প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা রয়েছে : দিলীপ পাল

মাছুম বিল্লাহ : উত্তর-পূর্ব ভারতের ৮টি রাজ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে আসামের ডেপুটি স্পীকার দিলীপ কুমার পাল বলেছেন, উত্তর-পূর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে সুস্থ্য বাতাবরণ তৈরি হবে।

৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সে যোগদিতে ঢাকা আসা আসামের ডেপুটি স্পীকার সোমবার রাতে হোটেল সোনাগাঁওয়ে আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, আজকের দিনে কিভাবে উন্নত দেশগুলো উন্নত করছে সেদিকে নজর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশেরও উন্নয়ন করা দরকার। দুই দেশের বিশাল বাজার রয়েছে। এটিকে কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কাজও হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যসহ বিভিণœ পণ্য উত্তর-পূর্বের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেটিকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বে উৎপাদিত অনেক পণ্যের বাংলাদেশে বাজার সৃষ্টির জন্য এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের কাজে লাগাতে হবে।

বর্তমানে ভারতে হিন্দু বাঙালীদের নাগরিকত্ব নিয়ে বাধা-বিপত্তি, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন এবং পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে অবিশ্বাসের যে বাতাবরণ তৈরি হয়েছে; এটা সাতচল্লিশের দেশভাগের ফসল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, আজকে ভারতে হিন্দু বাঙালীদের নাগরিকত্ব নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। হিন্দুরা বাঙালিরা কি দোষ করেছে। তারা তো দেশ ভাগ চায়নি। তখন বেশিরভাগ মানুষই দেশভাগ চায়নি। কয়েকজন নেতার লোভের ফলে দেশ ভাগ হয়েছে। যার কুফল এখনো আমরা বয়ে চলেছি। আজকে ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দু-মসলিমের মধ্যে যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, এই দেশ ভাগেরই ফসল। সেটা সমাধান করতে লাগবে। কারণ এভাবে কোন জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। হিন্দু হউক আর মুসলিম হউক সম্মিলিতভাবে এর সমাধান করতে হবে। উন্নয়নের জন্য এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের সংসদে গতবছর হিন্দু নাগরিকত্ব বিল উত্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু একটি বড় রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার অভাবে সেটা আটকে রয়েছে। ওরা চায় হিন্দু বাঙালীর সমস্যার সমাধান হউক। যদি মানবিক দৃষ্টিকোনর থেকে দেখি, তাহলে হিন্দুরা কি ভুল করেছে। হিন্দুরা তো দেশ ভাগ চায়নি। বেশিরভাগ মানুষই দেশভাগ চায়নি। কয়েকজন নেতার লোভের ফলে দেশ ভাগ হয়েছে। যার কুফল এখনো আমরা বয়ে চলেছি।

তিনি বলেন, ভারত আমার মাতৃভূমি, বাংলাদেশ আমার পিতৃভূমি। এখানে আমার অনেক আত্মীয় স্বজন আছেন। অনেক দু:খজনক ঘটনাও ঘটেছে। ব্রহ্মণবাড়িয়ায় আমাদের অনকে আত্মীয়-স্বজন আছেন। মনে হল যখন সুযোগ পেলাম ১০-১৫ দিন ঘুরে বেড়াবো। কিন্তু সেটা সম্ভব হল না। নিরাপত্তার কারণে অনুমোদন মেলেনি। বাংলাদেশ সরকার ঠিকই করেছেন। এখানে একটা আর্ন্তজাতিক সম্মেলন চলছে। আমি এসেছি প্রতিনিধি হিসেবে। যদিও এখানে ভয়ের কোন কারণ নেই। আমি জানি বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। যেটা আমাদের দেশও পারেনি। এটা প্রসংশার যোগ্য। তবুও তারা রিস্ক নেয়নি। তবে আমি পরে ব্যক্তিগত সফরে আসবো। পুরো বাংলাদেশ ঘুরবো। ধর্মীয় স্থানগুলো-পুরানো মন্দিরগুলো দেখবো। এখানকার হিন্দুদের সঙ্গে কথা বলবো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত