প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতির মাঠ
সরব হওয়ার চেষ্টায় বিএনপি, শঙ্কিত নয় আ’লীগ

রাহাত : সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু রাজনীতির মাঠে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। যেকোন ইস্যুতেই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করার ঐতিহ্য দুই দলের নতুন কিছু নয়।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি। খোদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি স্বীকারও করেছিলেন বিভিন্ন সময়ে। তাদের অভিযোগ ছিল, বিএনপি আন্দোলনের নামে শুধু সহিংসতা আর অরাজকতা সৃষ্টি করে। তাছাড়া বিএনপিও নিজেদের আমলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের তাদের কর্মসূচি পালনে কম বাধা দেয়নি।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে মাত্র বছর খানেক বাকি। এদিকে সময় যত ঘনিয়ে আসছে, নিজেদের গুছিয়ে নিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা সবাই তৎপর হয়ে উঠছেন। জেলায় জেলায় গিয়ে কর্মী সংগ্রহ, ত্রাণ বিতরণের নামে রাজনৈতিক শো ডাউন, সভা, সমাবেশসহ সংবাদ সম্মেলনে ব্যতিব্যস্ত সবাই। যদিও এক্ষেত্রে বিএনপির চাইতে আওয়ামী লীগ অনেক এগিয়ে।
বাংলাদেশের মূলত প্রধান রাজনৈতিক এ দল দুটি এই মাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিজেদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করবে। বিএনপি ১২ তারিখ এবং আওয়ামী লীগ ১৮ তারিখে সভা করবে। বিএনপির সভা বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে। এ জন্য তারা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে অনুমতিও পেয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সভা করবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে।
ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র নেতারা বলেছেন, বিএনপির সমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ চিন্তিত নয়। তবে তাদের অতীত ভালো কোন কিছু বলে না। নিজেদের কর্মসূচিতে তারা নিজেরা নিজেরাই বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পরে। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলে ভবিষ্যতেও সরকারের তরফ থেকে সহায়তা পাবে। কিন্তু কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা হলে তা কঠোর হাতে দমন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কারণ সভা-সমাবেশ পালন করার অনুমতি পুলিশ দেয়, সরকার না।
বিএনপি নেতাদের মতে, দলের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে মানুষের ঢল দেখে ভীত হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ। কারণ তারা জানে, জনগণ তাদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাই আওয়ামী লীগ বিভিন্ন পাঁয়তারা শুরু করেছে। সমাবেশের অনুমতি চাইতে গেলে বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেয়। আওয়ামী লীগ এটা জানে, বিএনপির জনসমর্থন অনেক। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের ভরাডুবি হবে। তাই বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেয় সরকার।
বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে মানুষের সমর্থন দেখে আওয়ামী লীগ এখন চিন্তিত। তারা (সরকার) জানে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপিই জয়ী হবে। এই জনসমর্থনের প্রমাণ ১২ তারিখেই দেখা যাবে। আশা করি, সমাবেশে গণজোয়ার ঘটবে।
বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানুষ অনেকদিন অপেক্ষা করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খালেদা জিয়া ত্রাণ বিতরণে যাওয়ার পথে স্বাগত জানাতে রাস্তায় নেমে মানুষ তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপিই জয়ী হবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নিয়ে কোন ক্ষেত্রেই চিন্তিত নয়। বিএনপি জানে, তাদের কোন জনসমর্থন নেই। তাই তারা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার। নিজেদের কর্মসূচিতে তারা নিজেরা নিজেরাই বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পরে। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলে ভবিষ্যতেও সরকারের তরফ থেকে সহায়তা পাবে। কিন্তু কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা হলে তা কঠোর হাতে দমন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কারণ সভা, সমাবেশ পালন করার অনুমতি পুলিশ দেয়, সরকার না।
তিনি বলেন, বিএনপি নিজেদের অনুষ্ঠানে নিজেরাই মারামারি করে বলে তাদের সমাবেশের অনুমতি দিতে পুলিশও ভয় পায়।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি বিভিন্ন ইস্যুতে মিথ্যাচার করছে, ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনকে বিএনপি যাতে বাধাগ্রস্ত, বিতর্কিত করতে না পারে সে বিষয়ে দল (আওয়ামী লীগ) এবং জনগণ সচেতন আছে। পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ