প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসরায়েলের জঙ্গি বিমান স্কোয়াড্রনে উপপ্রধান নারী

রাশিদ রিয়াজ : ষোল বছর আগে ইসরায়েলের বিমান বাহিনীতে প্রথম নারী বৈমানিক হয়েছিলেন রনি জাকারম্যান। কিছুদিন আগে দেশটির বিমান বাহিনীর প্রধান আমিকাম নরকিন ড্রোন ইউনিটের দুটি শীর্ষ পদে দুই ইসরায়েলি নারীকে নিয়োগ দেন। এরা দুজনই জেনারেল পদমর্যাদার। সর্বশেষ আরেক ইসরায়েলি নারীকে একটি ফাইটার জেট স্কোয়াড্রনের ডেপুটি কমা-ার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। সেন্ট্রাল ইসরায়েলের টেল নফ বিমান ঘাঁটি থেকে এই স্কোয়াড্রনটি এফ-ফিফটিন জঙ্গি বিমান পরিচালনা করে। টাইমস অব ইসরায়েল।

তবে ইসরায়েলের নারী সংগঠন ‘না’আমাত’এর প্রধান গালিয়া ওয়ালেক এধরনের নিয়োগের প্রশংসা করে বলেছেন, সমতার পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। গত সোমবার ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে ১৪ জন কর্নেল ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিয়োগ দেয়া হয় যাদের একজন হচ্ছেন নারী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তিজিপোরা ইরেজ-সাবতি। তিনি হোম ফ্রন্ট কমান্ডের পরিকল্পনা ও মতবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

এর আগে ১৯৯৩ সালে এ্যালিস মিলার ইসরায়েল বিমান বাহিনীতে বৈমানিকের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করলেও বিদ্রুপের মুখে তিনি বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। আদালত নির্দেশ দেয় মিলারকে বৈমানিক হিসেবে প্রশিক্ষণ চালিয়ে দেয়ার সুযোগ অব্যাহত রাখার। কিন্তু স্বাস্থ্যগত কারণে আর তার পক্ষে বৈমানিক প্রশিক্ষণ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

এর পাঁচ বছর পর এ্যালিস মিলারের অনুরোধে এবং পাঁচ দশক পর ইসরায়েল প্রথম নারী বৈমানিক পায়। শেরি রাহাত নামে এক ইসরায়েলি নারী বৈমানিক কোর্স সম্পন্ন করলেও এফ-সিক্সটিন জঙ্গি বিমানে নেভিগেটর হিসেবে কাজ করেন, মূল পাইলট হিসেবে নয়। তারও তিন বছর পর রানি জাকারম্যান ইসারায়েলের প্রথম গ্রাজুয়েট পাইলট হবার সুযোগ পান। তবে শারীরিক যোগ্যতার কারণে ইসরায়েল বিমান বাহিনীর অধিকাংশ বৈমানিক পুরুষ। অর্থডক্স রাব্বিরা বিমান বাহিনীতে নারী ও পুরুষকে এক সঙ্গে বৈমানিকের প্রশিক্ষণ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। আর তা না হলে পুরুষ পাইলটদের প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা।

তবে গালিয়া ওয়ালেক এক বিবৃতিতে এধরনের হুমকির বিরুদ্ধে বলেছেন, একটা সময় ছিল যখন নারীদের বিমান বাহিনীতে বৈমানিক হওয়ার বিষয়টি ছিল বিস্ময়কর অর্জন ও আকাশের সীমা লঙ্ঘনের মত ব্যাপার। কিন্তু এখনো কিছু মানুষ ইসরায়েলে রয়েছে যারা নারীদের সেনাবাহিনীতে দেখতে চান না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ