প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোর্টের নিদেশ মান্য করা সুনাগরিকের কর্তব্য

 

ডা. তাজুল ইসলাম : হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ মানা হচ্ছে না। হাইড্রোলিক হর্ন আমাদের অনেক ক্ষতি করে। কানের একটা সহ্য ক্ষমতা আছে। ডেসিবলের একটা নির্দিষ্ট সীমা আছে, যতটুকু শব্দ হলে আমরা শুনতে পারব। বেশি হলে শুনতে পারব না। যতটুকু জোরে বাজালে আমরা আরামদায়ক ভাবে শুনতে পারব। তার থেকে বেশি হলে আমাদের আঘাত লাগবে। আঘাত বেশি জোরে লাগলে আমরা বধির হয়ে যেতে পারি। কানে আর নাও শোনা যেতে পারে। মাথা ব্যথা হতে পারে। বমি বমি ভাব হতে পারে। বিরক্তি ভাব আসতে পারে। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা। রাগ উঠতে পারে। ঝগড়া-ঝাটি হতে পারে। মারামারিও হতে পারে। মানুষের সাথে সম্পর্ক শিথিল হয়ে যেতে পারে। সহনশীলতা একেবারেই কমে যায়। রুক্ষ মেজাজি, উগ্র মেজাজি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ডিপ্রেসন হতে পারে। এক সময়ে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে। এই বিরক্তি প্রতিদিন ঘটতে থাকলে মানুষ অসুখি জীবন যাপন করে। আমাদের দেশে আইনের কোনো অভাব নেই। হাইকোর্টে, সুপ্রিম কোর্টের রায় আমাদের জন্য যদিও বাধ্যতামূলক। কিন্তু আইন ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। ড্রাইভাররা সঠিক ভাবে আদেশ মানছে না। যেন এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দিচ্ছে। আইন প্রণয়ন করা বড় কিছু নয়। আইন মানাটাই হচ্ছে আসল কথা। সুনাগরিকের কর্তব্য হল আইন সঠিক ভাবে পালন করা। বিদেশে তারা কোনো হর্ন বাজায় না। এটা একটা কালচার, সংস্কৃতি। আমাদের এখানে প্রকাশ্যে ধুমপানে জরিমানা আছে। হর্নের জন্যও থাকা উচিত। কয়েকদিন লোক দেখানো করে। তারপর আর করে না। ভলিউমটা ৫০ ডেসিবল মাত্রার বেশি হলে সেটা শাস্তি যোগ্য হাইড্রোলিক হর্ন। জোরাল, কর্কশ। এসব চেক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো রকমের তাৎক্ষণিক শাস্তিসহ বিচার না করলে এই অবস্থার উন্নতি হবে না। শাস্তির পরিমাণ বেশি হওয়া উচিত।
পরিচিতি : চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ