প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্নীতির কুফল

মুস্তাকিম আল মুনতাজ : বর্তমান সময়ে দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। যার ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সব’চে বেশী দুর্নীতি হচ্ছে। আজ প্রকাশ্যে ঘুষ দিতে হচ্ছে ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণকে। শুধু তাই নয়, দেশের অসংখ্যা মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী তাদের ঘাম ঝরানো সার্টিফিকেট ঘরে পুষে রাখছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে মিথ্যা সনদে নানান স্থানে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ লোকবল। আর তারাও ঘুষের টাকা দ্রুত কামাই করতে গিয়ে মরিয়া হয়ে উঠে। যার প্রভাব সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পড়ছে। অথচ ইসলামী শরিয়তে দুর্নীতি করা হারাম। কেননা ইসলাম সর্বদা নীতি নৈতিকতা ও স্বচ্ছলতায় বিশ্বাসী। তাই দুর্নীতি এখানে হারাম। কারণ এর সাথে জুড়ে আছে হুক্কুল ইবাদত। আর এজন্যই দুর্নীতির ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আর এই দুর্নীতি সম্পর্কে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন- তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কর্তৃপক্ষের হাতেও তুলে দিওনা। (সূরা-বাকারা-১৮৮)

দুর্নীতির কুফল: ১.দুর্নীতি করা কবীরা গোনাগ। যার জন্য দুর্নীতিকারীকে আখেরাতে প্রচন্ড শাস্তি প্রদান করা হবে। এমন কি কেয়ামতের দিন সে তার আত্মসাৎ কৃত সম্পদ তাএ পিঠে নিয়ে আসবে। ২. দুর্নীতিকারীর জন্য ইহকাল ও পরকালে অপমানকর শাস্তি রয়েছে। ৩. দুর্নীতি করা নেফাকির আলামত সমূহ হতে একটি আলামত।
আর এই দুর্নীতি বিভিন্নভাবে হতে পারে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি: অর্থাৎ- যে কোন কাজে যোগ্য লোককে নিয়োগ না দিয়ে অযোগ্য লোককে নিজের আত্মীয় হওয়ার কারণে নিয়োগ দেওয়া। আর এমন কাজের ব্যাপারে হাদীস শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন- উপযুক্ত ব্যক্তিকে রেখে যদি কেউ তার আত্মীয়-স্বজন থেকে অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে কোন কাজে নিয়োগ দেয়। তাহলে সে যেন আল্লাহ ও তার রাসূলুল্লাহ (স.) এবং মুমিনদের সাথে ধোঁকাবাজি করলো। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (স.) আরো বলেন- যখন অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তখন তোমরা কেয়ামতের অপেক্ষা করো। (বুখারী শরীফ)

ঘুষ গ্রহণ : অবৈধ পন্থায় কোন কাজ করে দেওয়ার জন্য ঘুষ প্রদান করা। যাতে করে উক্ত ব্যক্তির মাধ্যমে ঘুষ প্রদানকারী ব্যক্তির কাজ হাসিল হয়ে যায়। এবং সে এর মাধ্যমে সহজেই পায়দা হাসিল করতে পারে। আর এই দু’ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন- ঘুম গ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়ের উপর আল্লাহর লানাত। শুধু তাই নয়। ঘুষ প্রদান ও তা গ্রহণ করার পরিণাম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন- ঘুষগ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়ই জাহান্নামি। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন- প্রত্যেক জাতি যারাই ঘুষ আদান-প্রদান করে তারা ভীতিতে আক্রান্ত হয়। এ বিষয়ে হযরত সাওবান (রাঃ) বলেন- রাসূলুল্লাহ (স.) ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারী এবং উভয়ের মাঝে মধ্যস্ততাকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন। (তিরমিযি শরীফ)

দুর্নীতির কারণ : ১. আল্লাহর ভয় ও লজ্জা না থাকা অর্থাৎ, মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও লজ্জা না থাকার কারণে যে যে কোন খারাপ কাজ করতে দ্বিধা করে না। যেমন রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন- ব্যক্তির মধ্যে যদি লজ্জা না থাকে, তাহলে সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। (ইবনে মাজাহ) ২. দ্রæত ধনী হওয়ার লোভ: ব্যক্তির মধ্যে যদি দ্রæত ধনী হওয়ার লোভ থাকে, তাহলে সে দুর্নীতিগ্রন্থ হয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন- আমি সব’চে বেশী ভয় করি যে, তোমাদের জন্য দুনিয়ার বরকত সমূহ খুলে দেওয়া হবে। সাহাবিগণ জিজ্ঞাস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.) দুনিয়ার বরকত কি? রাসূলুল্লাহ বললেন- দুনিয়ার বরকত হলো প্রাচুর্যতা। (বুখারী শরীফ) ৩. লোভ ও তৃপ্তিহীনতা: যখন মানুষের মধ্যে সম্পদের অত্যধিক লোভ থাকে এবং অতৃপ্তি থাকে তাহলে সে দুর্নীতি করে সম্পদ উপার্জন করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। তখন হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করতে থাকে।

পরিত্রাণের উপায়: আর এই দুর্নীতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে কিছু বিষয়ের উপর অটল থাকতে হবে। তাহলে আমরা দুর্নীতি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি। যেমন, ১. অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করা। ২. অল্পে তুষ্টি হওয়া। ৩. লোভ লালসা থেকে বিরত থাকা। ৪. নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা। ৫. ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত