প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাত কোচের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি
যাঁরা শেখাবেন, তাঁদের সনদেই গন্ডগোল!

ডেস্ক রিপোর্ট : ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিশোর ও তরুণদের শিক্ষিত করার দায়িত্ব যাঁদের, সেই কোচদের বিরুদ্ধেই উঠেছে শিক্ষাসনদ জালিয়াতির অভিযোগ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এমনটাই পাওয়া গেছে।

দুদক বলছে, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—বিকেএসপির সাতজন কোচ স্নাতক পাসের জাল সনদ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন খেলার কোচ পদে চাকরি নিয়েছেন। এখন তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

আজ বুধবার দুদকের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। শিগগিরই মামলা করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা সাতজন কোচের চারজনই দুদকের তদন্ত শুরুর মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বাকি তিনজন চাকরিতে বহাল রয়েছেন।

তবে বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সামছুর রহমান বলেন, চারজন নয়, পাঁচজন চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর এঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অনুসন্ধান করা হয়। তখন পাঁচজন বিভিন্ন সময় চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে যান।

অভিযুক্ত সাতজনের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম এ বিষয়ে অনুসন্ধান করছেন। কমিশন ২০১৬ সালে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে। এরপর মামলার অনুমোদন চেয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হয়। আজ কমিশন এ মামলার ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছে।

অভিযোগ ওঠা সাতজন কোচ হলেন বিকেএসপির শুটিং বিভাগের প্রধান কোচ সৈয়দ আসবাব আলী, আরচারি বিভাগের কোচ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ফুটবল বিভাগের কোচ মোহাম্মদ মাকসুদুল আমিন (রানা), জুডোর কোচ মো. আবু বকর ছিদ্দিক, বক্সিংয়ের কোচ মো. আবু সুফিয়ান চিশতী ও মো. জহির উদ্দিন এবং জিমন্যাস্টিকসের কোচ কাজী আকরাম আলী।

অভিযুক্ত কোচদের মধ্যে চাকরিতে এখনো বহাল আছেন জুডোর কোচ মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং বক্সিংয়ের কোচ মো. আবু সুফিয়ান চিশতী। বাকি পাঁচজন গত বছরের বিভিন্ন সময়ে চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছেন।

দুজন এখনো বহাল থাকা প্রসঙ্গে বিকেএসপির মহাপরিচালক বলেন, এই দুজন দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অবৈধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। তাঁদের যুক্তি হলো, তাঁরা তো পড়াশোনা করেই সনদ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়েরও অনুমোদন ছিল। এখন সনদ অবৈধ বলে তাঁদের পড়াশোনা কীভাবে অবৈধ হয়। এ জন্য তাঁরা আইনগত ব্যবস্থায় যাচ্ছেন। আর এখন বিষয়টি দুদক দেখছেন। ফলে বিকেএসপি অভিযোগ ওঠা কোচদের বিরুদ্ধে আপাতত কিছু করছে না।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সৈয়দ আসবাব আলী ও মো. জহির উদ্দিন বিএসসি (সম্মান) পাসের জাল সনদ দেখিয়ে চাকরি নিয়েছিলেন। তাঁরা এরই মধ্যে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে বিএসএসের (সম্মান) জাল সনদ ব্যবহার করেছেন কাজী আকরাম আলী ও মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। আর মোহাম্মদ মাকসুদুল আমিন, মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও মো. আবু সুফিয়ান চিশতী বিএ (সম্মান) পাসের জাল সনদ দেখিয়েছেন। দুদক তাঁদের সবার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে।

সূত্র : প্রথমআলো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ