প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিপিএলে ‘আমরা-আমরাই’

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের এবারের আসরের প্রথম পর্বটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে সিলেটে। সবুজের কোলে তৈরি দৃষ্টিনন্দন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে মাঠের লড়াই। তবে এর আগে টিকিট নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম ঘটে গেছে। যথাযথ নিয়ম মেনেও সাধারণ ক্রীড়ামোদীরা বিপিএলের
টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। অভিযোগের অঙ্গুলি উঠেছে বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার রাজনীতিসংশ্লিষ্ট নেতাদের দিকেই। সাধারণের কাছে বিক্রির টিকিটগুলো তারা নিজেরা নিজেরাই ভাগাভাগি করে বিক্রির জন্য তুলে দিয়েছেন তাদের অনুসারী ও সমর্থকদের মাঝে।
তাদের প্রশ্রয়ে বিপিএলের টিকিট নিয়ে কালোবাজারে জমজমাট ব্যবসা হয়। সাধারণের মতো টিকিট নিয়ে ক্ষোভ আছে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের মাঝেও।
ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা টিকিট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন- এমন অভিযোগ থাকলেও টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ ঝড়েছে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের মাঝেও। মূলত ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ যারা ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের হাতেই নিয়ন্ত্রণ ছিল টিকিটের পুরো বিষয়টি। অভিযোগ, ব্যবসার খাতিরে তারা নিজেদের দলকেও ছাড় দেননি। নিজস্ব বলয়ের অনুসারী ছাড়া আর কাউকে টিকিটের ভাগ দেননি। বিপিএল শুরুর আগের দিনে সিলেট জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জেলহত্যা দিবসের আলোচনায়ও বিষয়টি উত্তাপ ছড়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে। খেলা দেখার সুযোগ থেকে নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হওয়ায় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে বিপিএল বর্জনের ঘোষণাও দেন। একই রকম ঘোষণা দেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানও।
টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ পত্রপত্রিকার পাতায় শিরোনাম হয়েছে। শুরুতে টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছিল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল)। কিন্তু টিকিট বিক্রির শুরুর দিনে হঠাৎ করেই জানানো হয় ব্যাংক থেকে টিকিট বিক্রি হবে না, টিকিট নিতে হলে লাইনে দাঁড়াতে হবে জেলা স্টেডিয়ামে। যদিও টিকিটের গায়ে ইউসিবিএলের নামই লিখা রয়েছে। টিকিটের জন্য রাত থেকেই স্টেডিয়ামে লাইনে দাঁড়ান ক্রীড়াপ্রেমীরা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ১৮ হাজার হলেও প্রতিদিনের হাজার দুয়েক টিকিট বিক্রির পর টিকিট বুথ বন্ধ করে দেয়া হয়। অভিযোগ, সাধারণের কাছে বিক্রির জন্য নির্ধারিত টিকিটগুলো ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট নেতারা তাদের কর্মী-অনুসারীদের বুঝিয়ে দেন। সেই টিকিটগুলোই কালোবাজারে কয়েকগুণ দামে বিক্রি হয়েছে। এমনকি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পাওয়া না গেলেও ম্যাচের দিনও স্টেডিয়ামের আশপাশেও টিকিট বিক্রি হয়েছে আকাশছোঁয়া দামে।
বিপিএল টিকিট বিলির ক্ষেত্রে চরম অসৌজন্যতারও পরিচয় মিলেছে। নিজেদের মাঠে খেলা হওয়ায় সিলেট নগরজুড়ে বিপিএল উন্মাদনা ছড়ালেও বিপিএল আয়োজকরা ভুলেই গেছেন নগর নিয়ন্তাদের। আয়োজকরা কোনো আয়োজনেই সম্পৃক্ত রাখেননি নগর কর্তৃপক্ষকে। একেবারে শেষ মুহূর্তে হঠাৎ মনে পড়ে নগরপিতার কথা। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে খেলা শুরুর আগেরদিন মধ্যরাতে ৩টি সৌজন্য টিকিট দেয়া হয়। এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন, কেন মূল অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে রাখা হলো না সিলেটের মেয়রকে। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক মনে করছেন, এর মাধ্যমে শুধু তাকেই নয় পুরো সিলেট নগরবাসীকেই অসম্মান করেছেন আয়োজকরা। তাই তিনি বয়কট করেন বিপিএলের আয়োজনকে। তবে ক্রীড়ামোদী দর্শকদের কথা ভেবে তার পক্ষ থেকে বিপিএল আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানান তিনি। মেয়রের ভাগ্য ভালোই বলতে হবে তিনি না হয় তিনটি টিকিট পেয়েছেন। কিন্তু সিটি কাউন্সিলরদের ভাগ্যে কোনো টিকিটই জুটেনি। সৌজন্য টিকিট পাননি সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরোসহ বিশিষ্টজনদের অনেকেই। তারা হয়তো এ নিয়ে কথা বলেননি কিন্তু এতে যে বিপিএল আয়োজনের সৌন্দর্যহানি হয়েছে তা মানতেই হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত