প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভূপেন হাজারিকার কলকাতার বাড়ি সংরক্ষণ করবে অাসাম সরকার

হিরন্ময় ভট্টাচার্য, গুয়াহাটি : ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি, ছুটে ছুটে আয়, মরণ ভুলে গিয়ে, ছুটে ছুটে আয়,’— ভূপেন হাজারিকার কণ্ঠে অমর হয়ে-যাওয়া এই গান আজ যেন সমার্থক হয়ে গেছে কলকাতায় তাঁর স্মৃতিধন্য বাসস্থানকে ঘিরে। টালিগঞ্জে ৭৭বি গলফ ক্লাব রোডে তিন তলায় তিনটি ঘর ও একটি বড় ডাইনিং হল নিয়ে তাঁর একসময়ের ফ্ল্যাটটি এখন কার্যত ভগ্নদশায়। ফ্ল্যাটটি অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।

এই বাড়িটি এবার নতুন করে ‘‌জীবন’ পাবে। রবিবার তার তিরোধান দিবসে এটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নিল অাসাম সরকার। এতে খুশি প্রতিবেশী, গুণমুগ্ধরা।

দেওয়ালে চুনের পুরনো ছাপ, জানলা-দরজার অনেক কিছুই ভাঙাচোরা। বাইরে থেকে তালাবন্ধ। সাবেকি ধাঁচের লোহার জালের আড়ালে ঝুলছে বড় বারান্দা। কারনিসে গজিয়েছে গাছ। কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকা, ১৯৫০ সাল থেকে মুম্বই যাওয়ার আগে পর্যন্ত কলকাতায় ওই বাড়িতেই থাকতেন।

এখানকার প্রতিবেশীদের কাছে এখনও তিনি ভূপেন্দ্র সঙ্গীত ঘরানার স্রষ্টা, আসমুদ্রহিমাচল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়া সঙ্গীতশিল্পী নন। তিনি তাঁদের প্রিয় ‘‌ভূপেনদা’। যেন তেন প্রকারেণ তাঁর স্মৃতি বেঁচে থাকুক এই বাড়িতে, এমনটাই চান তাঁরা। জন্মসূত্রে অাসামের হলেও জীবনের দীর্ঘ সময় কলকাতায় কেটেছে তাঁর। শোনা যায়, লতা মঙ্গেশকর কলকাতায় এসে ভূপেন হাজারিকার এই বাড়িতে থেকেছেন। এবং সে সময় কলকাতায় ‘রঙ্গিলা বাঁশিতে কে ডাকে’ গানটি রেকর্ড করেছিলেন লতা। এর পর গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। এখন ওই বাড়ির নিচের তলায় দুটি ফ্ল্যাটে থাকে পৃথক দুটি পরিবার। বাকি সব ফ্ল্যাটের মালিকানাও ভিন্ন ব্যক্তির। এই বাড়ি সংরক্ষণের খবরে খুশি হলেও ৭টি ফ্ল্যাট নিয়ে তৈরি ওই বাড়িতে তাঁর বাসস্থান ঠিক কীভাবে সংরক্ষিত হবে, তা নিয়ে কৌতূহলও রয়েছে।

ওই বাড়ির নিচের তলায় একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা প্রবীণ হিরণ্ময় চৌধুরি বলেন, ‘‌ভূপেনদার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভাল ছিল। এই ফ্ল্যাটে শাবানা আজমি, অপর্ণা সেন-সহ অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী, সঙ্গীতশিল্পীকে আসতে দেখেছি। তিনি মুম্বাই চলে গেলেন, তার পর আর এলেন না। পরে এই ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে দেওয়া হল।
প্রতিবেশী ভোলা দাস, মহেশ চৌধুরিরা জানালেন, কল্পনা লাজমিকে এখানে থাকতে দেখেছি। লতা মঙ্গেশকর-সহ অনেক শিল্পীকেই আসতে দেখেছি। তিনি চলে যাওয়ার পর মাঝে–মাঝে ওঁর আত্মীয়রা আসতেন।

ওই বাড়ির নিচের আরেকটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা দীপিকা মিত্র জানান, সম্প্রতি ভূপেন হাজারিকার জন্মদিনের অনুষ্ঠান হয়েছে ওই বাড়ির নিচে। সেখানে তাঁদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অাসামের অনেকেই ছিলেন।। স্থানীয় এক প্রবীণ স্মৃতি হাতড়ে বললেন, সম্ভবত প্রথমে ওই ফ্ল্যাটটির মালিক ছিলেন মনোরমা চৌধুরি নামে এক মহিলা। তাঁর কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি কেনেন তাঁদের প্রিয় ভূপেনদা। পরে সেটি সুশীলকুমার ডাঙ্গেকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর অর্চনা সেনগুপ্তর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, স্বনামধন্য এই শিল্পীর বাড়ি সংরক্ষণ হবে, এটা ভাল কথা। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শিল্পীদের জন্য অনেক কিছু করছেন। এখন এ বিষয়ে অাসাম সরকার, আমাদের রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না, সে বিষয়ে আমি ঠিক জানি না। তাই পুরো বিষয় না জেনে আমার পক্ষে কিছু বলা ঠিক হবে না।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ওই ফ্ল্যাটটির বর্তমান মালিক সুশীলকুমার ডাঙ্গের কাছে বাসস্থানটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন অাসামের সংস্কৃতিমন্ত্রী নবকুমার দোলে। গত বুধবার কলকাতায় এসে বাড়িটি পরিদর্শন করে গেছে অাসামের এক প্রতিনিধিদল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত