প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চোখ হারানোর পথে শিশু মুরছালিন

রাজু আহমেদ রমজান,সুনামগঞ্জ :একটি কেচির সুচারু আঘাতে বাম চোখের মনির নিচের অংশ ছিদ্র হওয়ায় পৃথিবীর অপরুপ সৌন্দর্য্য দেখার আগেই মুরছালিন নামের এক শিশুর জীবনে নেমে এসেছে অমানিশার ঘোর অন্ধকার।

গরীব ঘরে জন্ম নেয়া এই শিশুর বাম চোখ আজ অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় চিরতরে নষ্ট হওয়ার পথে। চোখের অসহনীয় জ্বালাপোড়ার কারণে স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে এই শিশুটির। মুরছালিন স্থানীয় বানিয়াগাঁও কমিউনিটি স্কুলে প্রথম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র। তবুও অসহায় বাবা-মা স্বপ্ন বুনেন ছেলের অনাগত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের।

শিশু মুরছালিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের সহায়-সম্বলহীন দিনমজুর সেকিল মিয়ার ছেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় শিশুটির বাবা দিনমজুর সেকিল মিয়ার।

তিনি বলেন, গেল ঈদুল ফিতরের আগের দিন বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলা করছিল মুরছালিন। একপর্যায়ে অপর বন্ধুর হাতে থাকা একটি কেচির সুচারু আঘাতে সুই পরিমাণ ছিদ্র হয়ে যায় তার বাম চোখের মনির নিচের অংশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ভার্ড চক্ষু হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জরুরী ভিত্তিতে অপারেশনের জন্য রাজধানীর কোন চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন।

দিনমজুর অসহায় বাবার অর্থের যোগান না হওয়ায় নিষ্পাপ শিশু মুরছালিনের ভাগ্যে আজও জুটেনি উন্নত চিকিৎসা। ফলে অনাগত ভবিষ্যত অন্ধকারে ধাবিত হচ্ছে নিষ্পাপ এই শিশুটির জীবন। দিন দিন এই ক্ষত ব্যাপক আকার ধারণ করায় চোখের অসহনীয় যন্ত্রণা এখন এই শিশুটির নিত্যসঙ্গী। এছাড়া দিনের বেলায় চোখে ঝাপসা দেখতে হয় তাকে। চক্ষু বিশেষজ্ঞগণ জানিয়েছেন জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন না করলে চিরতরে বাম চোখ নষ্ট হয়ে যাবে। তার এই চোখের অপারেশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার প্রয়োজন।

যে পরিবারে দুবেলা আহার জুটে না সেখানে শিশু মুরছালিনের বাবা অসহায় দিনমজুর সেকুল মিয়ার পক্ষে এত টাকা যোগাড় করা কল্পনা ছাড়া বৈকি। তার বুকের ধন ছেলের চোখের আলো ফিরিয়ে আনতে দেশের হৃদয়বানদের সহযোগিতা কামনা করছেন অসহায় এই বাবা।

প্রতিবেশি মতিউর রহমান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বালিয়াঘাট গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমীন বলেন, অর্থের অভাবে তার বাবা-মা উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না। দেশের হৃদয়বানরা এগিয়ে আসলে হয়তো অসহায় পরিবারের নিষ্পাপ এই শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখতে পাবে।

সম্পাদনা : মাহফুজ উদ্দিন খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ