প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যথেষ্ট তথ্য না থাকলে এ ধরনের ওয়ার্নিং ইস্যু করে না

ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন : বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার যে বড় হুমকি রয়েছে এ ব্যাপারে ইতোপূর্বেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আরব ওয়েষ্টার্ন দেশগুলো ইস্যু করেছিল। এটার একটা মুখ্য বিষয় হচ্ছে, রাষ্ট্র জনবিচ্ছন্ন হয়ে সিটকে পরলে যা হয়, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে পরিচালিত না হয়ে, পুলিশের মাধ্যমে পুলিশি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা হয়, সেখানে নিরাপত্তাহীনতা সবসময় হয়। যেসব রাষ্ট্র সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয় এবং জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে পরিচালিত হয়, তখন সেখানে জনগণই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। আমরা রাস্তা-ঘাটে চলাচলের সময় দেখতে পাই যে, শুধু প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিই নয়, সামান্য হোমরা-ছোমরাও রাস্তা-ঘাটে এমনভাবে চলে, গাড়িতে এমন বিকট শব্দ করে চলে, যেন মনে হয়, তারা এক শত্রু রাষ্ট্রে চলাচল করছে। মনে হয় যেন কলোনিয়াল শাসক এ দেশের রাস্তা-ঘাটে চলাচল করছে। আসলে আমাদের দেশের এখন এমপি-মন্ত্রীর পদটা এমন হয়ে গেছে, যেন চুরি করা লাইসেন্স। অবৈধভাবে টাকা বানাবার লাইসেন্স। আর এ ঘটনা ঘটাতে গিয়ে তারা সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এবং সেখানে নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আর যেখানে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়, সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠী যেমন, আইএস বা অন্যান্য অপরাধী গোষ্ঠী আস্থা রাখতে পারে এবং যে যার পলিসি মত টার্গেট পূরণ করতে পারে। তারা আস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের আবার সতর্ক করেছেন যে, আবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের টার্গেট করতে পারে। এ ধরনের আশঙ্কা বাংলাদেশের সবসময় আছে এবং সবসময় থাকবে। যতদিন পর্যন্ত এ দেশে জনভিত্তির উপর সরকার পরিচালিত না হবে। দেশের অবস্থা যে সত্যিকার অর্থে কতটা খারাপ, সেটা রাস্তা-ঘাটে বের হলেই দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এতটাই ভেঙে পরেছে যে, গত দুই দিনে ডবল জোড়া খুন হয়েছে। কেউ আইন মানছে না। সামান্য রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে উপরস্ত কেউ আইন মানছে না। একটা দেশ যদি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, তা হলে কেন এ পরিস্থিতি হবে? অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ যখন এরকম একটা ওয়ার্নিং ইস্যু করে, তার মানে তাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য না থাকলে তারা তাদের নাগরিকদের উপর এ ধরনের ওয়ার্নিং ইস্যু করে না। এ ব্যাপারে পুলিশের তৎপরতা প্রসঙ্গে বলতে হলে, পুলিশ যে এতটা কাজ করছে তা আইন অনুযায়ী যতটা না হচ্ছে তার থেকে বেশি নির্দেশিত হয়ে। রাষ্ট্র পুলিশ সৃষ্টি করেছিল আইন অনুযায়ী জনগণের পক্ষে কাজ করার জন্য। কিন্তু আমরা এখানে অনেক কিছুই দেখি যে, এই পুলিশ নির্দেশিত হয়ে কাজ করে, মিথ্যা মামলা করে, হাজার হাজার লোককে আসামি করে, প্রকৃত আসামিদের ছেড়ে দেয়। তখন সন্ত্রাসীরা আরও বেশি উৎসাহিত বোধ করে এবং তাদের অপরাধ কর্মকা- আরও বেশি চালিয়ে যেতে থাকে। অথচ এই পুলিশই যখন বিদেশে যায়, তখন কত সুন্দর ডিউটি করে। অর্থাৎ আমাদের পলিটিক্যাল কালচারটা এমন জায়গায় ছড়িয়ে গেছে যে, প্রথমত; তাদের জবাবদিহিতার অভাব, দ্বিতীয়ত; তাদেরকে রাজনৈতিক ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের মানুষ পুলিশের কাছ থেকে কতটা সেবা পাচ্ছে তা আমরা হারে হারে টের পাচ্ছি।

পরিচিতি : সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট
মতামত গ্রহণ : মোহাম্মদ মহাসিন
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত