প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা সঙ্কটকেই প্রাধান্য দেবে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা-ওয়াশিংটন ষষ্ঠ অংশীদারি সংলাপের মূলপর্ব শুরু হচ্ছে আজ রবিবার। এই সংলাপে রোহিঙ্গা সঙ্কটকেই বিশেষ প্রাধান্য দেবে বাংলাদেশ। এছাড়া উভয় পক্ষের মধ্যে এই সংলাপে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও বাণিজ্য প্রসার নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। সংলাপে যোগ দিতে রবিবার ভোরে ঢাকায় আসছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি থমাস এ শ্যানন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুমাত্রিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষে পহেলা নবেম্বর থেকে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী ষষ্ঠ ‘অংশীদারি সংলাপ’ শুরু হয়। পহেলা নবেম্বর দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে সংলাপ শুরু হলেও শেষ হবে আজ ৫ নবেম্বর। সে অনুযায়ী মাঝখানে তিনদিন বিরতি দিয়ে ৫ নবেম্বর উভয় পক্ষের মধ্যে মূলপর্ব শুরু হচ্ছে। ষষ্ঠ অংশীদারি সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি থমাস এ শ্যানন। সংলাপ শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করা হবে।

প্রতি বছর ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে সমসাময়িক বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। তবে রোহিঙ্গা সঙ্কটকে এখন জাতীয় সমস্যা মনে করছে বাংলাদেশ। সে কারণে এবারের অংশীদারি সংলাপে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হবে। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ঢাকায় ষষ্ঠ অংশীদারি সংলাপের জন্য পহেলা নবেম্বর নির্ধারণ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও বাণিজ্য, বিদ্যুত ও জ্বালানি, শ্রম ও জনশক্তি, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই সংলাপে অংশ নেবেন। এবারের সংলাপে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বিশেষ আলোচনা হবে।

নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী তৈরি পোশাক রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া নিয়েও আলোচনা হবে।

উন্নয়ন ও সুশাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিশদ দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয়াদি আরও বিস্তৃত পরিসরে এবং গভীরভাবে আলোচনার জন্য অংশীদারিত্ব সংলাপটি সর্বোচ্চ ফোরাম। বাংলাদেশ সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাত করবেন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি থমাস এ শ্যানন। এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাত করতে পারেন।

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৫ম অংশীদারি সংলাপ গত বছর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। তার আগে ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথম সংলাপ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ঢাকা সফরে অংশীদারি সংলাপের বিষয়ে এক চুক্তি সই হয়। তারপর থেকে প্রতি বছর একবার ঢাকা পরের বার ওয়াশিংটনে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ