প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেই মতিনকে দলে ফেরানোর তোড়জোড়!

ডেস্ক রিপোর্ট : মতিন সরকারবগুড়ায় ‘মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা মতিন সরকারকে আবারও দলে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু করেছে আওয়ামী লীগের একাংশ বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যা মামলার এই আসামি গতকাল শুক্রবার জেল হত্যাদিবসের অনুষ্ঠানে দলবল নিয়ে উপস্থিত হওয়ায় এ ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। তবে তাকে দলে টানার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু।

মতিন সরকার এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও মাসহ তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার আলোচিত মামলার প্রধান আসামি তুফান সরকারের বড় ভাই। মাদ্রাসা ছাত্র উজ্জ্বল হত্যা মামলায় ১ নভেম্বর বুধবার জামিন পেয়ে শুক্রবার জেলহত্যা দিবসের অনুষ্ঠানে দলবল নিয়ে উপস্থিত হয় সে। তবে নানা বিতর্কিত কাজের কারণে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার হওয়ায় ওই অনুষ্ঠানে তাকে উপস্থিত হতে দেখে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। একপক্ষ তাকে দলে আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ তোলেন কেউ কেউ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, মতিন সরকার তার পুরনো শক্তি ফিরে পেতে শাসক দলে ঢোকার চেষ্টা করছে। কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পরপরই জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতার কাছে গিয়ে ফুল দিয়ে দোয়া চায় মতিন।
তারা আরও জানান, গত ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবসের কর্মসূচিতে মতিন সরকার তার দলবল নিয়ে অংশ নেয়। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ও করে। এতে তার রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছার বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে, শিগগিরই তাকে শহর আওয়ামী লীগে যোগদান করানো হবে। এদিকে, এ খবরে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা মতিন সরকার ও তুফান সরকারের কারণে সরকার ও সংগঠনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাকে আবারও সংগঠনে নিলে সংগঠনের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ন হবে।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনুর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, মতিন সরকার নামে কাউকে চেনেন না। জেল হত্যা দিবসের অনুষ্ঠানে মতিন ছিলেন কী না সে সম্পর্কেও তার জানা নেই।
এ প্রসঙ্গে মতিন সরকার বা তার ঘনিষ্ঠ কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১৭ জুলাই মাসে এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও ২৮ জুলাই মাসহ তাকে নির্যাতন এবং মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে পুলিশ তুফান সরকার ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে থানায় একাধিক মামলা হয়। এর রেশ ধরে তুফান সরকারকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর রেশ ধরে তুফান ও তার ভাই মতিন সরকারের বিভিন্ন অপকর্মের খবর ধারাবাহিকভাবে গণমাধ্যমে উঠে আসে। চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তাদের বিত্তশালী হওয়া এবং দলীয়ভাবে সুবিধা নেওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মতিন সরকারকে সংগঠন থেকেই বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। এরপর আত্মগোপনে যায় মতিন।
দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত মতিন অস্ত্র চোরাচালানের মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যদিও উচ্চ আদালতের নির্দেশে সে রায় এখন স্থগিত হয়ে আছে। এছাড়াও ২০০১ সালে শহরের চকসূত্রাপুরে মাদ্রাসা ছাত্র উজ্জ্বলকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মতিনের বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়। গ্রেফতারের পর জামিন নিয়ে আর আদালতে হাজির হয়নি মতিন। আদালত ও পুলিশের খাতায় মতিন আট বছর পলাতক থাকলেও প্রকাশ্যে দলীয় মন্ত্রী, নেতাকর্মী, ডিসি,এসপির সঙ্গে প্রকাশ্যে বৈঠক ও চলাফেরা করে। আদালত থেকে সরকারি টাকা খরচ করে তার জন্য গত পাঁচ বছর স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়েছিল। পত্রিকায় এ নিয়ে লেখালেখি হলে পুলিশ তৎপর হয়। নতুন করে তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে মতিন গা ঢাকা দেয়। প্রায় দেড় মাস পলাতক থাকার পর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সহযোগিতায় পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে। আওয়ামী লীগ নেতা আইনজীবীরা আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। এক মাসের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর গত ১ নভেম্বর মতিন সরকার জামিন পেয়েছে।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের কর্মকর্তারা মতিন সরকার ও তুফান সরকারের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, মতিন সরকার তার পুরনো শক্তি ফিরে পেতে শাসক দলে ঢোকার চেষ্টা করছেন। কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পরপরই জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতার কাছে গিয়ে ফুল দিয়ে দোয়া চায় মতিন।
তারা আরও জানান, গত ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবসের কর্মসূচিতে মতিন সরকার তার দলবল নিয়ে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সাথে কুশল বিনিময়ও করেন। এতে তার রাজনীতিতে ফেরার বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে, শিগগিরই তাকে শহর আওয়ামী লীগে যোগদান করানো হবে। এ খবরে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা মতিন সরকার ও তুফান সরকারের কারণে সরকার ও সংগঠনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাকে আবারও সংগঠনে নিলে সংগঠনের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ন হবে।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনুর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, মতিন সরকার নামে কাউকে চেনেন না। জেল হত্যা দিবসের অনুষ্ঠানে মতিন ছিলেন কী না সে সম্পর্কেও তার জানা নেই।
এ প্রসঙ্গে মতিন সরকার বা তার ঘনিষ্ঠ কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ