প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুবরাজ সালমান ক্ষমতা মুঠোর মধ্যে আনতে চাচ্ছেন: নিয়াজ আহমেদ

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া: সৌদি আরবে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে ১৭ জন রাজপুত্র, ৪ জন বর্তমান এবং প্রায় ডজন খানেক সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেফতারের পর দেশটিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গ্রেফতারকৃত  ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি বিলিয়নিয়ার প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল থাকায় এটি আন্তর্জাতিকে মিডিয়ায় আরো বেশি গুরুত্ব পায়।

সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন রাজপরিবারের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতৃত্বে ব্যাপকভাবে রদবদল হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে নিজের ক্ষমতা জোরদার করেছে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান।

কিন্তু যা কিছু ঘটছে তা শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবকে কোন দিকে নিয়ে যেতে পারে?

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে বিবিসি বাংলার মুখোমুখি হন লন্ডনে বসবাসরত সৌদি আরবের রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষক সৈয়দ নিয়াজ আহমেদ।

তিনি বলেন, চার মাস আগে সৌদি রাজপুত্র মুহম্মদ বিন সালমানকে নতুন ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি তার ক্ষমতা মুঠোর মধ্যে আনতে চাচ্ছেন। তেলের যে দাম সেটা ইন্টারন্যাশনাল বাজারে কমে গেছে। সেটাতে তাদের অনেক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশেষ করে এই রয়েল ফ্যামিলির মধ্যে একটু মন কষাকষি হচ্ছে। এটা নিয়ে তিনি তার  ক্ষমতা কনসোলিটেড করতে চাচ্ছেন পলিটিক্যালি ও ইকোনোমিক্যালি। প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল ট্রাম্পের ইলেকশনের সময় বা ক্যাম্পেইনের সময় কয়েকবার বলেছিলেন তিনি নাকি ট্রাম্পকে অনেকবার ফেল আউট করেছিলেন।

সৌদি আরবে যে অভিযান শুরু হয়েছে সেই অভিযানটা কি অব্যাহত থাকবে? আর এই জন্য রাজপরিবারে একটি ঐক্য থাকা খুবই দরকার কিন্তু সে ঐক্যটা কতটুকু আছে?

এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  ঐক্য দরকার আছে, আর এই ঐক্যের জন্যই এসব করা হচ্ছে। কারণ যারা যারা বিরোধ করতে পারে তাদেরকেই ধরা হচ্ছে। আর ২৪ ঘণ্টা আগে একটা করাপশন কমিশন বানানো হলো। তার মাঝেখানে কোন ট্রান্সপারেনসি নেই তিনি এতোগুলো লোককে ধরে ফেলেছে। তিনি যা কিছু করছে সবকিছু কিন্তু গোপনেই করছে কারণ এ বিষয়ে কেউ কিছু জানে না। কাল সকালে যে কী হবে সেটাও কেউ জানে না।

সৌদি আরবে যে রদবদল হচ্ছে সেটাতে সেখানকার সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে?

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ নিয়াজ আহমেদ বলেন, ওখানকার সাধারণ মানুষ তো ভয়ে কিছু বলেনা। আর তারা তাদের মতামত কোন সময় প্রকাশ করে না। যেটা রাজা করে সেটাই তারা মেনে নেয়। কিন্তু মাঝে মাঝে তারা মনে মনে অসন্তুষ্ট থাকে।

সৌদি আরবে এখন যা কিছু ঘটছে সেটা দেশটিকে কোন দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং সেখানে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব নিজের একটা ইমেজ তৈরি করতে চাচ্ছে। কারণ তারা একটা মডার্ন দেশ। তারা জিহাদিদেরক সাপোর্ট করে না। তাদের সাথে আমেরিকার ভালো সম্পর্ক আছে এবং মুহাম্মদ বিন সালমান ইসরাইলের সাথে হাত মিলিয়েছে। এখান থেকে ইরান বাতিল হয়ে যাবে এবং টার্কি যেতে চাচ্ছিল, সেটা পারবে না। সূত্র: বিবিসি বাংলা

আনিস/

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ