প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানিক মিয়ায় মন্ত্রীর কথা যেভাবে রাখল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েও অক্টোবর ও নভেম্বরের প্রথম শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত রাখতে পারেনি পুলিশ; সেই প্রতিশ্রুতি আংশিক পূরণ করা হল অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার, তিন ঘণ্টার জন্য।

শুক্রবার সকাল ৮ থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের আড়ং মোড় থেকে সংসদ ভবনের ফটক পর্যন্ত মোটামুটি ৩০০ মিটার রাস্তার একপাশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এর বদলে অন্য পাশ দিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গাড়ি যাওয়া আসার ব্যবস্থা করে পুলিশ।

আসাদ গেইট বা রাপা প্লাজার দিক থেকে আসা খামারবাড়িমুখী যানবাহনগুলো ন্যাম ফ্ল্যাটের সামনে দিয়ে মানিক মিয়ায় ঢুকে উল্টো পথে এগিয়ে ব্যারিকেডের অংশ পার হয় এবং তারপর বাঁ দিকের অংশ দিয়েই যার যার গন্তব্যে চলে যায়।

ট্রাফিক পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. শফিকুর রহমান বলেন, “এই প্রথমবারের মত কয়েক ঘণ্টা মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হল। এর ফলে কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি।”

গত ২২ সেপ্টেম্বর ওই সড়কে ‘ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসের’ উদ্বোধন করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মাসে অন্তত একটি দিন একটি সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস আমরা কাগজে লিখলাম, সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দিলাম, বাস্তবতা যদি না থাকে তাহলে এসব কথা বলে লাভ নেই। শুধু মুখে নয়, আমরা কারমুক্ত দিবসের যথার্থতা যেন উপলব্ধি করি এবং বাস্তবতা যেন প্রয়োগ করি।”

পরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের চেয়ারম্যান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে সামনে রেখে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তিনি।

সে অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম শুক্রবার পুলিশ ‘ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিষেধ’ লেখা ধাতব ব্যারিকেড বসিয়ে নির্দেশনা কার্যকরের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু সেদিন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কারণে তাদের সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়।

নভেম্বর প্রথম শুক্রবারও ওই সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধের নোটিস দেখা যায়। কিন্তু পুলিশ সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তায় গাড়ি চলতে কোনো সমস্যা হয়নি।

সেখানে কর্তব্যরত এক ট্রাফিক পরিদর্শক সেদিন বলেন, প্রচার কম হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি জানেন না। ধীরে ধীরে সবাইকে অবগত করা গেলে পুলিশও গাড়ি আটকাবে।

তার এক সপ্তাহের মাথায় পুলিশ মন্ত্রীর সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করল, যদিও মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার ওই সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি বন্ধ রাখার কোনো ঘোষণা আগে থেকে দেওয়া হয়নি।

বেসরকারি সংগঠন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সুবিধা ভোগ করে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ, অথচ এই গাড়িগুলো ৭৬ শতাংশ সড়ক দখল করে রাখে। আর প্রতি বছর ঢাকার রাস্তায় নামছে এক লাখ দশ হাজারের বেশি গাড়ি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর ২২ সেপ্টেম্বর ‘কার-ফ্রি ডে’ বা ‘ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস’ পালন করা হলেও বাংলাদেশে এ দিবস পালনের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে নতুন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ