প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০১৯ সালের নির্বাচন কেমন হবে?

অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার : বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম। ২০১৯ সালের নির্বাচন কেমন হবে এ নিয়ে জাতির ভাবনার অন্ত নেই। কারণ জাতি যেহেতু ভোটার বিহীন একটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা জাতির রয়েছে সে কারণেই মানুষ মনে করে যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নহে। কারণ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(৩) ধারা মোতাবেক সমস্ত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর উপর ন্যস্ত রয়েছে। ফলে যিনি প্রধানমন্ত্রী থাকেন তার অধীনেই থাকে প্রশাসন এবং প্রধানমন্ত্রীর পূজা করা ছাড়া প্রশাসনের বিবেক অন্য কোনো কাজ করে না। যেমন: ২৮ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণের জন্য কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীতে ও ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে ফেরার পথে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়িবহরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ প্রমাণ করে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে অনুরূপ ঘটনাই ঘটবে, প্রেক্ষাপট তাহাই বলে। এ মর্মে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে সন্দেহ আরও ঘনীভুত হয়েছে। মানুষ কি পছন্দ করে বা না করে এতে তাদের কিছুই আসে যায় না, তাদের কাজ তারা করেই যাচ্ছে।
ক্ষমতা গ্রহণ ও অধিষ্ঠিত থাকা মানুষের মজ্জাগত অভ্যাস। ক্ষমতা যখন স্বৈরাচারে পরিণত হয় তখনই মানুষ এর পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করে, ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় একটি রূপরেখা তৈরি করে, পর্যায়ক্রমে যা আইনে পরিণত হয়। তেমনি ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’ এ শ্লোগান থেকেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন পদ্ধতি সাংবিধানিক স্বীকৃত পেয়ে আইনে পরিণত হয়।
দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু নৈতিকতার পরিবর্তন হয়নি। ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এ আর্দশের ভিত্তিতেই দেশ চলছে। ব্যতিক্রম কিছু ঘটেছে যেখানে মিডিয়া জোড়ালো ভূমিকা রেখেছে। সিলেটের রাজন হত্যা, নারায়নগঞ্জের ৭ খুন, প্রভৃতি বিচার হয়েছে একমাত্র মিডিয়ার বদৌলতে। কিন্তু দুঃখজনক এই যে, মিডিয়া নেতৃত্বও রাজনৈতিক কারণে দ্বিধাবিভক্ত। সত্য কথা এবং ইনসাফের কথা এখন কেহ বলতে চায় না। কোন কথাটি বললে বক্তা লাভবান হবে সে কথাটি বলতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করে। আবার সাধারণ মানুষ যা উপলব্দি করে নিরাপত্তার কারণে তাও বলতে চায় না। এ বিষয়গুলি রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতাসীনদের সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করে দিনে দিনে শাসকদের স্বৈরাচারে পরিণত করে।
ক্ষমতাসীনরা কোনো কারণেই ক্ষমতাহীন হতে চায় না। তাদের অর্জিত সম্পদ রক্ষা করাটাও এর অন্যতম কারণ। অন্যদিকে ক্ষমতায় থেকে যে অপকর্ম, অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচার করে তার প্রতিশোধের আসংখ্যাও ক্ষমতাসীনরা ছলে বলে কৌশলে ক্ষমতা অধিষ্ঠিত থাকতে চায়। ফলে তারা অপকৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে। সংবিধান থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচনের পদ্ধতিতে সংবিধান থেকে রদ ও রহিত করা অনুরূপ একটি অপকৌশল মাত্র। কিন্তু নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন পদ্ধতি সংবিধানে সংযোজন ছিল একটি আন্দোলনের ফসল। তবে কি, আন্দোলনের ফসল কি অপকৌশল ভেস্তে যাচ্ছে?

লেখক : কলামিষ্ট ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ