলে মনে করে নীতি নির্ধারকরা।

টানা ৩ বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ব বাজারে কমছিল সব ধরনের জ্বালানী তেলের দাম। ১১০ ডলার ব্যারেলের অপরিশোধিত তেল নেমে এসেছিল ৫০ ডলারে । সম্প্রতি একটু চড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম।প্রতি ব্যারেলের দাম ৬৪ মার্কিন ডলার এখন।অথচ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি যে দামে বিক্রি করছে তেল তাতে ক্রয় মূল্যে দাড়ায় ৮০ ডলারের উপরে । ফলাফল বছরের পর বছর হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রিয় ভর্তুকি দেওয়া প্রতিষ্ঠান বিপিসি এখন লাভজনক।মুনাফা করছে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা।

পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহাম্মদ রহমতুল মুনিম বলেন, জ্বালানী তেল বাজার থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রির পর টাকাটা আমার হাতে আসে।কিন্তু এটার জন্য আমার রানিং ক্যাপিটাল ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার হয় ।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার প্রায় আড়াই বছর পর এপ্রিলে অকটেন ও পেট্রোলে ১০ টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিনে লিটারে ৩ টাকা দাম কমিয়েছিল সরকার।কথা ছিলো আরো দুই দফায় কমবে দাম।তবে জনজীবনে প্রভাব পড়েনি সেই অজুহাতে দাম কমাতে অনিহা সরকারের।

জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, তেলের দাম যদি একই ধাপে থাকতো তাহলে হয়তো বিশ্ব বাজারের সাথে আমরাও তেলের দাম কমাতে পারতাম । কিন্তু দাম একই থাকছে না দাম বেড়ে যাচ্ছে ।

পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহাম্মদ রহমতুল মুনিম আরো বলেন, প্রতি লিটারে হয়তো এক থেকে দেড় টাকা কমানো যেতে পারে তবে বাজারে এর কোন প্রভাব পড়বে না।যদি এখন তেলের দাম কমিয়ে দেয়া হয় তাহলে তেল  পাচার হয়ে ভারতে চলে যাবে।

ক্যাবের জ্বালানী উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, এবারই প্রথম তেলের দাম বাড়ালে বা কমালে সেটা যদি আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় না হয় তবে এটা অযৌক্তিক এবং সরকারের অবলিগেসন পালনে অবহেলা প্রমাণ হয়।

২০১২-১৩ অর্থ বছরে প্রায় ১৪ হাজার কোটি এবং ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে জ্বালানী তেলে ৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছিলো সরকার ।

অবশ্য পরে তিন অর্থ বছরে এ খাতে আর কোন ভর্তুকি গুনতে হয়নি । আগে সরকার বলতো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি লোকশানে তাই কমছে না তেলের দাম।বিপিসির সেই লোকশানের গল্প এখন ইতিহাস টানা কয়েকবছর ধরে লাভের মুখ দেখছে সংস্থাটি এবং সেই লাভের টাকার কোন সুফল জনগণ পায়নি বরং সেই টাকা কোথায় যাবে, কোন খাতে যাবে, সেটি নিয়ে সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা দ্বন্দ্ব।

সূত্র : যমুনা টেলিভিশন

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ