প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চীনে ২৫ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি বাণিজ্য চুক্তি ট্রাম্পের

লিহান লিমা : নির্বাচনি প্রচারণা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও বাণিজ্য ঘাটতি, মার্কিন চাকরি বাজার নষ্ট ও উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে চীনের সমালোচনা করে আসলেও এবারের এশিয়া সফরে এসে সুর পাল্টে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে ট্রাম্প কেবল চীনেরই প্রশংসা করেন নি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই উষ্ণ সম্পর্কের কূটনীতি লাভদায়ক হয়েছে। এই সফরে পঁচিশ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। শি জিনপিংও স্বীকার করেছেন, দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা ‘মতপার্থক্য’ রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী চীন থেকে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সয়াবিন ও আকাশযান আমদানি করবে যুক্তরাষ্ট্র। আর আলাস্কা থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস চীনে রপ্তানি করা হবে। এছাড়া উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এই যৌথ উন্নয়ন চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকায় ১২ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এবং যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার মধ্যে বার্ষিক যে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যিক ঘাটতি রয়েছে তা কমে আসবে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে ট্রাম্প বলেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক ‘খুব একপেশে এবং অন্যায্য। কিন্তু আমি চীনকে দোষ দিচ্ছি না। কোনও দেশের সংকটের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোনও দেশ যদি তার জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করে তবে সে দেশকে কি দোষ দেওয়া যায়? আমি এক্ষেত্রে চীনকে বিশাল কৃতিত্ব দেব।

এক পর্যায়ে ট্রাম্প শিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি একজন বিশেষ মানুষ।’ আতিথেয়তার জন্য টুইটারেও শি জিনপিং ও তার স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকেও এতটা আড়ম্বড়ের সঙ্গে স্বাগত জানায়নি চীন।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ দিতে চীনকে আহŸান জানান তিনি। বেইজিংয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সময় দ্রæত চলে যাচ্ছে’। আমাদের খুব তাড়াতাড়ি কিছু করতে হবে। আমি আশা করি, অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে এই সমস্যার সমাধানে চীন দ্রæত এবং আরও কার্যকরভাবে কাজ করবে। এই সময় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করায় জিনপিংকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, চ‘ীনের প্রেসিডেন্ট যদি এ বিষয়ে গভীর মনোযোগ দেন সমাধান সম্ভব। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

চীন সফর শেষে শুক্রবার এপেক সম্মেলনে অংশ নিতে ভিয়েতনাম সফরে যাবেন ট্রাম্প। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন তিনি। সেখান থেকে ফিলিপাইনে গিয়ে সফর শেষ করবেন ট্রাম্প। সিএনএন, গেøাবাল টাইমস, সিনহুয়া নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ