প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পার্বতীপুরে ১০ মাসে ১০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ

সোহেল সানী, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) : দিনাজপুর পল্লী-বিদ্যুৎ সমিতি-২, পার্বতীপুর পল্লী-বিদ্যুৎ জোনাল অফিস গত ১০ মাসে ১০ হাজার গ্রাহকের মাঝে বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮নভেম্বর) পল্লী-বিদ্যুৎ অফিসে ছিলো নতুন গ্রাহকদের উপছে পড়া ভীড়।

জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলা ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ উপজেলায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮৫০ জন মানুষের বসবাস। এখানে ভোগান্তির অপর নাম ছিলো পল্লী-বিদ্যুৎ অফিস। আজ থেকে দুই বছর পূর্বে উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকদের পার্বতীপুর পল্লী-বিদ্যুৎ জোনাল অফিস দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় দালাল চক্রের কারণে ভালে সেবা দিতে পারেনি। এখানে একজন সাধারণ গ্রাহক সেবা নিতে এসে চরম হয়রানি শিকার হতো। এতে অন্ধকার হয়ে পড়ে মানুষের জীবন যাপনের একমাত্র সঙ্গী।

এদিকে, গত ৪ জানুয়ারি পার্বতীপুর পল্লী-বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে বর্তমান ডিজিএম মজিবুল হক যোগদানের পর পাল্টে গেছে পল্লী-বিদ্যুতের সার্ভিস সেবা। তিনি যোগদানের কিছুদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ অফিসকে দালাল মুক্ত করেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দিতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন মহলের রোষানলেও পড়েছেন। অল্পসময়ে তিনি উপজেলার মানুষের কাছে সৎ অফিসার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। মানুষ সরাসরি এসে ওনার সাথে সমস্যার কথাগুলো মন খোলে বলতে পাড়ছে। তিনি যোগদানের পর এপর্যন্ত শুধু জামানত নিয়ে ১০ হাজার গ্রাহকদের মিটার লাগিয়ে দেন। এছাড়া ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়ে স্পট মিটারিং সংযোগ প্রদান অর্থাৎ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে একই দিনে আবেদন গ্রহন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি গ্রাহকদের প্রতারক চক্রদের হাত থেকে বাচাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে ৪ হাজার সংযোগের অনুমোদন করে। সরাসরি গত এক সপ্তাহে সংযোগ প্রত্যাশি প্রায় ২শ’ গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার ফি বাবাদ ৬৫০ টাকা জামানত গ্রহণ করেন, এতে অফিসের কর্মকর্তারা চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। একাজে লোক সংখ্যা কম থাকায় অফিসের অন্যান্য কাজ বন্ধ রেখে গ্রাহকদের সেবা দিতে নিদের্শ দেন পার্বতীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মুজিবুল হক।

পার্বতীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিঠুন কুমার বলেন, বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়ার আশায় হাজার হাজার টাকা দিয়েও বছরের পর বছর ঘুরেছেন, কিন্তু সংযোগ পাওয়াতো দুরের কথা শেষ পযর্ন্ত টাকাও ফেরৎ পায়নি অনেকে। সরাসির মিটার বাবদ মাত্র ৬৫০ টাকা জামানত জমা দিয়ে কোন রকম হয়রানী ছাড়া সংযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। আর এটা সম্ভব হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান এবং পল্লী-বিদ্যুতের কর্তৃপক্ষকের কারনেই। বিদ্যুৎ অফিসের এই আমূল পরিবর্তন দেখে হতবাক হয়েছেন উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের দেগলাগঞ্জ গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের হঠাৎ করে এই পরিবর্তন দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। আগে সংযোগের জন্য আবেদন করে বছরের পর বছর ঘুরতে জুতা ক্ষয় হতো গ্রাহকদের। অথচ তিনি আবেদনের দুই দিনের মাথায় বিদুৎ সংযোগ পেয়েছেন। ভাবতেও অবাক লাগছে তাকে।

এ বিষয়ে পল্লী-বিদ্যুৎ পার্বতীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মজিবুল হক বলেন, গ্রাহকদের যাতে কোনো ভোগান্তি না হয় তার জন্য গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পুরো বিদ্যুৎ অফিসকে নিয়ে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এব্যবস্থা চালু করায় টাউট বাটপারদের দৌরাত্ব কমে গেছে। পার্বতীপুরে বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। প্রত্যেককে শতভাগ সেবা দিতে পারছিনা। এতে সবার মন রক্ষা করাও আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এর পরেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি গ্রাহকদের সেবা প্রদানের লক্ষে। গ্রাহকদের কোন রকম হয়রানি ছাড়া নিখুত সেবা প্রদান করতে গিয়ে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে স্বতপূর্ত সেবা প্রদান করতে যা যা করনীয় আমরা তাই করবো। গ্রাহকদের জন্য আমাদের এ সেবা সব সময় অভ্যাহত থাকবে। ব্যাতিক্রম উদ্যোগ নিয়ে স্পট মিটারিং বিদ্যুৎ সংযোগে গত ১০ মাসে ১ হাজার ৫শ’ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর ১০০ ভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আসবে গোটা পার্বতীপুর উপজেলা। এর ফলে গ্রাহক বাড়বে ২০ হাজার।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ