প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ সমাজ ঐশীদের হাতে জিম্মি

 

প্রফেসর শাহেদা ওবায়েদ : জোড়া খুন বলে কথা। যেভাবে খুন হচ্ছে সারা দেশে এটা খুবই আতঙ্কের ব্যাপার। যারা এগুলো করছে তারা জানে যে, কোনো না কোনো ভাবে তারা পার পেয়ে যাবেই। এত পুলিশ, এত মামলা, এতকিছুর পরও তাদের ভয় হয় না। তারা জানে, কোনো না কোনো ভাবে তারা বেঁচে যাবে। আমি সৌদি আরবের একটা আইনের পক্ষে, সেখানে খুন বা চুরি করলে হাত কেটে ফেলা হয়। সেজন্য সৌদি আরবে প্রকাশ্যে জিনিস পড়ে থাকলেও কেউ চুরি করে না। এজন্য দেশে মার্শাল ল জারি করে বিচার করা উচিত। প্রকাশ্যে বিচার করে প্রকাশ্যে ফাঁসি দিলে কেউ আর খুন বা চুরি করতে সাহস পেতো না। এছাড়া এই খুন বন্ধ করার আর কোনো উপায় নেই। যতগুলো আইন, ততগুলো ফাঁক ফোঁকর। আইনের ফাঁক দিয়ে এরা ঠিকই বেরিয়ে যায়। যেভাবে গুম, খুন, লুটপাট, ধর্ষণ হচ্ছে এটা থেকে যদি বেরিয়ে আসতে হয় এর জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল বানিয়ে প্রকাশ্যে এটার বিচার হবে। প্রকাশ্যে শাস্তি দিতে হবে। এর কোনো আপিলের সুযোগ থাকবে না। একটা মানুষের জীবন যদি নিয়ে নেওয়া হয়. সেই মানুষের জীবন যদি ফিরিয়ে না দিতে পারে. তাহলে কিসের আপিল? টাকা চুরি করলে টাকাটা ফেরত দেওয়া যায়। মানুষ খুন করলে তাকে তো ফেরত দেওয়া যায় না। তাহলে আপিল কিসের?
মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের খুন বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে মাদক। এত বেশি মাদকের হার বেড়েছে যে, মানুষ যখন মাদক গ্রহণ করে, তার তখন হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। ভাল মন্দ জ্ঞান থাকে না। পরকীয়া থাকবে, সম্পত্তির গ-গোল থাকবে। পরকীয়া কি আগে ছিল না? আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে কি পরকীয়া হয়নি? তাই বলে মেরে ফেলতে হবে কেন? জমিদাররা একশটা নারী রাখত, সেটা কি পরকীয়া ছিল না? যেখানে যে মহিলা পছন্দ হয়েছে তাকে তুলে নিয়ে আসছে। এটা কি হয় নি? এভাবে যখন তখন মেরে ফেলা তো ছিল না। খুব বেশি হলে ডিভোর্স করে দিয়েছে। মুক্ত করে দিয়েছে। এখন যে একটাই চিন্তা যে, খুন করে ফেলব। এটা কি করে হয়? বনিবনা না হলে ডিভোর্স দিয়ে দাও ধর্মে আছে। আমরা শুধু নিচের দিকে যাচ্ছি। ধর্মীয়, পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে একেবারেই দূরে চলে যাচ্ছি। মানুষের মধ্যে সহনশীলতা কমে গেছে। মায়া মমতা একেবারেই নেই। আমরা সব হিংস্র জানোয়ারের মতো হয়ে গেছি। ধরে নাও আমি খুব গরিব, আমার কোর্টে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। তিনজন সাক্ষীর সামনে তালাক উচ্চারণ করে তালাক দিতে পারি। খুন করতে হবে কেন? খুন এমন একটা বিষয় যে একশ বছর পার হলেও তা জানা যাবে। লাশও বের হবে। এসব কিছুর মূলে হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়।
সামাজিক অবক্ষয়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে মাদক। মাদক খুব সহজলভ্য হয়ে গেছে। যারা মাদকে আসক্ত তারা যে কোনো কাজ করতে পারে। এক কথায় এর থেকে বের হওয়া যাবে না। যারা দেশ চালাচ্ছে তাদেরকে একদম ব্রত নিয়ে এটা বন্ধ করতে হবে। বিএনপি আওয়ামী লীগকে গালি দিল, আবার আওয়ামী লীগ বিএনপিকে গালি দিল । শেষ হয়ে গেল। এ রকম কিছু না। এটা একদম সাধনার মত করে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সমাজ একেবারে শেষ হয়ে যাবে। আমাদের মত সমাজে ঐশীর আবির্ভাব কেন ঘটে? ঐশীর মত মেয়ে কেন হয়? এ রকম হিংস্র কি করে হতে পারে মানুষ? একজন ঐশী কি সারা সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করে না? এ সমাজ ঐশীদের হাতে জিম্মি। এদের ব্রেন কাজ করে না। সহনশীলতা কম। যে বাবা মা তাকে ছোট থেকে বড় করেছে, লালন পালন করেছে, সেই বাবা মাকে মেরে ফেলল। যে খুন করে সে তো বেঁচে যায় না। তারও একই পরিণতি হয়।

পরিচিতি : শিক্ষাবিদ
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ