প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উন্নয়নের ধুলোয় দম বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট : উত্তর বাড্ডা থেকে রামপুরার দিকে মূল সড়কে বেরোলেই মুখোমুখি হতে হচ্ছে ধুলার। এ রোডে এক বছর জুড়ে চলছে উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়ি।

বর্ষাজুড়েই ছিল কাদাপানি আর খানাখন্দের দুর্ভোগ। এখন শীত আসতে না আসতেই সর্বসাধারণকে পড়তে হচ্ছে ধুলাদূষণে। প্রতিনিয়ত স্কুল-কলেজে যাতায়াতকারী কোমলমতি শিক্ষার্থী ছাড়াও এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সর্বসাধারণ। যেন দেখার কেউ নেই। উন্নয়ন-ধুলায় শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে বাড্ডা-রামপুরাবাসীর। মধ্য বাড্ডায় রাস্তার দুই পাশের দোকানপাট আর হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো ধুলায় ঢাকা পড়েছে। গতকাল উত্তর বাড্ডা থেকে রামপুরার দিকে যাত্রাপথে সাইফুল ইসলাম নামে এক প্রাইভেট কার চালক জানালেন, ‘কালো রঙের গাড়ি এখানে রাখলে ধুলায় ধূসর রং ধারণ করে। ধুলার কারণে এখানকার চায়ের দোকান আর খাবারের হোটেলে মানুষ খেতে পারে না। ’
এ চিত্র শুধু বাড্ডা-রামপুরার নয়, ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় শীতের আগমনী বার্তা সঙ্গে বয়ে এনেছে ধুলার উপদ্রব।

বিশেষ করে রাজধানীর খিলগাঁও, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, কাকরাইল, সায়েদাবাদ, শ্যামপুর-ধোলাইখাল, চিটাগাং রোড, রায়েরবাগ, গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, কারওয়ান বাজার, বংশাল, কুড়িল বিশ্বরোড, ওয়ারী, সদরঘাট, বাবুবাজার, ধানমন্ডি, জিগাতলা, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, মিরপুর, মহাখালী, তেজগাঁও, কালশী, রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ, বছিলা, মিরপুর-১৪ থেকে ভাসানটেক, বিমানবন্দর, উত্তরা মডেল টাউন, টঙ্গীসহ ঢাকার বেশির ভাগ সড়কই ধুলার চাদরে আচ্ছাদিত। সাধারণ যান চলাচলকারী এলাকার তুলনায় ফ্লাইওভার নির্মাণাধীন এলাকাগুলোয় সব সময় ব্যাপক ধুলাবালি ওড়ায় আবাসিক ভবনের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বাসা পাল্টে ধুলামুক্ত সুবিধাজনক জায়গায় চলে যাচ্ছে। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মিন্টো রোড, গুলশান, ধানমন্ডি ও বনানীর কিছু এলাকার ভিআইপি সড়কে।
জানা গেছে, শুধু উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়িই নয়, নিয়ম না মেনে বহুতল ভবন নির্মাণের মাটি, বালু, সিমেন্ট, পাথর, নুড়িপাথর, কংক্রিট যত্রতত্র রেখে দেওয়া হয়। নির্মাণাধীন ভবনের বর্জ্য রাস্তা দখল করে মাসের পর মাস ফেলে রাখায় সেখান থেকেই পদপিষ্ট হয়ে ধুলোর সৃষ্টি হয়। রাস্তার পাশের ড্রেনেজের ময়লা পরিষ্কার করা হলেও ড্রেন থেকে তোলা আবর্জনা রাস্তার পাশে জমিয়ে রাখায় শুকিয়ে যাচ্ছে। এগুলো থেকেও ধুলা উড়ছে। শুকনো ময়লা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় তা ধুলায় পরিণত হয়ে দূষণের সৃষ্টি করছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় ভাঙাচোরা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় তা থেকেও সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা, হাঁপানি, চোখের সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস, সর্দি, কাশি, হাঁচিসহ ফুসফুসে ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যাই বেশি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ধুলার দূষণ। এ কারণেই নানা সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানীবাসী। ধুলার দূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাজধানীতে বসবাসরত শিশু ও বয়স্ক নাগরিকেরা।

ধুলা আর খানাখন্দে উত্তরা মডেল টাউন : রাজধানীর অন্যতম প্রধান অভিজাত এলাকা উত্তরা মডেল টাউন। এটা এখন শুধু নামেই। কার্যত এটা এখন ধুলা-ময়লা, খানাখন্দ আর আবর্জনার টাউন। উত্তরা-১ থেকে ১৪ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত এখন বাড়িঘর নির্মাণ ও বসবাসের উপযোগী। তবে সব সেক্টরেই রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব নাজুক। আর উত্তরা মডেল টাউনের তো পুরোটাই ধুলোময়। ৪ নম্বর সেক্টরের ২০টি সড়কের সবই এখন যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। টার্কি হোপস স্কুল, আগা খান স্কুলসহ বেশ কিছু নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনের রাস্তায় নির্মাণকাজের নামে ইট, বালি, সুরকি ও মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ৬ নম্বর সেক্টরে ইংলিশ মিডিয়াম দিল্লি পাবলিক স্কুল ও লাইফ প্রিপারেটরি স্কুলের সামনের রাস্তায় ড্রেন নির্মাণের নামে এক মাসের বেশি সময় ধরে বিশাল আকারের গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গেই ধুলাবালিতে একাকার স্কুলসহ আশপাশের এলাকা। ধুলাবালিতে বাচ্চারাও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যান্য সেক্টরেও একই অবস্থা। ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের সাধারণ মানুষ মনে করে, মেয়র না থাকায় নাগরিক জীবনের এ সমস্যাগুলো দেখার কেউ নেই। উত্তরা-৪ নম্বর সেক্টরের অধিবাসীরা বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট ও ধুলোময় পরিবেশের প্রতিবাদে যে কোনো সময় রাস্তায় নামার পরিকল্পনা করছে। রাজলক্ষ্মী মার্কেটসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভিতরের সড়কগুলোও ধুলোবালিতে একাকার।

মাস্কও কাজে আসছে না শ্যামপুর-পোস্তগোলায় : শ্যামপুর থানার পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গা সেতু থেকে যাত্রাবাড়ী থানার ধোলাইপাড় পর্যন্ত রাস্তা খানাখন্দে ভরা। প্রচণ্ড ধুলায় নাস্তানাবুদ এখানকার সাধারণ মানুষ। ধুলার তীব্রতায় পথচারীদের অনেকের হাঁচি ও কাশি বেড়েই চলেছে। শ্বাসকষ্টে ভুগছে শিশুরা। মাস্ক ব্যবহার করেও রেহাই পাচ্ছে না এখানে চলাচলকারীরা। কাদার মতোই ধুলার স্তর জমে গেছে। গতকাল শ্যামপুরে কথা হয় শহিদুল ইসলাম নামে এক পথচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চার লেনের কাজ শুরু হওয়া, রেললাইনের সিগন্যাল, খানাখন্দ আর ধুলাবালির কারণে ওই রাস্তা চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করা গাড়িগুলোর প্রচণ্ড চাপে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ওই রাস্তায় চলাচলের ফলে আমি নিজেই শ্বাসকষ্টে ভুগছি। ’

ধুলায় ধূসর মিরপুর-গাবতলী : শীতের আগমনীতে ঢাকার রাস্তা কুয়াশাচ্ছন্ন দেখা গেলেও তা কুয়াশা নয়, আসলে ধুলায় ধূসর হচ্ছে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক। বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য মিরপুর ১০ থেকে আগারগাঁও, মিরপুর সাড়ে ১১, গাবতলী, মাজার রোড প্রায় সব সময় ধুলায় ধূসর থাকে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত প্রায় সোয়া ৩ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন লাইন অপসারণের কাজ করা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে খননের কাজ করেছে বিভিন্ন কোম্পানি। এ ছাড়া মেট্রোরেল প্রকল্পের কারণে শেওড়াপাড়া থেকে কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের দুই পাশেই গর্ত খোঁড়া হয়েছে। এ কারণে এ এলাকা সব সময় ধুলায় ধূসর থাকে। একইভাবে গাবতলী থেকে মাজার রোড হয়ে মিরপুর-১ নম্বর পর্যন্ত সড়কটিও ধুলায় আচ্ছন্ন দেখা গেছে। ধুলা থেকে বাঁচতে সব সময়ই ‘মাস্ক’ পরে থাকতে হয় আশপাশের ব্যবসায়ীদের। আবার পথচারীরাও ধুলা থেকে বাঁচতে নাক-মুখ চেপে চলেন। ধুলার কারণে ক্রেতাহীন দিন কাটে ফুটপাথের দোকানিদের। মাজার রোড থেকে গাবতলী পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে তৈরি হওয়া খানাখন্দ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার, যা দূষিত করছে পরিবেশ। রাজধানীর গাবতলী এলাকায় দিন দিন ধুলার প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে মানুষ। এ ছাড়া বিমানবন্দর সড়কের সেতু ভবন থেকে মহাখালী আমতলী পর্যন্ত সড়কের পাশের ফুটপাথও খানাখন্দ আর ধুলায় একাকার। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা উন্নয়নকাজের ধীরগতির জন্যই এ অবস্থা।

ওই রোডে চলাচলকারী বেলাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘এই দুটি রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। মিরপুর-১ নম্বর চাইনিজ রোডে স্যুয়ারেজ লাইনের কাজের নামে রাস্তার অনেক স্থান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রেখেছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। মাজার রোডে স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ শেষ হলেও মেরামত করা হয়নি রাস্তাটি। ফলে এ দুই রাস্তায় যানজট লেগেই থাকে। ’

রামপুরা-বনশ্রী এলাকা ধুলায় একাকার : রামপুরা ব্রিজ থেকে বনশ্রীর রাস্তায় ধুলার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে নাক-মুখ ঢাকার মাস্ক বিক্রেতার সংখ্যা। কারণ রাস্তায় বের হলেই চোখে পড়বে ধুলার কুয়াশা। তবে সঙ্গে যোগ হয়েছে শীতের কুয়াশাও। সকালে কিংবা সন্ধ্যায় ধুলা আর কুয়াশায় একাকার হয়ে যায়। ধুলার কারণে চোখ মেলে তাকানোর অবস্থা নেই। গাড়ির চাকার সঙ্গে ধুলা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। চোখের মধ্যে ঢুকে পড়ছে কচকচে ধুলা। বনশ্রী থেকে মেরাদিয়া হাট পর্যন্ত রাস্তায় প্রায় হাঁটুসমান গর্ত। এখানে বর্ষার সময় বৃষ্টি-কাদা আর গরমে ধুলায় অসহনীয় হয়ে উঠেছে বনশ্রীবাসীর জীবনযাপন। রাস্তাজুড়েই ছোট-বড় গর্ত। মেরাদিয়া হাট ঘিরে তৈরি হওয়া যানজট ছাড়াতে কাজ করছিলেন ফয়েজ মিয়া। তিনি বলেন, ‘ধুলায় এখানে আধঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার অবস্থা নেই। তাই চোখে সানগ্লাস আর নাকে মাস্ক পরে কাজ করতে হয়। ’

এদিকে বাড্ডা এলাকায় গেল এপ্রিলে এ রাস্তায় এক পাশ খুঁড়ে ড্রেনের পানি যাওয়ার জন্য রিং বসায় সিটি করপোরেশন। এই খোঁড়া জায়গায় বালু আর খোয়া দিয়ে রাখায় গাড়ি গেলেই ধুলায় অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে পুরো এলাকা। উত্তর বাড্ডা পার হলেই দেখা যাবে চলছে ফুটপাথ সংস্কারের কাজ। এরপর মেরুল বাড্ডায় গেলে চোখে পড়বে নর্থ ইউলুপ নির্মাণের মহাযজ্ঞ। সেখানে ছড়িয়ে রাখা সিমেন্ট-বালি বাতাসে মিশে গিয়ে কষ্টকর করে তুলছে জীবনযাপন।

কাপড়চোপড়, চুল সাদা হয় খিলগাঁও তালতলায় : খিলগাঁও তালতলা, বাসাবো, গোড়ান, রামপুরা, নন্দীপাড়া শাহজাহানপুর, চৌধুরীপাড়া, মালিবাগের এমন কোনো রাস্তা বাকি নেই যেটি কাটা হয়নি। প্রতিটি রাস্তা একাধিকবার কাটা হলেও ঢালাই দেওয়া হয়নি। ফলে শীতের বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই এখন পুরো এলাকা ধুলায় একাকার। রাস্তায় বেরিয়ে পাঁচ মিনিট হাঁটলে কাপড়চোপড়, মাথার চুল সাদা হয়ে যায়। এ এলাকার মানুষ ধুলার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। ঘরের জানালা বন্ধ করেও ধুলার আক্রমণ থেকে রেহাই মিলছে না। খিলগাঁও রেলগেট থেকে তালতলা হয়ে আবুল হোটেলগামী রাস্তাটা রীতিমতো গ্রামের কাঁচা রাস্তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। রাস্তায় চলার সময় হাই তুললেও মুখে বালি কিচ কিচ করে। এ ছাড়া এসব এলাকার মহল্লার ভিতরও ছোট রাস্তাগুলো এমনভাবে কাটা হয়েছে যে ধূসর হয়ে রয়েছে পুরো এলাকা। অথচ এমন বেহাল দশা দেখার কেউ নেই।

মহাখালী বাসস্ট্যান্ড-নাবিস্কোয় উড়ছে ধুলা : মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে নাবিস্কোর রাস্তা বেশ কিছু জায়গায় ভাঙা। এসব জায়গা মেরামতে ব্যবহার করা হয়েছে ইট, বালি। ফলে দূরপাল্লার ভারী গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ধুলা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। মহাখালী কাঁচাবাজার থেকে নাবিস্কো হয়ে সাতরাস্তার মোড় পর্যন্ত ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। মূল সড়কের কয়েকটি স্থানে চলছে উন্নয়ন কার্যক্রম। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে সামনের দিকে এগোতেই বেশ কয়েকটি বড় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। যান চলাচলেও বেশ কষ্ট। খানাখন্দে এসব এলাকায় ধুলা উড়ছে আকাশে-বাতাসে।

ধুলামুক্ত নয় বিমানবন্দর এলাকা : রাজধানীর ভিভিআইপি রোড বলে খ্যাত বিমানবন্দর এলাকা ধুলামুক্ত নয়। এখানে চলাচলকারী গাড়ির কাচগুলো ধুলায় আচ্ছাদিত থাকে সব সময়। এ ছাড়া দক্ষিণখান, উত্তরখান, আজমপুর ও আবদুল্লাহপুরে দাঁড়ানোর মতো পরিবেশ নেই। এসব এলাকায় গাড়ি চলাচল করলে নাক চেপে ধরতে হয় পথচারীদের। এ সমস্যা মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এয়ারপোর্ট এলাকার গোলচত্বর স্টপেজ থেকে মাস্ক বিক্রির জন্য বাসে ওঠেন হকার। প্রতি জোড়া ১০ টাকা। গতকাল পোস্তগোলা থেকে ডিয়াবাড়ী রুটে চলা রাইদা পরিবহনে রামপুরা ও খিলক্ষেত থেকে ওঠা প্রায় প্রত্যেক যাত্রীর মুখে ধুলো প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষই নিয়েছে এই সাময়িক পদক্ষেপ। দেখা গেল, মনজিল পরিবহনে করে আজমপুর থেকে কাকলীর দিকে আসছিল রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী। বাসের জন্য অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের প্রায় সবার মুখেই ছিল মাস্ক ও রুমাল। ফারহান নামে একজন শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলে, ‘স্কুলে আসা-যাওয়ার মধ্যে অনেক ধুলা খাইতে হয়! এর জন্য রাতের বেলা সর্দি চলে আসে। স্বাস্থ্যের যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য সব সময় রুমাল ব্যবহার করি। ’

পানি ছিটাবে ডিএসসিসি, উদ্যোগ নেই উত্তর সিটির : শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি রোধে প্রতিদিন নয়টি গাড়ি দিয়ে ৫০ কিলোমিটার সড়কে দুই বেলা করে পানি ছিটাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ধুলা প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হকের অনুপস্থিতিতে ঢিলেঢালাভাবে চলছে ডিএনসিসির সব কার্যকম। তবে ডিএসসিসি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী মে মাস পর্যন্ত তারা পানি ছিটানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনের সামনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এ সময় তিনি বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় ধুলাবালির কারণে মানুষের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের শ্বাসকষ্ট হয়। তাই শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় পানি ছিটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা এবং অফিস ছুটি হওয়ার আগে বেলা ১টা থেকে ৩টা দুই বেলা সড়কে পানি ছিটানো হবে। এভাবে দক্ষিণ সিটির প্রধান সড়কগুলোয় (প্রায় ৫০ কিলোমিটার) রাস্তায় নিয়মিত এ কার্যক্রম চলবে। ’ বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ