প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাইড্রোলিক হর্ন থানায় স্বেচ্ছায় জমা দিচ্ছেন না কোনও পরিবহন মালিক

ডেস্ক রিপোর্ট : মালিক-চালকদের কাছে থাকা যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়ার হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও কেউ জমা দিচ্ছেন না। ঢাকা মহানগরের থানায় খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কোন থানায় কোন মালিক সেচ্ছায় জমা দিচ্ছেন না। ট্রাফিক পুলিশকে অভিযান করেই অপসরণ করতে হচ্ছে হর্ন। তবে পরিবহন মালিকদের প্রশ্ন, হর্নটি ভেঙ্গে বা নিজেরা খুলে ফেলে দিলে তা থানায় জমা দিতে হবে কেন?
গত ৮ অক্টোবর মালিক-চালকদের কাছে থাকা যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন সংশ্লিষ্ট থানায় ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। এর আগে গত ২৩ আগস্ট রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২৭ আগস্টের পর কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হলে ওই পরিবহন জব্দেরও নির্দেশ দেন আদালত।
কিন্তু সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ঢাকার ৪৯ থানায় পরিবহন মালিকরা গিয়ে কোন হাইড্রোলিক হর্ন জমা দেননি। ডিএমপির গাবতলী সংলগ্ন থানা দারুসসালাম। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘পরিবহন মালিকরা কেউ হাইড্রোলিক হর্ন জমা দেননি। হাউকোর্টের আদেশের পরও যদি কেউ সেই আদেশ না মেনে চলে তাহলে ট্রাফিক বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে আইন আনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
মিরপুর, মোহাম্মদপুর থানাগুলোতেও কেউ হর্ন জমা দেয়নি। তেজাগাও ট্রাক স্টান্ডে অনেক ট্রাক ও পিক আপ ভ্যানে রবি ও সোমবার হাইড্রোলিক হার্ন দেখাগেছে। তবে এই এলাকার সংশ্লীষ্ট থানায় কোনও হাইড্রোলিক হর্ন জমা পড়েনি। তেজগাও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার থানায় কোনও মালিক এখনও হাইড্রোলিক হর্ন জমা দেননি।’
একই চিত্র যাত্রবাড়ী ও বনানী থানাতেও। এই এলাকাতেও ট্রাক, বাস মালিকরা কেউ থানায় হর্ন জমা দেননি। যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের আদেশটি সম্পর্কে জানি। কিন্তু কোনও মালিক আমাদের থানায় হর্ন জমা দেয়নি। আমাদের এলাকার ট্রাফিকের সহকারি কমিশনার (এসি) অভিযান চালিয়ে কিছু হর্ন জব্দ করেছিল। সেগুলো আমাদের থানায় জমা দেয়া হয়েছিল কিছুদিন আগে। তবে কেউ সেচ্ছায় আমাদের থানায় হর্ন জমা দেয়নি।’
হাইকোর্টের আদেশের পর রাজধানীতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ অভিযান চালিয়েছে নিয়মিত। তবে সেচ্ছায় কেউ হাইড্রোলিক হর্ন খুলছে না। অভিযান পরিচালনা করেই বাস, মিনিবাস ও ট্রাক থেকে হাইড্রোলিক হর্ন খুলতে হচ্ছে। ডিএমপির ট্রাফিকের পূর্ব বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মইনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবউনকে বলেন, ‘আমাদের দেশে আইন মানার চর্চা আশানুরূপ না। তাই আপনি আমি কেউ আশা করতে পারি না, মালিকরা সেচ্ছায় হর্ন থানাতে জমা দিয়ে যাবে। তাই আমাদের অভিযান চালিয়েই এই হাইড্রোলিক হর্ন অপসরণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘হাইড্রোলিক হর্নতো ব্যবহার আমাদের মোটরযান আইনেই নিষেধ করা হয়েছে। আইনতো আছেই। তারপরও হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। কিন্তু কেউ তা মানছে না। কেউ সেচ্ছায় হর্ন জমা দিচ্ছে না। আমরা নিয়মিতভাবে হাইড্রোলিক হর্ন অপসরণ করে যাচ্ছি। আগের চেয়ে অনেক কমে আসছে। তবে পুরোপুরি আমরা এখনও নির্মূল করতে পারিনি।’
তবে থানায় জমা দেয়া নিয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন পরিবহন মালিক নেতারা। মহাখালী বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘হাইড্রোলিক হর্ন আমরা এখন আর ব্যবহার করিছি না। এটা অনেক আগে থেকেই করছি না। তারপরও আমি বলবো, হাইড্রোলিক হর্ন থানাতে গিয়ে জমা দিতে হবে কেন, আমি আমার গাড়িরটা ভেঙ্গে ফেললে বা ফেলে দিলেই হলো। সেটা নিয়ে থানায় যাওয়ার কি আছে? আমরা হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করি না।’
তিনি বলেন, ‘হাইওয়েতে যেসব পরিবহনে হাইড্রোলিক হর্ন এখনও ব্যবহার হচ্ছে সেখানে কিন্তু এই আদেশ দেখছি আমরা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। হাইড্রোলিক হর্নের দোকানদার ও মজুতদারদের বিষয়ে কি হবে? সেখানে কেন বন্ধ করা হচ্ছে না?’
পরিবহন মালিক এই নেতা বলেন, ‘আমরাও চাই হাইড্রোলিক হর্ন যাতে না থাকে। কিন্তু সে বিষয়ে সবাইকে একই ছাতার নিচে আসতে হবে।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি সাদেকুর রহমান হিরু বলেন, ‘শ্রমিকরা ইচ্ছা করলেই পরিবহন থেকে কোন যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ খুলে ফেলতে পারে না। এটা মালিকদের বলতে হবে। তারা যখন নির্দেশ দিবেন তখন এই হর্ন খুলে তারা থানায় জমা দিবেন বা ফেলে দিবেন। কিন্তু আদেশটা মালিকদের কাছ থেকে আসতে হবে। যেহেতু পরিবহনটি শ্রমিকদের না। আমরা চাই হাইড্রোলিক হর্ন না বাজুক।’
ঢাকা মহানগরে চলাচলকারী যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। মালিকরা সেচ্ছায় হাইড্রোলিক হর্ন থানায় জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনও সারা না মেলার ব্যাপারে এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টিও দেখবো। এটাও আদালতকে জানাবো। কেউ যদি জমা না দিয়ে খুলে ফেলেন বা ভেঙ্গে ফেলেন সেটা ভিন্ন কথা। কেউ ব্যবহার না করলে সমস্যা নাই। তবে যদি কারও গাড়ির সঙ্গে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হবে। একটি আদালত অবমাননার জন্য অপরটি মোটরযান আইন ভঙ্গ করার জন্য।’
মনজিল মোরশেদের ওই রিটে বলা হয়, মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী যানবাহনে এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না যা শব্দ দূষণ করে। কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ