প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা মাহবুবুল হক আর নেই

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) আহ্বায়ক ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা বীর মুক্তিযোদ্ধা, খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ আ ফ ম মাহবুবুল হক আর নেই। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০.১৫টায় কানাডার অটোয়ার সিভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুনোগ্রাহী রেখে যান। গত ২৬ সেপ্টেম্বর কানাডার সময় সন্ধ্যায় ৭.৩০টায় সাবেক আপোষহীন ছাত্রনেতা কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হক ব্রেইন হেমারেজ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হক গত ২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর ঢাকায় অজ্ঞাত ঘাতকদ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার তিনি দেশে চিকিৎসা শেষে সর্বশেষ কানাডায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তিনি ১৯৪৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার মৃত ফজলুল হক, মাতা মরিয়ামেন নেছার ৬ মেয়ের মধ্যে ১ ছেলে আ ফ ম মাহবুবুল হক। এসএসসি ও এইচএসসিতে তিনি মেধার তালিকায় স্থান করে পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতির ছাত্র ছিলেন।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মাহবুব ও বাসদ খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও গণসংহতির নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) আহ্বায়ক কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হকের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা আ ফ ম মাহবুবুল হক ১৯৬২ সালে স্কুল জীবনে শরীফ কমিশনের প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন। তিনি ১৯৬৭-৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ সূর্যসেন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্থান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, ’৬৯-৭০ সালে কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বি এল এফ’র অন্যতম প্রশিক্ষক ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ’৭৩-’৭৮ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৮-৮০ সালে ‘জাসদ’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ১৯৮০ সালের শেষের দিকে ‘বাসদের’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন।

১৯৮৩ সালে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক নিযুক্ত হন। আপোষহীন এই নেতা ১৯৬৮ সালে প্রথম কারাবরণ করেন। ’৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত পুনরায় রাজবন্দি হিসাবে কারাগারে কাটান। ১৯৮৬ সালে আবার কারাবরণ করেন। ১৯৯৫ সালে ঋণখেলাপী কালোটাকার মালিকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হন।

সর্বাধিক পঠিত