প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধন্যবাদ ওবায়দুল কাদের : এবার একটা বিহিত করুন তবে

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের কঠোর সমালোচনা করলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। স্বেচ্ছাসেবক লীগকে তিনি অভিহিত করলেন ‘সাইনবোর্ড সর্বস্ব’ সংগঠন হিসেবে। আর ছাত্রলীগকে নিয়ে বললেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সরকার খেটেখুটে যে সুনাম অর্জন করে, তা ছাত্রলীগের একদিনের অপকর্মেই ধ্বংস হয়ে যায়।
অভিনন্দন আপনাকে। দলের কা-ারী হিসেবে এই বক্তব্য দেওয়ার জন্য। আজকাল আমরা তোষণের রাজনীতিতে এত মগ্ন আসল কথা বলতে পারি না। বললেও তা এত মিনমিনে আর দায়সারা যার কেনো মানে দাঁড়ায় না। সবাই জানি দেশের রাজনীতিতে তরুণ-তরুণীদের আসলে আর আগ্রহ নেই। থাকবে কি করে? যদি আদর্শ কাজ না করে আর সামনে কোনো উদ্দেশ্য না থাকে কিভাবে তা হবে? ’৭১ এ যে মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ছাত্র সমাজ মাঠে নামত বা তার ও আগে যে রাজনীতি আমাদের উদ্দীপ্ত করত তার ছিল সঠিক নির্দেশনা। একসময় আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়া তারপর স্বাধীনতা বা মুক্তির সংগ্রাম। মাথার ওপর বঙ্গবন্ধু সাথে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল মনসুর আলী কিংবা কামরুজ্জামানের মতো নেতারা। সব দলে তখন যারা নেতা তারা সবাই আদর্শকামী। আমরা মতে একমত না হতে পারি তা বলে মওলানা ভাসানীর সততা কি অস্বীকার করা যাবে? কিভাবে আমরা ভুলব মনি সিংহ বা হাজী দানেশের কথা? সেদিনকার রাজনীতি এমনকি কয়েক যুগ আগের রাজনীতি আর আজকের বাস্তবতায় অনেক ফারাক।
আমি মনে করি সামনে যদি নির্দিষ্ট কোনো আদর্শ উদ্দেশ্য না থাকে তখন এমনই হয়। এরশাদের শাসন আমলেও ছাত্র রাজনীতি আমাদের পথ দেখিয়েছিল। টগবগে যৌবনে আমি দেখেছি আমাদের সহযাত্রী বন্ধুদের ত্যাগ। তাদের প্রেরণা আর দেশপ্রেম। ক্রমে এমন এক বাস্তবতায় ঢোকানো হলো যেখানে উপার্জন আর ধান্দা ছাড়া কিছুই বাকি থাকল না। আজ সে বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে ছাত্র রাজনীতির এই হাল। খালি ছাত্রলীগের দোষ? আমাদের আমলে রোকেয়া হলের ছাত্রীদের ওড়না কেড়ে নেওয়া থেকে যুব শক্তির ধ্বংসে যুবদল ছাত্রদলের ভূমিকা কম? আজ তারা মাঠে নেই বটে সুযোগে আবার স্বরূপে আর্বিভূত হবে। বলিহারী আমাদের তারুণ্যকে। যারা ওড়না কেড়ে নিল তাদের বিপুল ভোটে জিতিয়ে আনা ছাত্রীরা সেদিন বলেছিলন, যে মারে সে নাকি বাঁচাতেও পারে তাই এই সমর্থন। বলাবাহুল্য এই হিসেব নিকেশে ছাত্র ইউনিয়নের মতো বা বাম ধারার ছাত্র সংগঠনগুলো চিরকাল হারমোনিয়াম পার্টি নামে পরিচিত হয়ে রইল। যেদিন থেকে আমাদের এই মানসিকতা সেদিন থেকে পথ হারিয়েছিল ছাত্র রাজনীতি।
এই যে ওবায়দুল কাদের বললেন, এখানে এক বর্ণ মিথ্যা আছে? স্বেচ্ছাসেবক লীগের মানে কি? স্বেচ্ছাসেবী কি যে কেউ হতে পারে না? আওয়ামী লীগ কি স্বেচ্ছা সেবা দেয় না? তাদের আরেকটি এমন সংগঠনের প্রয়োজন কি? কাদের ভাই সঠিক বলেছেন সাইনবোর্ড সর্বস্ব। তো এখন এই সাইনবোর্ড কি ঝুলতেই থাকবে? কে নামাবে এই সাইনবোর্ড? বিনয়ের সাথে বলি সাইনবোর্ড ঝুলে মুদীর দোকানে। আওয়ামী লীগের মতো সংগঠনের এমন মুদীর দোকান দরকার আছে? কাজে না আসলে কারা এই সাইনবোর্ড দিবে, দোকান খুলছে যারা তাদের চিহ্নিত করুন। এমন নামও কিন্তু আজকের ডিজিটাল দুনিয়ায় বড় হাস্যকর। আর ছাত্রলীগ? তাদের নিয়ে এখন কিছু বলাও ভয়ের ব্যাপার। যতই ছাত্রলীগ নামধারী বলে আমরা তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করি না কেন আসলে বিশ্বজিৎ হত্যার পর সাধারণ মানুষের মনে এদের প্রতি ভালোবাসা আছে কি নেই সেটা দূরবীণ দিয়ে দেখতে হবে। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে যাবতীয় কুকীর্তি হচ্ছে আর সরকারি দল তা সহ্য করে যাচ্ছে এটা মানুষ নেয় না। এককালের ঐতিহ্যবাহি নামী সংগঠনের এই পরিণাম আমাদের মত অনেকের জন্য বেদনার।

আপনার সাথে একমত হয়ে বলি, এগুলো একদিনে হয়নি। কোথাও যখন কোনো আদর্শ নেই ছাত্রলীগ আর স্বেচ্ছাসেবক লীগে থাকবে কোন কারণে? তাই শুধু বলাতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, চাই প্রতিবিধান। আপনি যদি মনযোগ দেন এবং সরকারি দল যদি চায় তাহলে এর একটা বিহিত হোক। আর তা যদি না হয় শুনতে ভালো কথাগুলো একসময় দীর্ঘশ্বাস হয়ে ঝুলতে থাকে। যারা দেখে মন খারাপ করে তখন আঙুল চোষার বাইরে করার আর কিছুই থাকে না তাদের। তবু আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক: কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ