প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা শিশুদের অপুষ্টির হার অনুমানের চেয়ে দ্বিগুণ: ইউনিসেফ

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া: জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা পরিবারের শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার ভাবনার তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। ইউনিসেফের এক জরিপে দেখা গেছে, কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে ৪ শতাধিক পরিবারের রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ শিশু গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে। সূত্র- বিবিসি বাংলা

ইউনিসেফের কর্মকর্তা শাকিল ফয়জুল্লাহ রোহিঙ্গা শিশুদের অপুষ্টির মাত্রা কতটা গুরুতর, সে প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অপুষ্টির ক্ষেত্রে আমরা দুই ধরনের অপুষ্টি লক্ষ্য করি। একটি হচ্ছে চরম অপুষ্টি এবং আর একটি মধ্যমবর্তী ধরনের অপুষ্টি। যেকোন শিশু যদি চরম অপুষ্টির শিকার হয় তাহলে সুস্থ্য-স্বাভাবিক শিশুর তুলনায় তার মৃত্যুর হার প্রায় ৯ গুণ বেড়ে যায়। অন্যদিকে মধ্যমবর্তী পর্যায়ের যে শিশুরা অপুষ্টির শিকার হয় তাদের মৃত্যুর হার ৩ গুণ বেশি থাকে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানির অপর্যাপ্ততার কারণে মূলত তারা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। তাছাড়া কিছুদিন আগে রোহিঙ্গ শিশুদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া ও হামের প্রকোপ।

সরকারের খাবারের সহায়তা ঠিক সময় তাদের কাছে না পৌছানোর কারণে তারা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে কি?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতার থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা রাখাইনে থাকাকালীন সময়েইঅপুষ্টির শিকার হয়েছিলো। এছাড়া মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসার সময় তাদের গড়ে ৬ থেকে ২০ দিন পায়ে হেঁটে আসতে হয়েছে। তখন তারা কোন খাবার পায়নি। ফলে যারা আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিলো তারা খাবার না পাওয়ায় অপুষ্টির মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এজন্য এখানে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিটা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

যেসব রোহিঙ্গা শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে তাদেরকে নিয়ে সরকার ও স্থানীয়দের সচেতনতা কতটুকু?

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেসব শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে তাদের বিষয়ে সবাই অনেক সচেতন। এজন্য তাদের করণীয় কী কী তা জানার জন্য ৬০ হাজার শিশুর ওপর জরিপ করে দেখা গেছে, ২ হজার শিশু চরম অপুষ্টির শিকার আর ৭ হাজার মধ্যবর্তী অপুষ্টির শিকার এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এই সমীক্ষা করা হয়েছে।

কী ধরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তাদের জন্য নেওয়া দরকার?

জবাবে শাকিল ফয়জুল্লাহ বলেন, যেসব রোহিঙ্গা শিশুরা চরম অপুষ্টিতে ভুগছে তাদের অপুষ্টি দূরীকরণের জন্য দেশের বাইরে থেকে একটি খাবার নিয়ে আসা হয়েছে। যা অনেক দামি খাবার। এই খবারটি ২ সপ্তাহ বা ১৪ দিন একটি শিশুকে খেতে দিতে হবে। শিশুর খারাপ অবস্থা আরও বেশি হলে খাবারটি তিন মাস খাওয়াতে হবে। তাছাড়া বিশুদ্ধ পানি এবং পয়ঃনিষ্কাষনের ব্যবস্থাও করতে হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ