প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা সমস্যা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ আসছে ৭৬ দেশের কূটনীতিকরা

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশে ফিরিয়ে নেবার জন্য মায়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ওই উদ্যোগের অংশ হিসাবে ৮,৯ ও ১০নভেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী ৭৬টি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানিয়ে সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী জানিয়েছেন, “খুব শীঘ্রই ৭৬টি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফরে যাবেন রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা খতিয়ে দেখতে।”

উল্লেখ্য ,ঢাকায় ৪৫টি দেশের আবাসিক কূটনৈতিক মিশন আছে। ওই ৪৫টি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলি ঘুরে এসেছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত সাংবাদিক বৈঠকে বলেছেন ,ঢাকায় আবাসিক মিশন নেই এমন ৭৬টি দেশের ভারতস্থিত কূটনীতিকদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি তিনটি গোষ্ঠীতে ভাগ করে। ৭৬টি দেশের মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’র সদস্য দেশ ,আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ও এশিয়ার কয়েকটি দেশ ছিল। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন ,”আলোচনায় সবাই রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা যে আজকের বিশ্বে সবথেকে বড় মানবিক সমস্যা তা স্বীকার করে নিয়েছেন আলোচনায় অংশ নেওয়া কূটনীতিকরা।”

উল্লেখ্য ,রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা সমস্যা সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে তা চূড়ান্ত করার জন্য। ওই প্রস্তাব গ্রহণের জন্য আগামী ১৪ই নভেম্বর ভোটাভুটি হতে পারে। সেকারণেই বাংলাদেশে অনাবাসিক কূটনীতিকদের সঙ্গে দিল্লিতে আলোচনা প্রক্রিয়াটি খুবই তাৎপর্য্যপূর্ণ।

এক প্রশ্নের উত্তরে সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী বলেছেন, “রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গৃহীত হবে ,এব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। আমাদের লক্ষ্য প্রস্তাবের পক্ষ্যে সমর্থন কতটা বাড়ানো যায়।”

তিনি বলেন, “এটা সবাইকে বুঝতে হবে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা একা বাংলাদেশের সমস্যা নয়। এই সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান না হলে তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ,পরিবেশ ,স্বাস্থ্য’র ক্ষেত্রে বিনাশকারী প্রভাব পড়বে।”অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ,”মায়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো সংকট নেই। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। রোহিঙ্গারা যাতে শান্তিতে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে, সেখানে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে সেটাই আমরা চাই মায়ানমারের কাছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে পাঁচ দফা সমাধানসূত্র দিয়েছেন বর্তমান সমস্যা সমাধানে। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মায়ানমার গিয়ে সেখানেও প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়ে এসেছেন। আমরা আশাবাদী মায়ানমার সরকার ওই প্রস্তাব গ্রহণ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত