প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেমন আছেন এরশাদ

তারেক : হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রাজনীতির এক বহুল আলোচিত কুশীলব। পতনের এই এতো বছর পরেও সাবেক এই স্বৈরশাসক নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছেন। এখনো তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। তার দল সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে। সদ্যই সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কেমন আছেন? তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে। প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় এরশাদের দেখা পেতে ভিড় করছেন নেতাকর্মীরা। বেশিরভাগই দেখা পাচ্ছেন না। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অবশ্য সাক্ষাৎ দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন তিনি।গত ২৬শে সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে
পড়লে এরশাদকে ভর্তি করা হয় রংপুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। ১৮ই অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। ৩০শে অক্টোবর তিনি দেশে ফিরেন। একসময়কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাসক এরশাদকে নিয়ে গত দুই যুগে টানাটানিও হয়েছে অনেক। দীর্ঘ সময় কারাভোগ করলেও এক পর্যায়ে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলই তাকে কাছে টানার প্রতিযোগিতায় নামে। নানা নাটকীয়তার আশ্রয় নেন তিনিও। যদিও তার ভাষায়, এই সময়ে কখনো তিনি স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারেননি। এটা সত্য, এরশাদ সবসময়ই একধরনের নজরদারির মধ্যে থেকে রাজনীতি করেছেন। বিএনপি জোটে যাই যাই করে হঠাৎই পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমি মুক্ত। আবার ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়ার পর হাসপাতালে ঠাঁই হয় তার। পরে অবশ্য নির্বাচন না করেও এমপি নির্বাচিত হন।
প্রায় ৯০ বছর বয়স্ক এরশাদ এখনো এক ধরনের পর্যবেক্ষণের মধ্যে আছেন। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। তার একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে এরশাদের হার্টে ভাল্ব রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে। এটি খুবই ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এর মাধ্যমে তার রক্তের সার্কুলেশন স্বাভাবিক থাকবে। সর্বশেষ মেডিকেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অপারেশনটি করা হয়েছে। কোনো রকম কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই অপারেশনটি হয়েছে। বিশ্বে এই পর্যন্ত প্রায় দুইশ’ রোগীর এই অপারেশনটি হয়েছে। এই ধরনের অপারেশনে সাধারণত খরচ পড়ে কোটি টাকার উপরে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দু’তিন মাস পুরো বিশ্রামে থাকতে হবে। এরশাদের ব্লাড প্রেসার ভালো, ডায়াবেটিস নেই এবং অন্যান্য সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও এই চিকিৎসক উল্লেখ করেন। তবে তিনি এও জানান, এরশাদের বয়স খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বয়সে সাধারণত কারো ভাল্ব রিপ্লেসমেন্ট হয় না। এমনিতে এরশাদের শরীর খুব ফিট। ভবিষ্যতে তিনি কতটা সক্রিয় থাকতে পারেন সেদিকে চিকিৎসকরা খেয়াল রাখবেন।
এদিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর তার কাছের আত্মীয়স্বজন ছাড়া কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না এরশাদ। এরশাদের বাসার অভ্যর্থনাকারী আনিস জানান, স্যার তার আত্মীয়স্বজন ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে এই মুহূর্তে দেখা-সাক্ষাৎ করছেন না। মাঝে মধ্যে দলের মহাসচিব আসলে শুধু তিনিই স্যার-এর সঙ্গে দেখা করেন। ডাক্তারের নির্দেশ রয়েছে। স্যার ভালো হলে আপনাদের সঙ্গে কথা বলবেন।
ভোট এখনো এক বছরের বেশি দূর। তবুও রাজনীতিতে একধরনের ভোটের হাওয়া বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ এরইমধ্যে পুরোদমে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটির প্রার্থীদের নিয়ে হয়েছে একাধিক জরিপ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও রাজনীতির মাঠে ফিরেছেন। তার কক্সবাজার সফর ঘিরে বিপুল শোডাউন করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর রেশ এখনো রয়ে গেছে। ভোট যত ঘনিয়ে আসবে জোট রাজনীতির সমীকরণও ততো জমে উঠবে। এ খেলায় এবার এরশাদের ভূমিকা কতটা থাকবে, কোন্‌দিকে থাকবে তা নিয়ে রাজনীতিতে কৌতূহল সহজে মিটবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ