প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর নবুয়তপ্রাপ্তি

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: তাওরাত বলছে যে হযরত ইবরাহিম (আ.) ইরাকের ছোট শহর ‘আওর এর অধিবাসী এবং ফাদ্দান গোত্রের লোক ছিলেন। তাঁর সম্প্রদায় ছিলো মূর্তিপূজক। তাঁর পিতা কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং নিজের সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোত্রের জন্য কাঠের মূর্তি নির্মাণ করে বিক্রি করতেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহিম (আ.) -কে প্রথম থেকেই সত্যের উপলদ্ধি এবং সত্য পথের সন্ধান ও হেদায়েত দান করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে মূর্তিগুলো শুনতে পারে না, দেখতেও পারে না এবং কারো ডাকে সাড়াও দিতে পারে না এবং ক্ষতি ও উপকার সাধনের সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আর কাঠের এই পুতুলগুলো এবং হস্তনির্মিত অন্য বস্তুগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্যও নেই। তিনি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নিজের চোখে দেখতেন যে তাঁর পিতা নিজের হাতে ওসব নিষ্প্রাণ মূর্তিগুলোকে নির্মাণ করে থাকেন এবং যেভাবে তাঁর মর্জি হয় সেভাবেই মূর্তিগুলোর নাক, কান, চোখ ও দেহাবয়ব কেটে-চেঁছে তৈরি করে থাকেন। তারপর সেগুলোকে ক্রেতার কাছে বিক্রি করে থাকেন। সুতরাং এই মূর্তিগুলো কি মাবুদ (উপাস্য) হতে পারে? কিংবা এগুলোকে কি মাবুদ বা খোদার সমতুল্য ও সমকক্ষ বলা যেতে পারে? কখনো না। এরপর তিনি নবুয়ত লাভ করে সর্বপ্রথম এদিকে মনোনিবেশ করলেন।

নবুয়তপ্রাপ্তি : কুরআনুল কারিম হযরত ইবরাহিম (আ.) -এর জ্ঞান-চক্ষু উন্মীলনকারী হেদায়েত ও সৎপথ প্রাপ্তির বিষয় এভাবে বর্ণনা করছে, আমি তো এর পূর্বে (প্রথম থেকেই) ইবরাহিমকে (হেদায়েত ও) সৎপথের জ্ঞান দান করেছিলাম এবং আমি তার (কার্যকলাপ) সম্পর্কে ছিলাম সম্যক অবগত। যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বললো, এই মূর্তিগুলো কী যার পূজায় তোমরা লিপ্ত রয়েছ? তারা বললো, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি। সে বললো, তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষগণও রয়েছে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে। তারা বললো, তুমি কি আমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছো না তুমি কৌতুক করছো?’ (এমনি এমনি বিদ্রƒপকারীদের মতো কথা বলছো?) সে বললো, “না, (এসব মূর্তি তোমাদের প্রতিপালক নয়, বরং) তোমাদের প্রতিপালক তো আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর পরিচালক, তিনি সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন এবং এ-বিষয়ে আমি অন্যতম সাক্ষী। [সুরা আম্বিয়া: আয়াত ৫১-৫৬]

যখন এই মর্যাদাশালী ব্যক্তিত্বের ওপর আল্লাহপাকের অবারিত অনুগ্রহ ও দানের স্রোত অবিরাম ধারায় দ্রুতগতিতে প্রবাহিত হচ্ছিলো, তখন এর ফল এই দাঁড়ালো যে, তিনি আম্বিয়ায়ে কেরামের সারিতে বিশিষ্ট স্থান লাভ করলেন এবং তাঁর দাওয়াত ও তাবলিগের উৎসস্থল ও কেন্দ্রটি ‘হানিফি ধর্ম নামে অভিহিত হলো।

যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর সম্প্রদায় মূর্তিপূজা, নক্ষত্রপূজা এবং বিভিন্ন জড় পদার্থের পূজায় এমনভাবে নিরত রয়েছে যে আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরত এবং তাঁর একত্ব ও অমুখাপেক্ষিতার কল্পনাও তাদের অন্তরে অবশিষ্ট নেই এবং তাদের কাছে আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাসের চেয়ে অধিক বিস্ময়কর ও আজগুবি বিষয় আর কিছুই নেই। এমন সময় হযরত ইবরাহিম (আ.) অত্যন্ত সাহসের কোমর বাঁধলেন এবং এক আল্লাহর ওপর ভরসা করে সম্প্রদায়ের সামনে সত্যের বাণী উপস্থিত করলেন। তিনি ঘোষণা করলেন, হে আমার সম্প্রদায়, এ আমি কী দেখছি? তোমরা নিজেদের হাতে নির্মিত মূর্তিসমূহের পূজায় লিপ্ত রয়েছে। তোমরা কি এমনই অজ্ঞতার নিদ্রায় বিভোর রয়েছে যে সেসব নিষ্প্রাণ কাঠকে নিজেদের যন্ত্রপাতির সাহায্যে কেটে-চেঁছে মূর্তি প্রস্তুত করছো এবং তা যদি তোমাদের পছন্দ অনুযায়ী গঠিত না হয় তবে তা ভেঙে অন্য একটি তৈরি করছো। তৈরি করার পর কাঠের ওই মূর্তিগুলোকেই পূজা করতে থাকো এবং উপকার ও ক্ষতি সাধনের মালিক মনে করতে থাকো। তোমরা এসব অনর্থক কাজ থেকে বিরত হও। আল্লাহর একত্ববাদের স্তুতি গাও এবং একমাত্র সেই প্রকৃত মালিকের সামনে বিনয়ের সঙ্গে মস্তক অবনত করো, যিনি আমার ও তোমাদের এবং গোটা বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও মালিক।

কিন্তু কওম তাঁর আহ্বানের প্রতি সামান্যও কর্ণপাত করলো না। আর যেহেতু তারা সত্য শ্রবণকারী কান ও সত্য দর্শনকারী চোখ থেকে বঞ্চিত ছিলো, ফলে তারা এমন উচ্চ মর্যাদাশীল নবীর সত্যের দাওয়াত নিয়ে উপহাস করতে লাগলো এবং অধিক নাফরমানি ও অবাধ্যতা করতে শুরু করলো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ