প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন বৈঠকের দায়ে ব্রিটিশ মন্ত্রীর পদত্যাগ

লিহান লিমা : ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন বৈঠকের দায়ভার মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী (ডিএফআইডি) ও কনজারভেটিভ দলের উদিয়মান তারকাখ্যাত প্রীতি প্যাটেল। কনজারভেটিভ দলের তহবিলের বড় জোগানদাতা ‘কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল’ এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন প্রীতি।

বিবিসি জানায়, ২০১৬ সালে আগস্টে ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে ইসরায়েলে যান প্রীতি প্যাটেল। ওই সময় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রদপ্তরকে না জানিয়ে দুই দিনে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে মোট ১২টি বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে প্যাটেলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঘোর ইসরায়েলপন্থী হিসেবে পরিচিত কনজারভেটিভ পার্টির প্রভাবশালী রাজনীতিক লর্ড পোলক।

ওই সব বৈঠক থেকে ফিরে গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি সেনাদের পরিচালিত মানবিক সেবা কার্যক্রমের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিজ দপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন। ১৯৮১ সালে সিরিয়ান ভূখন্ড গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরায়েল। দখলকৃত এই ভূমিকে ইসরায়েলের বলে স্বীকার করে না যুক্তরাজ্য। প্রীতির সুপারিশ ওই সব গোপন বৈঠকের প্রভাব বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রীতি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রদপ্তর বৈঠকগুলোর বিষয়ে জানত। কিন্তু পররাষ্ট্রদপ্তর জানায়, তারা এসব বৈঠকের বিষয়ে অবগত ছিল না। ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের দূতাবাসকেও এসব বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়নি। পরে বুধবার প্যাটেল নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। কিন্তু এতে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এটিকে আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন দাবি করে বিষয়টিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছে লেবার পার্টি। প্যাটেলকে পদত্যাগের আহবানও জানায় তারা।

বিতর্ক জোরালো হ্ওয়ার পর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকায় সরকারী সফররত প্রীতি প্যাটেল জরুরি ভিত্তিতে লন্ডন ফেরার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে । বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান প্রীতি। বৈঠকে প্রীতি স্বীকার করেন, ইসরায়েলে যেভাবে তিনি প্রভাবশালী বক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তা স্বচ্ছতার মানদÐে পড়ে না। মের সঙ্গে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা বৈঠকের পর পদত্যাগপত্র দেন কনজারভেটিভ পার্টির এই উদীয়মান রাজনীতিবিদ । পদত্যাগপত্রে দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি। মে’ ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার কথা জানিয়ে বলেন, প্রীতি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, যৌন কেলেঙ্কারির জের ধরে গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন। একই অভিযোগে দুজন এমপিকে দল থেকে বরখাস্ত করেছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল। যৌন হয়রানির অভিযোগে তদন্ত চলছে উপপ্রধানমন্ত্রী ডোমিয়ান গ্রিনসহ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী ও এমপির বিরুদ্ধে। এমন অস্থির সময়ে প্যাটেলের পদত্যাগকে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র আসনকে নড়বড়ে করে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। ডেইলি মেইল, সিএনএন, বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ