প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমাদেরসময়ডটকমকে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু-
‘টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ভালো একটা পজিশনে যাবে’

এম এ রাশেদ : সময়টা ছিল ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম একটি স্মরণীয় দিন। কারণ এ দিনেই বাংলাদেশ প্রবেশ করেছিল টেস্ট ক্রিকেটের অভিজাত এক আঙিনায়। এরপর থেকে হাঁটিহাঁটি পা পা করে টেস্ট ক্রিকেটে ১৭ বছর পার করে ১৮ তে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজকের (১০ নভেম্বর) এই দিনে ভারতের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। আর এতেই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ১০ম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল লাল-সবুজের দল। বর্তমানে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় সেদিন টস করতে নেমেছিলেন তখনকার বাঙালি ক্রিকেট মহাতারকা সৌরভ গাঙ্গুলির সাথে। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট বলে কথা! যার কারণে পুরো বাংলাদেশের চোখ ছিল সেদিন টেলিভিশনের পর্দায়। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।

ভারতের বোলারদের হতভম্ব বানিয়ে টেস্ট আঙ্গিনায় নতুন দলটি দলটি প্রথম ইনিংসেই ছুঁয়েছিল ৪০০ রান। যেখানে প্রথম ইনিংসেই আমিনুল ইসলাম বুলবুল খেলেছেন ১৪৫ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস। এছাড়া হাবিবুল বাশার সুমনের ব্যাট থেকে এসেছিল ৭১ রানের আরও একটি নান্দনিক ইনিংস।বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষে ভারত যখন তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামে তখন বাংলাদেশের স্পিনারদের দারুণ ভেল্কি দেখে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বীরা। নাইমুর রহমান একাই নেন ছয় উইকেট। গাঙ্গুলী-শচিনদের প্রথম ইনিংস থামে ৪২৯ রানে। বাংলাদেশ যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে তখন তাদের সামনে ২৯ রানের লিড ছিল। এরপর লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে।

যদিও বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট ম্যাচটি রঙ্গিন হয়নি। ম্যাচটি দুর্জয়-বাশার-বুলবুলরা হেরেছিল নয় উইকেটের বড় ব্যবধানেই।বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট ম্যাচের পর এরপরের পাঁচ বছরের যাত্রা লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। একের পর এক টেস্টে পরাজয়, তবুও টাইগারদের ওপর আশা ছাড়েনি বাংলাদেশের মানুষ। অবশেষে পাঁচ বছরের মাথায় ২০০৫ সালে আসে বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম টেস্ট জয়। বাংলাদেশের সোনার ছেলেরা অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা সেই টেস্টে। প্রথম ইনিংসে কোনও শতক ছাড়াই বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪৮৮। মোহাম্মদ রফিক ও এনামুল হক জুনিয়রের ঘূর্ণিতে কাঁটা পড়ে জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে।

২০০০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই ১৭ বছরে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে সর্বমোট ১০৪টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ১০টি, হেরেছে ৭৯টি আর ড্র করেছে ১৫টি। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। মাহেলা-সাঙ্গাকারা ও মুরালিধরনদের বিরুদ্ধে টাইগাররা খেলেছে ১৮টি টেস্ট। আর সবচেয়ে বেশি পরাজয়ও একই দলের বিরুদ্ধে (১৫টি)। টেস্ট ক্রিকেটের এই পথচলায় বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান তামিম ইকবালের (৫২ ম্যাচে ৩৮৮৬ রান)। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিও তামিমের (৮টি)। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস সাকিব আল হাসানের (২১৭, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে)।সবচেয়ে বেশি উইকেট সাকিবের (৫১ ম্যাচে ১৮৮ উইকেট)।

দেশকে সবচেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম (৩৪টি)। সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল(৬১টি)।ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ ক্রিকেটবিশ্বে সমীহ জাগানো অবস্থানে যেতে পারলেও টেস্টে এখনও তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।তবে সাদা পোশাকে বারবার বিশ্বকে জানান দিয়েছে নিজেদের সক্ষমতার বার্তা। বার্তাগুলোতেও ছিল রীতিমত চমক। আর সে চমকের মধ্যে ছিল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে স্মরণীয় জয় পাওয়া বাংলাদেশের শততম টেস্ট ম্যাচটি।এছাড়া ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মত দলকে হারানোর গৌরব।

বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে ১৭ বছর অতিক্রম করে গতকাল ১৮ বছরে পা রেখেছে। ১৭ বছরের এ দীর্ঘ পথচলা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু  আমাদেরসময়ডটকমকে বলেন, ‘এটি নি:সন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় গৌরবের বিষয়।’

বাংলাদেশ বর্তমানে ওয়ানডেতে সমীহ জাগানিয়া দল। কিন্তু বাংলাদেশ দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মত ক্রিকেট পরাশক্তিকে টেস্টে হারাতে পারলেও বিদেশের মাটিতে খুবই হতাশাজনক পারফরমেন্স করছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে ভালো একটা পজিশনে যাবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ