প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অপরহণের দুই বছর পর কিশোরী উদ্ধার

সুজন কৈরী : দুই বছর আগে রংপুর থেকে অপহৃত হওয়া কিশোরী শামীমা আক্তার হিমুকে (১৪) রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় পুলিশ অপহরণকারী মাহিনকে গ্রেফতার করেছে। গত শুক্রবার সকালে মধ্য বাড্ডার হল্যান্ড সেন্টারের সামনে থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে দেয়া হয়েছে।

পিবিআই’র ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর রংপুরের শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকা থেকে মাহিন তার সহযোগীদের নিয়ে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে। হিমু রংপুরের আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। মাহিন দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের যাতায়াতের পথে হিমুকে উত্যক্ত করতো। বিষয়টি জানতে পেরে হিমুর পরিবার এর প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হিমুকে অপহরণ করে মাহিন। ওই ঘটনায় অপহৃত কিশোরীর মা হাসি আক্তার বাদী হয়ে ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর রংপুরের কোতয়ালি থানায় মাহিনসহ কয়েকজনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা (নম্বর ২২) করেন। পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধারসহ ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে কিশোরীকে উদ্ধার ও অপহরণের ঘটনায় জড়িত মূল আসামি মাহিনকে পলাতক দেখিয়ে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত পলাতক আসামি মাহিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ তার ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা ইস্যু করেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। এরপর পুলিশ পলাতক আসামি মাহিন অপহৃত হিমুসহ রাজধানীতে আত্মগোপন করে আছে জানতে পেরে পিবিআই ঢাকা মেট্রো যোগাযোগ করে। এরপর পিবিআই’র ঢাকা মেট্রোর পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম মধ্য বাড্ডার হল্যান্ড সেন্টারের সামনে থেকে মাহিনকে গ্রেফতার করাসহ হিমুকে উদ্ধার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদদে মাহিন জানিয়েছে, অপহরণের পর প্রথমে কিশোরীকে গাজীপুরের জয়দেবপুরে আটকে রাখে। পরে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কিশোরীকে নিয়ে বসবাস করে। কিশোরীসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দিয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত করে রাখে মাহিন। এ কারণে পরিবার ও নিজের জীবন রক্ষার্থে আসামীর কথামতো চলতে বাধ্য হয় কিশোরী। পরে মাহিন তার বাবার ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিয়ে বিভিন্ন সিমকার্ড কিনে ব্যবহার করতো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ