প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রকৃতিতে কমছে প্রজননক্ষম মা কাঁকড়া

মতিনুজ্জামান মিটু: প্রকৃতিতে কমছে প্রজননক্ষম মা কাঁকড়া। একই সঙ্গে কমছে প্রকৃতিতে উৎপাদিত কাঁকড়ার পরিমাণও। কাঁকড়া চাষের ব্যাপক প্রসার ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁকড়ার অধিক দাম থাকায় প্রকৃতি থেকে আহরণকরা গোনাড পরিপক্ক স্ত্রী ও পুরুষ কাকড়া সরাসরি বাজারজাত করায় এই বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁকড়া হ্যাচারি নির্মাণ ও কিশোর কাঁকড়া চাষ করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

উপকুলবর্তী কাঁকড়া আহরণকারি, চাষি, ডিপো মালিক, এবং স্থানীয় উপজেলায় কর্মরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ২০১৬ সালে ২০১৩ সালকে ভিত্তি ধরে এক জরিপ চালানো হয়। ওই জরিপের ফলাফল অনুযায়ি বাংলাদেশে ২০১৩ সালে সর্বমোট আহরিত কাঁকড়ার পরিমাণ ছিল ৩২২৫৫ দশমিক ০৬ মেট্রিক টন। যা ক্রমান্বয়ে কমে ২০১৬ সালে ২৫২৫৬ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টনে নেমে আসে। ২০১৫-২০১৬ সালে উৎপাদন হ্রাসের হার শতকরা ২১ দশমিক ৭০ ভাগ।

উপকুলীয় জেলা সাতক্ষিরায় কাঁকড়া উৎপাদন বিগত ৪ বছরে হ্রাস পেয়ে ২৬.২%, খুলনা জেলায় ১৯ .৪%, বাগেরহাটে ২৭.২০%, পিরোজপুরে ২৯.২০%, বরগুনায় ২৭.৪৪%, পটুয়াখালিতে ২৯.৮০%, ভোলায়২৯.৬২%, নোয়াখালিতে ২৯.৬৪%, চট্টগ্রামে ২৬.৬% ও কক্সবাজারে ২১.৯৪% হ্রাস পায়।

বহি:বিশ্বে প্রতিবছর যে পরিমাণ কাঁকড়া রপ্তানী এবং চাষের জন্য আহরণ করা হয় তার পুরোটাই মূলত প্রকৃতি নির্ভর। খুলনা, সাতক্ষিরা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে এ কাঁকড়া আহরণ করা হয়। এদেশে যে চাষ হয় তা মূলত প্রকৃতি থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করে মোটাতাজা করণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সরকারিভাবে এখনও কোনো হ্যাচারি না থাকায় প্রকৃত অর্থে এখানে কাঁকড়া চাষ হচ্ছেনা। কিন্তু হ্যাচারি নির্মাণ অধিক কারিগরি সম্পন্ন ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এ অবস্থা থেকে আপদকালীন সময়ে কাঁকড়া পোনা যোগানের জন্য কিশোর কাঁকড়া চাষ অত্যন্ত জরুরি।

প্রকৃতিতে কি পরিমাণ মা কাঁকড়া ও কাঁকড়া মজুদ আছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান এখনও জানা যায়নি। তাই প্রতিবছর আহরণের পর কি পরিমাণ কাঁকড়া অবশিষ্ট থাকছে তেমন কোনো ধারণাও নেই। তবে এসব বিষয় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে নানা ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানালেন, বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ এবং গবেষণা প্রকল্পের গবেষণা কর্মকর্তা সমীর সরকার।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ