প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে এ অভিযান

ড. দেলোয়ার হোসেন : সৌদি আরবে দুর্নীতির অভিযোগে ১৪ জন প্রিন্স, ৪ মন্ত্রী ও অনেক সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হলেও মূলত সৌদি যুবরাজ সালমানের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। অনেক আগ থেকেই যুবরাজ সালমান তার ক্ষমতাকে পোক্ত করার চেষ্টা করে আসছে। এটা মূলত প্যালেস পাওয়ার সংগ্রামেরই অংশ। গ্রেফতারের পেছনে দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যকে ছাপিয়ে আরও কিছু রয়েছে। বিশেষ করে যুবরাজের সম্ভাব্য বিরোধীদের সরিয়ে দিতেই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। যেহেতু তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে ছিল তাই তারা তাদের ক্ষমতাকে শক্ত করার জন্য এই অভিযান পরিচালনা করেছে। সৌদি আরব এখন ক্রিটিক্যাল পজিশনে আছে। তারা এখন নিজেদের মধ্যে মতবিরোধসহ নানা ধরনের ক্রাইসিসে রয়েছে। প্রিন্স বিন তালালের গ্রেফতারে দেশটির বিনিয়োগে বিরাট একটা প্রভাব পড়তে পারে। কারণ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শত কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালালের। এই অভিযানের রেশ কতটা হজম করতে পারবে সেটাও দেখার বিষয়। এটা খুবই অগ্রহণযোগ্য, অপ্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা জানি, রাজ পরিবারের সদস্য যারা থাকেন অতীতে এবং বর্তমানে তারা কত সম্পদশালী। তারা কত সম্পদের মালিক তা অনেকেরই অজানা। এ অবস্থায় দুর্নীতির নামে এ ধরনের অভিযান এলে বুঝাই যায়, নিজেদের স্বার্থ বা ক্ষমতাকে হাসিল করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে আমি মনে করি, সৌদি আরব ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সৌদি আরব যে ধরনের চাপে রয়েছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো থেকে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য বিষয়ে সে অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত এই সংকটগুলোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। এটা হয়তো সৌদি আরবের ক্ষতি হলেও জনগণের কিছু যায় আসে না বা তারা জানবেও না। কিন্তু আমি বলব, এ ঘটনায় দেশটির ভেতরে তাদের প্রভাব কমে যাবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবটা আরও বেড়ে যাবে।
পরিচিতি : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাবি
মতামত গ্রহণ : সাগর গনি
সম্পাদনা : খন্দকার আলমগীর হোসাইন

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ