প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীতে ফুটপাথ উন্নয়ন
লাগানোর পরই খুলে যাচ্ছে টাইলস

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউর দু’পাশ ধরে হাঁটলেই দেখা মিলে লাল-হলুদ রঙের মিশেল টাইলসের ফুটপাথ। নতুন চকচকে টাইলসের ওপর হাঁটতে যে কারো ভালো লাগবে। বিজয় সরণি থেকে টাইলস লাগানো শুরু করে এখন কাওরানবাজার অংশের কাজ চলছে। সাধারণ মানুষের জন্য ফুটপাথে চলাচল উপযোগী ও সৌন্দর্য বর্ধনই এ কাজের মূল উদ্দেশ্য নয়। অন্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হাঁটার জন্য এ টাইলসে রয়েছে নির্দেশনামূলক অনেক বিট, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এ পর্যন্ত সবই ঠিক আছে তবে সমস্যটা হলো টাইলস লাগানোর ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই তা উঠে যাচ্ছে।

কোথাও কোথাও টাইলস ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে। ফার্মগেট থেকে সড়কের পশ্চিম পাশ ধরে হাঁটলে চোখ পড়বে এমন চিত্র। খানিক দূরত্ব পর পর টাইলস ফেটে এবড়োথেবড়ো পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এখান থেকে কাওরানবাজার সিগন্যালের দিকে হাঁটলেই দেখা যায় টাইলস বসানোর কাজ এখনো চলমান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের মধ্যে ফুটপাথে টাইলস বসানো একটি। বর্তমানে ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত নর্দমা ও ফুটপাথ নির্মাণ (আইডিআইপি) প্রকল্পে কাজ চলছে। এ প্রকল্পে মোট ১ হাজার ২৬ কোটি টাকার কাজ চলছে। কাজগুলো করা হচ্ছে সিটির অঞ্চল-২, ৪ ও ৫ এ।

কাজের মধ্যে রয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তা সংস্করণ, ফুটপাথ মেরামত, টাইলস বসানোসহ আনুষঙ্গিক আরো কিছু কাজ। এ প্রকল্পের আওতায় বিজয় সরণি থেকে বাংলামটার পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে শুধু ফুটপাথ ও ড্রেনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে সাড়ে নয় কোটি টাকা। কাজটি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। তবে কাজ চলমান থাকতেই যে তা ভেঙে উঠে যাচ্ছে তাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না সিটি করপোরেশন।
এমনকি টাইলসের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফলতি ধরা পড়েনি সিটি করপোরেশন কাছে। তাদের দাবি কাজ শতভাগ পূর্ণাঙ্গ না করলে বুঝে নেয়া হবে না। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ কুদরত উল্লাহ বলেন, আপনারা যে অংশে ফুটপাথে টাইলস উঠে যাওয়া বা ভাঙার কথা বলছেন সে বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ফুটপাথে টাইলস বসানোর পরে ন্যূনতম তিনদিন সময় লাগে তা ব্যবহার উপযোগী হতে। অথচ প্রায় দেখা যায়, একপাশ দিয়ে টাইলস লাগিয়ে যাচ্ছে অন্যদিক থেকে মানুষ চলাচল করছে। ব্যারিকেড দিয়েও তাদের ফিরানো যাচ্ছে না।

এ প্রকল্পের অধীনে অন্য যেসব ফুটপাথে টাইলস বসানো হচ্ছে সেখান থেকে কোনো অভিযোগ আসছে না। তাহলে এখানেও এমন হওয়ার কথা না। কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তার দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। টাইলস উঠে যাওয়া কিংবা ভেঙে গেলে পুনরায় তাদের এ কাজ করে দিতে হবে। টাইলসের মান সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক জানান, এই প্রকল্পে যে টাইলস ব্যবহার হচ্ছে তা বুয়েট ও এমআইএসটি থেকে মান পরীক্ষা করা। যে কয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে টাইলস কেনা হয় সেগুলো আমরা সরেজমিনে ভিজিট করে মান যাচাই করে নিয়েছি। এরপরে টাইলসের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠার কথা নয়। কাওরানবাজার আন্ডারপাসের দিকটায় ফুটপাথ-ড্রেনের কাজই করা যাচ্ছে না। টাইলসের কাজ তো এগুলোর পরের কাজ। এখানে ফুটপাথের কর্নার ঘেঁষে বাস-ট্রাক চলে। কোনো কোনো সময় ফুটপাথেও বাস-ট্রাক উঠিয়ে দেয়। যে কারণে টাইলসের অনেক অংশ ভেঙে যায়। কিছু কিছু স্থানে টাইলস উঠে যেতেও দেখা গেছে। তাহলে আমরা কি করে কাজ করবো? আগে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।

প্রকৌশলী কুদরত উল্লাহ বলেন, টাইলস লাগানোর পরে কয়েক জায়গায় ত্রুটি ধরা পড়ছে সেগুলো আমরাই উঠাতে বলেছি। সিলেট থেকে কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত টাইলস সরবরাহ দিতে পারেনি বলে ওগুলো সেভাবে পড়ে আছে। মাঠে কাজের মান ও ত্রুটি দেখার জন্য নিজস্ব পর্যবেক্ষক রয়েছে। এ কাজে সামান্য ত্রুটি ধরা পড়লেও তার খেসারত দিতে হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, এ রাস্তাটি আমাদের উত্তর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবে। এখানে অব্যবস্থাপনার প্রশ্নই আসতে পারে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শতভাগ ই-টেন্ডারের মাধ্যমেই কাজ পায়। বিলকম, আরটিসেন, মীর, ইউনিক ও কিংডেকর থেকে শুধু টাইলস কেনার অনুমোদন রয়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, শুধু বালির উপর টাইলস বসিয়ে যাচ্ছে এ অভিযোগের বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, এমন তো হওয়ার কথা নয়। ফুটপাথের উপরে দুই ইঞ্চি বয়েড ঢালাই দিয়ে তারপরে টাইলস বসানোর কথা। তাতে তো শুধু বালি কিভাবে আসলো। আমরা দেখে এগুলো ব্যবস্থা নিচ্ছি। উত্তর সিটি করপোরেশনের জোন-৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফ হোসেন বলেন, ফুটপাথের কিছু কিছু জায়গায় টাইলস বসানোর সময় ত্রুটি দেখা যাচ্ছে সেগুলো ঠিক করার জন্য ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছি। কাজে কোনো রকম অনিয়ম হলে তাদেরকেই পুনরায় কাজ করে দিতে হবে। মিরপুর রোড, গুলশান এলাকায় তো টাইলস ভেঙে বা উঠে যাচ্ছে না। কাওরানবাজার এলাকায় রাতের চিত্র খুবই ভয়ানক। বেশিরভাগ টাইলস ভেঙে যাচ্ছে ট্রাক থেকে মাল আনলোড করে ফুটপাথের উপর ফেলার কারণে। এসব মালামালের ওয়েট টাইলস নিতে পারে না। সেটাই টাইলস নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ। প্রকল্পে থাকা এ প্রকৌশলী জানান, কাওরানবাজারের ওয়াসা ভবনের সামনে থেকে তিতাস ভবন পর্যন্ত টাইলস লাগানো হবে না। এখানে মেট্রোরেলের স্টেশন হওয়ার কথা রয়েছে। তাদের কাজ শেষ হলে তারপরে টাইলস লাগানো হবে। এখন থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বালুর বস্তা দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে তারপর কাজ করতে বলেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের সাইড ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখানে টাইলস নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বিভিন্ন ম্যাটেরিয়ালসের দোকানের মালামাল নামানোর জন্য ফুটপাথে ট্রাক উঠানো। ফুটপাথ দিয়ে মোটরসাইকেল চলা ইত্যাদি। তিনি আরো জানান, যেখানে এমন দোকান নেই সেখানে এরকম সমস্যা দেখা যায়নি। আর কিছু স্থানে টাইলস বসানোর সময় ত্রুটি থাকে যা উঠিয়ে পুনরায় লাগাতে হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ