প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাবে বিএনপি (ভিডিও)

আশিক রহমান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান করে আওয়ামী লীগ বা সরকার যদি ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগের প্রস্তাবটি আবারও দেয় তাহলে তা গ্রহণ করা উচিত বিএনপির। আমার ধারণা তারা তা গ্রহণ করবে। এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাব মেনে, তার অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাবে বিএনপি।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে খালি মাঠে গোল দিতে পারবে না আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। তবে মারধর করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগেরই ক্ষতি হবে। এমন কিছু না করে সুষ্ঠু নির্বাচন করাটাই হবে আওয়ামী লীগের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।টিভিএনএ ও আমাদের অর্থনীতিকেও দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচন ভালো হবে। জালভোট অনেকাংশেই কমে যাবে। তবে নির্বাচন কমিশনকে কিছু কাজ করতে হবে। তাদেরকে প্রত্যেক প্রার্থীর হলফনামা প্রকাশ করে দিতে হবে। টাকার খেলাটাও বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্ধেকের মতো লোক বিএনপির সমর্থক। আওয়ামী লীগ, ওয়ার্কাস পার্টি ও ইনু সাহেবের দল নিয়ে নির্বাচন হলে তো কেউ মানবে না। বিগত নির্বাচনে সিপিবি, গণফোরাম, বিকল্পধারা, কাদের সিদ্দিকী ও আ স ম রব-এর দলসহ অনেক দলই সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। আগামী নির্বাচনে যদি এসব দলকে বাইরে রেখে হয়, তাহলে তা কেউ মানবে বলে মনে হয় না।

এক প্রশ্নের জবাবে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, রাজনীতি এখন সরকারের হাতে। সরকার যদি মনে করে খালি মাঠে গোল দিবে তাহলে অত্যন্ত ভুল কাজ হবে। সরকারের এক নম্বর কাজ হবে দেশে সুষ্ঠু একটা নির্বাচন দেওয়া। দুটি দল ছাড়া প্রায় প্রতিটি দলই বলেছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করতে হবে। তবে তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়ার দরকার নেই। তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা বাড়বে। এবং সেটি করাও উচিত।

তিনি বলেন, সুশাসনের জন্য দরকার সুষ্ঠু নির্বাচন। এখন যে শাসন চলছে, কথায় কথায় মামলা দেওয়া হচ্ছে। ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। গুম করে দেওয়া হয়। এসব কোনোমতেই ভালো লক্ষণ নয়। সকল দলকে নিয়ে আগামী জাতী নির্বাচন করতে হবে। বিএনপি একটা মিটিং করতে চায়, সেটারও অনুমতি দেওয়া হয় না। এটা কেমন কথা। এসব ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। সেটা নিয়ে এখন বলার আর কিছু নেই। তবে ওই সময় প্রধানমন্ত্রী একটা ভালো প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের নেতৃত্বে উনি থাকবেন, বিএনপি যেকোনো মন্ত্রণালয় নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মান্যগণ্য মানুষ, তার কথার তো হেরফের হতে পারে না। যেটা তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, সেই প্রস্তাব এখনো থাকতে পারে। সেই ভিত্তিতেই নির্বাচনকালীন সরকার হবে, তাতে অসুবিধা কোথায়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী বলেন, সরকার অনেক ভালো কাজও তো করেছে। কৃষি, অবকাঠামোখাতসহ বিভিন্ন খাতে তারা ভালো করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন ভয় পাচ্ছে। কেন ভয় পাচ্ছে তা আমি জানি না। যদি ভয়ই না পাবে তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার রোহিঙ্গা পরিদর্শনে চার দিনের সফরকে কেন্দ্র করে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলো ঘটল কী করে। তার এ সফরকে এত ভয় পেতে হবে কেন। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাকে বরং আরও থাকার জন্য উৎসাহিত করা উচিত ছিল। তাতে সরকার বা আওয়ামী লীগের কী ক্ষতি হতো। কিছুই না।

তিনি বলেন, ফেনিতে যে ঘটনা ঘটল তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা উচিত ছিল। কারণ এখানে হয় তারা যুক্ত, না হয় এটা তাদের ব্যর্থতা। এ জায়গাটায় কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবস্থা নিচ্ছেন না আমি জানি না। এটা করে সরকার নিজের ক্ষতি করছে বলেও মনে করেন এই রাজনৈতিক ভাষ্যকার।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ