প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারত বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী দেখতে চায়: আসাম স্পিকার (ভিডিওসহ)

এনামুল হক: ভারতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তন হয়। বাংলাদেশেও এ পদ্ধতি চালু আছে। আমরা চাই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হোক। নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ। এখানে আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটা খুবই ভাল সম্পর্ক। এই সম্পর্কটা অটুট থাকুক সেটাই আমাদের চাওয়া। সিপিএ সন্মেলনে এসে ভারতের আসাম বিধান সভার স্পিকার হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী টিভিএনএ’কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ সফর করছেন কেমন লাগছে?

হিতেন্দ্র নাথ গোস্বামী : খুবই ভাল লেগেছে। আতিথিয়তা খুবই ভাল। মানুষের সঙ্গে কথা বলেও ভাল লাগছে। এখানকার সব মানুষ খুবই সমাদর করছে।

প্রশ্ন: কমনওয়েলথ সম্মেলনে আপনাদের মূল ফোকাস কি ছিল?

হিতেন্দ্র নাথ গোস্বামী : সংসদ সদস্যদের ক্ষমতায়ন। কীভাবে তাদের ক্ষমতায়ন করবে সেটাই ছিল মূল ফোকাস। সম্মেলনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার হয়েছে। গ্রুপ মিটিং হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল এবারের সিপিএ সম্মেলনে নতুন কমিটি হবে।

প্রশ্ন: এবারের সম্মেলনে আন্তঃযোগাযোগ, কান্ট্রি টু কান্ট্রি ভারতের রাজ্য সরকারের বাংলাদেশের এবং অন্য সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়ে আপনাদের কি ধরনের চিন্তা-ভাবনা আছে?

হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী : কমনওয়েল্থ পার্লামেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সংসদ ও সংসদীয় গণতন্ত্রের উন্নয়ন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অনেক দেশ গরীব আছে, ধনী আছে এবং কিছু দেশ উন্নয়নশীল দেশ আছে। অনেক ছোট দেশ আছে অনেক বড় দেশ আছে। এসব দেশগুলোর যাতে উন্নয়ন হয়, সংসদীয় গণতন্ত্রের যাতে উন্নয়ন হয় এবং অর্থনীতি যাতে ভাল হয়, সকলের মাঝে ঐক্য থাকে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি যাতে ভাল হয় সেই সব বিষয় উঠে এসেছে।

প্রশ্ন: সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কি আলোচনা হয়েছে?

হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী : রোহিঙ্গা বিষয়ে বিস্তারিত কোন আলোচনা হয়নি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি উত্থাপন করেছিল। আর আমি একজন ভারতীয় প্রতিনিধি হিসেবে বলতে চাই, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে নিয়ে ভারতের অবস্থান পরিস্কার করেছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ভারত যতটুকু পারবে সহায়তা করবে। ইতোমধ্যে আমরা বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। ভারতের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর কিভাবে এই রোহিঙ্গা সমস্যাটা সমাধান করা যায় সে বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে আর কিছুদিন পরেই নির্বাচন। ভারতের ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আপনি কেমন নির্বাচন দেখতে চান?

হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী : দেখুন আমি অন্যদেশের একজন প্রতিনিধি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করা আমার ঠিক হবে না। আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক একটি পদ্ধতি আছে, বাংলাদেশেও আছে। আমি চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা শক্তিশালী হোক। নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ। এখানে আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটা খুবই ভাল সম্পর্ক। এই সম্পর্কটা অটুট থাকুক সেটাই আমার চাওয়া।

প্রশ্ন: ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, দুই দেশের মধ্যেই আমদানি-রপ্তানি হয়। আসামের সঙ্গেও আমাদের চারটা স্থলবন্দর রয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে আপনাদের পরিকল্পনা সর্ম্পকে বলুন ?
হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী : এ বিষয়টি নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে আমি মনে করি বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সবচেয়ে ভাল সম্পর্ক বিরাজ করছে। বিষয়টি ধীরে ধীরে সমাধান হবে। আর আমাদের রাজ্যে আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। এর কারণ চিহ্নিত করে অলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

প্রশ্ন: আসাম থেকে বিদ্যুৎ আসছে, আমাদের এখান থেকে বিভিন্ন পণ্য যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে আসামে আরও পণ্য নিতে আপনারা কি কোন পদক্ষেপ নিবেন?

হিতেন্দ্র নাথ গোস্বামী : ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়টির সিদ্ধান্ত হয় দ্বিপাক্ষিক। এ বিষয়ে আমরা কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। তবে দুই দেশের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তা আরও কিভাবে শক্তিশালী করা যায় সেটা আমাদেরও চাওয়া। এ বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিবেশির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সব ধরনের উদ্যোগ ভারত নিবে।

প্রশ্ন: আসামে বাঙালী ইস্যু নিয়ে রাজনীতি হয়? এ সমস্যা সমাধানে আপনারা কি উদ্যোগ নিচ্ছেন?
হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী : এ বিষয়ে আমি বলতে চাই আমাদের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনের (এনআইসি) কাজ চলছে। সুপ্রিম কোর্টের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। এনআরসির কাজ শেষ হলেই এ সমস্যাটার সমাধান হবে।

প্রশ্ন: বিষয়টি নিয়ে অনেক রাজনৈতিক দল আন্দোলন করছে, সমস্যাটা সমাধান কিভাবে হবে?

হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী : বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলতে পারবো না। কারণ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যেখানে রায় দিয়েছে, সেটা নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।

প্রশ্ন: এখন থেকে বাঙালীরা আসামে নিরাপদে থাকবে?

হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী : হ্যা তারা নিরাপদে থাকবে। সেখানে কোন সমস্যা নাই। তবে আমাদের লোকাল কিছু প্রবলেম আছে। যদিও আমার এ বিষয়ে বলা ঠিক হচ্ছে না। আমরা অবৈধ নাগরিকদের স্থান দিব না। কারণ এতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। এনআরসির কাজ শেষ হলে সেটার সমাধান হয়ে যাবে।

ঢাকায় এসে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী: আপনাদেরও ধন্যবাদ। সম্পাদনা: মাছুম বিল্লাহ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত