প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে নাবিকদের

জাহিদ হাসান : ধারণা করা হচ্ছে সারা বিশ্বে যত বাণিজ্য করা তার ৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহন করা হয় জাহাজে। সমুদ্র পথে চলাচলকারী এসব জাহাজে যারা কাজ করেন তাদের জীবন সম্পর্কে খুবই কম জানা যায়। সম্প্রতি তাদের উপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে নাবিকসহ জাহাজে যেসব কর্মী আছেন তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ক্রমশই বাড়ছে।

এমনই একজন নাবিক আমা হাসেনু যিনি অর্থনৈতিক কারণে জাহাজে চাকরি নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন। ইউথোপিয়ার নাগরিক আমা হাসেনু ২০০৯ সালে জাহাজে চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন সমুদ্রে। মূলত অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা আকৃষ্ট হয়েই তিনি এ পেশা বেছে নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর থেকেই তিনি তার পেশার কারণে অনুতপ্ত হয়ে ওঠেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। সমুদ্রে তিনি ছিলেন মাত্র এক বছর।

তিনি বলেন, একটি লম্ব সময় ইঞ্জিন রুমে কাজ করতে হয়। সেখানে সব সময়ই একটি তিব্র শব্দ। কিছু যন্ত্রের নড়াছড়া ছাড়া সেখানে আর কিছুই নেই। সূর্য্যরে আলো, ঘুরে বেড়ানোর জন্য যথেষ্ট জায়গাও নেই জাহাজের ভেতরে। আমি যখন জাহাজে চাকরি করতাম তখন সবচেয়ে আমার বাড়িতে আমার নিজের বিছানা কথা মিস করতাম।

আমরা প্রত্যেকেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য কোনো না কোনো ভাবে এই শিপিং ইন্ডাস্ট্রির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই শিল্পের সাথে যারা জড়িত তাদের সম্পর্কে সাধারণ লোকজন খুবই কমই জানেন। ধারণা করা হয়, সারা বিশ্বে ১৫ লাখের মত মানুষ কাজ করেন। তাদের উপর সম্প্রতি একটি গবেষণা চালানো হয়েছে, তাতে দেখা গেছে এই পেশায় যারা আছেন তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

আমা হাসেনু বলেন, প্রথম যখন জাহাজে উঠি তারপর চার মাস আমার খুব খারাপ লেগেছিল। কয়েকবার আত্মহত্যার কথাও মনে হয়েছে। প্রথম কয়েক সপ্তাহ ছিল আমার জন্য খারাপ সময়। আমার মনে হতো জীবনে একটি বড় ভুল আমি করেছি। ফলে আমার সব সময় মন খারাপ থাকত। এবং কখনও কখনও আমি খুব কাঁদতাম। সারাক্ষণ আমার মতে হত এ আমি কি করেছি?

তিনি বলেন, যখনই তার মনের মধ্যে আত্মহত্যার ভাবনা আসত, তখনই তিনি জাহাজ থেকে ফোনে ইউথোপিয়ায় তার পরিবারের সাথে কথা বলতেন। সে সময় তিনি তাদের কাছে তার মানসিক অবস্থা গোপন রাখতেন। কারণ এ রকম একটি পরিস্থিতিতে আমার জন্য তারা কী এমন করতে পারত। তখনই আমি ভাবলাম এ রকম পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যায় না। আমাকে বাস্তবতার কথা চিন্তা করতে হবে। প্রথমে এ অবস্থায় আমি কী করতে পারি। এবং এই পরিস্থিতির ভেতর থেকে আমি কীভাবে বেরিয়ে আসতে পারি। এবং আরেকটি ভাবনা ছিল যে, আমি একটি জায়গার ভেতর আটকা পড়ে গেছি। এখান থেকে বের হয়ে আসার কোনো রাস্তা নেই। তখনই আমার মনে আত্মহত্যা করার ভাবনা তৈরি হত। মনে হত জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ছে হয়ত এথেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
এর কিছুদিন পরেই চারকি ছেড়ে দেন আমা হাসেনু। তবে সমুদ্র তার পিছু ছাড়েনি। গত পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছেন যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ শহরে। চাকরির কারণে সমুদ্রে যাদের জীবন কাটাতে হয় তাদের নিয়েই তিনি এখন গবেষণা করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ