প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনির্দিষ্টকালের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবনের কার্যালয়ে ইউনিট-প্রধানদের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আগামী ১৭ নভেম্বর সকালে ‘এ’ ইউনিট এবং বিকেলে ‘বি’ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আগামী ১৮ নভেম্বর সকালে ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

‘এ’ ইউনিট-প্রধান এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. আবু তাহের জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফের সভাপতিত্বে ইউনিট-প্রধানদের সভায় ১৭ ও ১৮ নভেম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনিবার্য কারণ দেখিয়ে স্থগিত করা হয়। তবে কবে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তা ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিশ্রামে আছেন বলে জানান তাঁর বাসভবনের এক কর্মচারী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগে বাণিজ্য, আত্মীয়করণ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু, আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিচার ও অপসারণের দাবিতে গত ১৬ অক্টোবর থেকে আন্দোলন করছে শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ। তাঁর কার্যালয়েও তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন অনলাইনে শুরু হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর আবেদনের সময়সীমা শেষ হলেও তা বাড়িয়ে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়।

এ শিক্ষাবর্ষে ছয়টি অনুষদের অধীনে মোট এক হাজার ৪০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৫৪ হাজার ৮০৯ জন শিক্ষার্থী। ‘এ’ইউনিটে (বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ) সাতটি বিভাগে মোট ৩৫০টি আসনে ভর্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২৩ হাজার ৬২৫টি। ‘বি’ ইউনিটে (কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) আটটি বিভাগে ৪৫০টি আসনের বিপরীতে ১৯ হাজার ৩৭২ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) চারটি বিভাগে ২৪০টি আসনের বিপরীতে ১১ হাজার ৮১২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকেরা মনে করছেন, উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনে যেতে না পারায় ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষক সমিতি বলছে, তারা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। সে ক্ষেত্রে উপাচার্যকে বাংলোতে বসেই ভর্তি পরীক্ষা কমিটির কার্যক্রম চালাতে হবে। আর উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা বলছেন, উপাচার্যকে দপ্তরে এনেই ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে। এ অবস্থায় ১৭ ও ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। এ বছর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ৫৪ হাজার ৮০৯ জন শিক্ষার্থী নাম নিবন্ধন করেছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ