প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সীমাহীন অনিয়ম

ডেস্ক রিপোর্ট : কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে নানা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, ডাক্তারশূন্যতা এবং দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড। এতদসত্ত্বেও হাসপাতালটির সার্বিক উন্নয়নে দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটি ল্যাব রুম খোলা থাকলেও সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও তা চালুর কোনো উদ্যোগ নেই। জরুরি রোগী বহনের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও অজানা কারণে সেটির চাকা ঘুরছে না দীর্ঘদিন ধরে। নামে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ১৯ শয্যা বিশিষ্ট শিশু ওয়ার্ডটি বন্ধ হয়ে আছে।

পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড মিলে ৩১টি শয্যা থাকলেও বেশির ভাগ সময় রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে থাকে। ডাক্তারশূন্য এই হাসপাতালে নার্স-আয়ারাই রোগীদের বিভিন্ন বারান্দা ও মেঝেতে স্থান করে দিয়েছে। সেখানে অসুস্থ রোগীরা বিভিন্ন রোগে কাতরালেও ২৪ ঘণ্টায় একজন ডাক্তারও মিলছে না তাদের ভাগ্যে। যার ফলে তারা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল ওই রোগীরা নিজের চিকিৎসার জন্য বাইরেও যেতে পারছে না। সোমবার দুপুর ১২টায় গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনে ২০-৩০ জন রোগীর দীর্ঘ সারি। আর তাদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন একজন সেকমো। তাকেও ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির লোকজন। ফলে নামে মাত্র চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিঘ্নিত হচ্ছে অপেক্ষমাণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা। অপরদিকে বহিঃবিভাগে গিয়ে দেখা যায়, অসহায় রোগীদের দীর্ঘ সারি। সেখানে তাদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন প্যারামেডিকেলে অধ্যয়নরত প্রশিক্ষনার্থী এক নারী। এসময় টিকিট কাউন্টারের খাতায় দেখা যায় ১১০ জন রোগীর ক্রমিক নম্বর।

ডাক্তারশূন্য এই হাসপাতালে মোট ২৫ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মাত্র ৪ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ডা. মোস্তারী বেগম ২ মাসের ট্রেনিংয়ে আছেন। এর মধ্যে ডা. আহসান হাবিব ও ডা. আ. সালামকেও বেশির ভাগ সময় দেখা মেলে না। বেশির ভাগ সময় দেখা মেলে তাঁদের পরিবর্তে কোনো সেকমো অথবা ভাড়াটিয়া লোক। ডা. সালামের সঙ্গে কথা হলে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনাদের ছেলেমেয়েদের ডাক্তারি পড়িয়ে হাসপাতালে বসান। বাইরের ডাক্তার আসতে চায় না, আমি কুড়িগ্রামের সন্তান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ডাক্তার সংকটের কথা শিকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মো. মাহফুজার রহমানের বলেন আমি সবেমাত্র যোগদান করছি। তবে হাসপাতালের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ