প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিনহার পদত্যাগপত্র পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি

প্রতিবেদক: ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে তোপের মুখে ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়া প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা পদত্যাগ করেছেন।

তার পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে পৌঁছেছে এবং রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন।

আজ (শনিবার/১১ নভেম্বর) তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রধান বিচারপতি সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে পদত্যাগপত্র জমা দেন। আমরা আজকে (শনিবার) সেটি গ্রহণ করেছি।

গত ২ অক্টোবর থেকে ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে বিভিন্ন টিভি স্ক্রলে খবর প্রচারিত হলেও এতক্ষণ এ ব্যাপারে সরকারি কর্তৃপক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশের দু’একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গতকাল সিঙ্গা্পুর থেকে কানাডা রওনা হওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা পদত্যাগপত্রে সই করেন। তার পারিবারিক সূত্রে এই তথ্য জানা যায়। এ ব্যাপারে সিনহার স্ত্রী ও তার ‍দুই মেয়ে ভূমিকা রাখেন।

বিচারপতি এস কে সিনহার ৩৯ দিনের ছুটি গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে। তিনি বর্তমানে কানাডায় তার ছোট মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন।

গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, প্রধান বিচারপতির ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। প্রধান বিচারপতির ছুটির মেয়াদ না বাড়ালে আজ থেকে তিনি অনুপস্থিত গণ্য হবেন বলে জানান মন্ত্রী।

বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রধান বিচারপতি গতকাল শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে কানাডা গেছেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে গত সোমবার রাতে সিঙ্গাপুরে পৌঁছান তিনি। কানাডায় প্রধান বিচারপতির ছোট মেয়ে আশা সিনহা থাকেন।

গত ২ অক্টোবর থেকে ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় যান তার বড় মেয়ের কাছে বেড়াতে। গতকাল ১০ নভেম্বর ছুটি শেষ হলেও তার দেশে আসা বা ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো কিছু জানানো হয়নি।

প্রধান বিচারপতি গত ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের জানান যে তিনি ছুটি শেষে ফিরে আসবেন। দায়িত্বও পালন করবেন। বলেছিলেন, ‘আমি পালিয়ে যাচ্ছি না। আবার ফিরে আসব।…আমি বিচার বিভাগের অভিভাবক। বিচার বিভাগ যাতে কলুষিত না হয় সে জন্যই সাময়িকভাবে যাচ্ছি।’

তবে প্রধান বিচারপতির দেশে ফেরা ও দায়িত্বগ্রহণের বিষয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে একাধিকবার বক্তব্য দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ‘তার (সিনহা) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর প্রধান বিচারপতির পদে বসে বিচারকার্য পরিচালনা করা সুদূরপরাহত।’

 

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আগামী বছর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তার মেয়াদ রয়েছে। সূত্র- ঢাকা টাইমস, বিডি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ