প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিবিসির সাক্ষাৎকারে নূর খান লিটন
নিখোঁজের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে পুলিশ জিডি বা মামলা নেয় না

নাসরিন বৃষ্টি: সম্প্রতি বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে বেশ জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে অন্তত একজন করে প্রভাষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়িক, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মোবাশ্বের হাসান সিজারও।  গত মঙ্গলবার থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তাকে।  সাংবাদিক উৎপল দাসের হদিস নেই এক মাস ধরে।  নিখোঁজদের কেউ কেউ ফিরে এলেও দীর্ঘদিনেও অনেকের কোনো সন্ধান নেই। কিন্তু এ রকম ক্ষেত্রে নিখোঁজদের পরিবার কতটা আইনগত সহায়তা পায় এই নিয়ে বিবিসির মুখোমুখি হয়েছিলেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন।

নূর খান লিটন বলেন, পরিবার বা প্রত্যক্ষদর্শী থেকে যে বর্ণনা পাওয়া যায় তখন এর সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বা সন্দেহ থাকে। তখন পুলিশ জিডি আকারে বা মামলা আকারে কোনোভাবেই তা গ্রহণ করে না।

একজন নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্য জিডি করতে চাইছে, কিন্তু পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তখন কী করণীয় থাকে?

জবাবে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে কোর্টে যেতে হবে, কিন্তু কোর্টে গেলেই যে সুরাহা হবে তা নয়, কারণ কোর্ট পুলিশকে তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই এটি কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছায় না।

যদি কেউ ফিরে আসেও, সে কিভাবে ফিরে আসলো সেই ব্যাপারে জানার জন্য পুলিশদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায় না।

যেসব নাগরিক ফিরে আসে তারা ফিরে আসলেও তাদের মধ্যে আতঙ্ক বা ভীতি কাজ করে, তাই পরবর্তীতে তারা পুলিশের কাছে যেতে সাহস পায় না। অপরপক্ষে, পুলিশও তেমন আগ্রহ প্রকাশ করে না।

যারা পরবর্তীতে ফিরে আসে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না কেন?

জবাবে এই মানবাধিকারকর্মী  বলেন, সমাজ এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে, যেখানে বিচারহীনতা, অরাজকতায় পুরো সমাজকে গ্রাস করে ফেলছে। ফলে, শুভ উদ্যোগ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ বা আইনের আশ্রয় লাভের যে অধিকার তা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

আনিস/

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ