প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যা
স্বামী ও তৃতীয় স্ত্রীর ফের ৩ দিনের রিমান্ড

আদালত প্রতিবেদক : রাজধানীর কাকরাইলে মা ও ছেলেকে গলাকেটে হত্যা মামলায় নিহতের স্বামী আবুল করিম ও তার তৃতীয় স্ত্রী শারমীন আক্তার মুক্তার পুনরায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

শুনানি শেষে শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরী এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আলী হোসেন আসামিদের আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২৮ বছর আগে শামসুন্নাহারের সাথে আব্দুল করিমের বিয়ে হয়। তাদের তিনটি সন্তানও রয়েছে। এরপর আব্দুল করিম জনৈক ফরিদাকে বিয়ে করেন। ওই সংসারে তার একটি সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে করিম মুক্তাকে চার বছর আগে বিয়ে করেন। এরপর থেকে করিম তার প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের কোনো খোঁজ-খবর নিতেন না। কারণে-অকারণে তাকে মারধর করাসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। গত তিন থেকে চার মাস আগে আসামি মুক্তা শামসুন্নাহারের বাসায় গিয়ে তাকে মারধর করে ও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। আব্দুল করিম সুন্দরী মেয়েদের সাথে অবৈধভাবে মেলামেশা করতেন। শামসুন্নাহার তাকে নিষেধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাসায় গিয়ে আসামিরা শামসুন্নাহার এবং তার ছোট ছেলে সাজ্জাদুল করিম শাওনকে ছুরি দিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যার দায় স্বীকার করে মুক্তার ভাই জনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এসেছে।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তসহ এমন চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস খুনের মুল রহস্য উদঘাটন, ঘটনায় আরো কোন আসামী জড়িত কি না তা জানার জন্য আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আসামি আব্দুল করিমের পক্ষে তার আইনজীবী শেখ হেমায়েত হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন। আর শারমীন আক্তার মুক্তার পক্ষে তার আইনজীবী রেশমা আহমেদও রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর এই আসামিদের ছয়দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

মামলাটিতে গত ৯ নভেম্বর এই হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের শারমীন আক্তার মুক্তার ভাই আল আমিন ওরফে জনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ৫ নভেম্বর এ আসামির ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। চারদিন রিমান্ড শেষে হওয়ার পরই তিনি স্বীকারোক্তি করেন। গত ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে গোপালগঞ্জ থেকে এ আসামিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাকরাইলের আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম রোডের ৭৯/এ বাড়িতে শামসুন্নাহার ও তার ছেলে শাওনকে (ওলেভেল শিক্ষার্থী) গলাকেটে হত্যা করা হয়। নিহতের স্বামী আবদুল করিম পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী। তিনি আঁদা-রসুন-পেঁয়াজ আমদানিকারক। ওই ঘটনায় গত ২ নভেম্বর নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় নিহতের স্বামী আব্দুল করিম, করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমীন মুক্তা, মুক্তার ভাই জনিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামিরা করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ