প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অপচয় রোধে ইসলাম

হুমায়ুন আইয়ুব : প্রয়োজন অতিরিক্ত খরচ বা ব্যায় করাকেই অপচয় বলে। অপচয় করা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। আল্লাহ তায়ালা অপচয় করতে নিষেধ করেছেন। অপচয় ছাড়া পানাহার বা স্বাচ্ছন্দে জীবন-যাপন করতে কোন অপরাধ নেই। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালবাসেন না’ (সুরা আল আ’রাফ : ৩১)।

যারা অপচয় করে না তাদের প্রশংসা করা হয়েছে পবিত্র গ্রন্থে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অযথা ব্যয় করে না। আর কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা এতদুভয়ের মধ্যবর্তী’ (সুরা আল ফুরকান : ৬৭)। আমাদের মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে চলতে হবে। সর্বদা অপচয় কে বর্জন করতে হবে। আর অপচয় বর্জন করা হবে ঈমানদার আর প্রকৃত মুসলমানের কাজ। অপচয় করা মুসলমানের কাম্য নয়। তাই সর্বক্ষেত্রে অপচয়কে বিসর্জন দিতে হবে। অপচয়কে রোধ করে সমাজ জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনও সম্ভব। অপচয় না করার জন্য নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপচয়কারী শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ’ (সুরা আল ইসরা : ২৬, ২৭)।

খলিফাতুল মুসলীমিন হজরত উমর (রা.) বলেন, ‘বেশি পানাহার থেকে বেঁেচ থাক। কারণ, অধিক পানাহার দেহকে, শরীরকে নষ্ঠ করে দেয়। রোগের জন্ম দেয় এবং কাজে অলসতা সৃষ্টি করে। পানাহারের ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর। এটা দৈহিক সুস্থতার পক্ষে উপকারি এবং অপব্যয় থেকে দূরবর্তী’ (রুহুল মা’য়ানী)। আমাদের সমাজের লোকজন অপচয়ে কোন অংশে কম নয়। খানা-পিনা, সাজ-সজ্জা, বিয়ে-শাদী, ওয়াজ-মাহফিল সর্বত্রই অপচয় হচ্ছে। বিয়ে করতে আমরা হেলিকপ্টারে চড়ে যেতে দ্বিধাবোধ করি না। কেনাকাটায় আমরা কোন অংশে কম করি না। অথচ আমাদের প্রতিবেশীরা অনাহারে অর্ধাহারে দিন-রাত অতিবাহিত করছে। কাপড় বিহীন বা ছেড়াঁ কাপড় পরে জীবন-যাপন করে অতিষ্ট। এতে আমাদের কোনো ভ্রæক্ষেপও নেই। অপচয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত সম্পদ, জাতীয় সম্পদসহ অনেক কিছুই নষ্ট করে যাচ্ছি। যা কখনো কারো কাম্য নয়। যেভাবে সম্পদকে নষ্ট করছি তেমনিভাবে পাপকে গ্রহণ করছি সাদরে। তা কি আমরা উপলদ্ধি করছি? আমরা যদি আমাদের চাহিদা মিটিয়ে মিতব্যয়ী হতে চেষ্ঠা করি তাহলে আমাদের সমাজে শয়তানের ভাইদের সংখ্যা শুন্যের কোঠায় চলে আসবে। সমাজ হবে অপচয়বিহীন এক আদর্শ সমাজ।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ